ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে নকল স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
ছবি: আরটিভি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিলের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সংগ্রহ করে সেগুলোর ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই পরিষ্কার করে ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি স্টিকারে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও লিখা হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিফিলকারীর স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ওপর আস্থা রেখে তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো রিফিলের জন্য দিয়ে থাকেন। এ জন্য প্রতিটি যন্ত্রের বিপরীতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও দেওয়া হয় না কোনো ভাউচার। ফলে যন্ত্রের ভেতরের রাসায়নিক আদৌ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা তারা জানতে পারেন না।

মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান সুমনের মূল কর্মস্থল পাশের খালিয়াজুরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। স্টেশনটি বর্তমানে চালু না থাকায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বও পালন করছেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি দুই উপজেলার স্টেশন অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ম অনুযায়ী, ডিজেল-পেট্রোল-এলপিজি বিক্রির প্রতিষ্ঠান, কারখানা, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি ও ফায়ার লাইসেন্সের বিষয়টিও ফায়ার সার্ভিসের আওতাভুক্ত। মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

মোহনগঞ্জ বাজারের ২০-২৫ জন ব্যবসায়ী জানান, প্রতিবছর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ড্রাই কেমিক্যাল পাউডারের মেয়াদ শেষ হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে যন্ত্র নিয়ে যান। পরে টাকা নিয়ে রিফিল করা হয়েছে জানিয়ে সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়। যন্ত্রের গায়ে ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার থাকে। সেখানে রিফিলের তারিখ ও পরবর্তী মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব স্টিকার আসল কি না, তা কখনো যাচাই করেননি তারা। কারণ, ফায়ার সার্ভিসের লোকজনই বিষয়টি দেখভাল করছেন— এই বিশ্বাস থেকেই তারা নিশ্চিন্ত ছিলেন।

মোহনগঞ্জের মাইলোড়া এলাকার রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আইনুল হক বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে দুটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে। কয়েক মাস আগে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেগুলো নিয়ে গিয়ে রিফিল করে ফেরত দেন। দুটি যন্ত্রের জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নিয়ে যায়, আবার তারাই রিফিল করে দিয়ে যায়। তাই আমরা তাদের ওপরই ভরসা করি। আসল-নকল যাচাই করার কথা কখনো মাথায় আসেনি।

ফারহা এন্টারপ্রাইজের মালিক রেজাউল হকও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

শাহ জালাল (র.) ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিম জানান, তার প্রতিষ্ঠানের দুটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কামরুজ্জামান সুমন নিয়ে গিয়ে রিফিল করে দিয়েছেন। এ জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো ভাউচার পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, তিনি ময়মনসিংহ থেকে রিফিল করেন, নাকি নিজেই স্টিকার লাগিয়ে দেন— আমরা জানি না। আমরা তো তার ওপর ভরসা করি। যদি রিফিল না করে পুরোনো কেমিক্যাল রেখে দেওয়া হয়, তাহলে আগুন লাগলে সেটা কোনো কাজেই আসবে না। বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার।

সরেজমিনে মিলেছে ‘সেফ মার্টের’ স্টিকার

গত দুই দিনে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের কয়েকটি ডিজেল-পেট্রোল বিক্রির প্রতিষ্ঠান এবং অন্তত ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডিজেল-পেট্রোল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরেজমিনে দেখা হয়। প্রায় সব কটি যন্ত্রেই ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার দেখা গেছে। স্টিকারগুলোতে রিফিলের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। কয়েকটি স্টিকারে রিফিলকারীর স্বাক্ষরও ছিল না।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের কাছেও রিফিলের কোনো ভাউচার পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অন্তত ১০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের স্টিকারের ছবি ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর স্বত্বাধিকারী ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা দুলাল মিয়াকে পাঠানো হয়। ছবিগুলো দেখে তিনি জানান, এর মধ্যে মাত্র দুটি সিলিন্ডার তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে রিফিল করা হয়েছে। বাকি সিলিন্ডারগুলোর স্টিকার তাদের প্রতিষ্ঠানের নয় বলে দাবি করেন তিনি।

দুলাল মিয়া বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাই কেমিক্যাল আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। কেউ যদি রিফিল না করে এমন স্টিকার লাগিয়ে থাকে, তাহলে তা প্রতারণা। এমন কাজ হয়ে থাকলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দ্য সেফ মার্টের’ স্টিকার হুবহু নকল করে ছাপিয়ে নিয়েছেন। পরে ওই স্টিকার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

নওহাল এলাকার দুই বাসিন্দা দাবি করেন, তাদের সামনেই সুমন ওই দোকান থেকে স্টিকার ছাপিয়েছেন। দোকানের কর্মচারী প্রথমে রাজি না হলেও পরে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় বলে তারা জানান। নকল স্টিকার তৈরির একটি প্রিন্ট কপিও তারা প্রতিবেদকের কাছে দিয়েছেন।

তবে ওই প্রতিষ্ঠানের ডিজাইনার প্রথমে স্টিকার ছাপানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে প্রমাণ দেখানো হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিলের জন্য ১ হাজার, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সংখ্যাও আলাদা— কোনো প্রতিষ্ঠানে ১০টি, কোথাও পাঁচটি, কোথাও দুটি, আবার ছোট প্রতিষ্ঠানে একটি করে রয়েছে।

আদর্শ ল্যাবের ইমরান হোসেন বলেন, প্রতি সিলিন্ডার রিফিলের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কোনো ভাউচার দেওয়া হয়নি।

মডেল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মনির হোসেন বলেন, আমরা রিফিলের টাকা ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে দিই। তারা নিয়ে গিয়ে রিফিল করে স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে যান। নতুন একটি সিলিন্ডারও তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে নিয়েছি।

রোকেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রুবেল মিয়াসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

এদিকে কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে রংপুরে স্টেশন অফিসারের দায়িত্বে থাকার সময় তার ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। একই সময়ে ফায়ার সার্ভিসের সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছিল।

তখন সুমনের বক্তব্য ছিল, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেনসিডিল সেবন করানো হয়েছিল। পরে তাকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে- তখন উপর মহলে বিপুল টাকা খরচ করে শাস্তি এড়িয়ে বদলিতেই বিষয়টি সমাধান করেছেন সুমন।

বর্তমানে মোহনগঞ্জে যোগদানের পরও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের দাবি, স্টেশন ও আশপাশের দোকানে বসে তাকে ইয়াবা সেবন করতে দেখেছেন তারা।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমন বলেন, আমরা রিফিল করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিই না। যাদের এসব যন্ত্র রয়েছে, তারা আমাদের কাছে রিফিলের বিষয়ে পরামর্শ চাইলে আমরা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কথা বলে দিই। পরে তারা নিজেরাই সেখানে গিয়ে রিফিল করে আনেন।

নকল স্টিকার ছাপানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তার ভাষ্য, আমরা কখনো দুই নম্বরি কাজ করি না।

মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল দিয়ে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কার্যকর হবে না— এমন কথা স্বীকার করে সুমন বলেন, যাদের কাছে রিফিল করা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসা করেন কাজ করছে কি না। কাজ করলেই হলো।

তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সাধারণত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিলের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তা রিফিল করে।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে স্টিকার ছাপিয়ে রিফিলের নামে প্রতারণা করা অপরাধ। অভিযোগের তথ্য-প্রমাণগুলো আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে তদন্ত করে দেখা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।

কামরুজ্জামান সুমনের আগের মাদক সেবনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ-সংক্রান্ত সংবাদ দেখিনি।

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মতো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রিফিলের নামে যদি সত্যিই পুরোনো রাসায়নিক রেখে দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, অগ্নিকাণ্ডের সময় শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রোগী ও কর্মচারীর নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

কামরুজ্জামান সুমন, রিফিলকৃত সিলিন্ডার, স্থানীয় দোকানে অবৈধভাবে ছাপানো স্টিকার। ছবি: আরটিভি

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উদ্ধারকারী ট্রেনের একটি ট্রলির চারটি চাকা লাইনচ্যুতের ঘটনায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ডাউন লাইনে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
ভবনের পাইলিং কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭তলা ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে শান্ত মিয়া (১৮) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভবনের পাইলিং কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
৭০ বছরের বৃদ্ধের বাড়িতে ৮০ বছরের বৃদ্ধার অনশন
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ৮০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৭০ বছর বয়সি আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। 
৭০ বছরের বৃদ্ধের বাড়িতে ৮০ বছরের বৃদ্ধার অনশন
নিম্নমানের ইটে কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ, সরানোর আশ্বাস ঠিকাদারের
নওগাঁর মান্দায় সরকারি অর্থায়নে পাকা রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে। উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এদিকে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোছা. পারুল দাবি করেছেন, কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২৪ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে আনা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণকাজে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। রাস্তার সাব-বেস ও বেস টাইপের কাজেও বালু ও খোয়া সঠিক অনুপাতে মেশানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কোচড়া বাদলঘাটা গ্রামের শামসুল আলম মোল্লা বলেন, ঠিকাদার রাস্তা করে চলে যাবেন, কিন্তু আমরাই এই রাস্তা ব্যবহার করব। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে। একই গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে, পাকা হওয়ার পরও রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। গ্রামের কান্তি কুমার সরকার বলেন, সরকারি কাজে ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করার কথা। কিন্তু এখানে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে দুই ও তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষেরই আপত্তি রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোছা. পারুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২৪ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। সাময়িকভাবে আনা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ইটভাটার মালিকদের কারসাজির কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমি আগে যে ভাটা থেকে ইট নিয়েছিলাম, সেখান থেকে ইট নেওয়া বন্ধ করায় অন্য ভাটার মালিক ও স্থানীয় কিছু লোক উসকানি দিয়ে এ সমস্যা তৈরি করছে। এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলীর লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরটিভি/টিআর
নিম্নমানের ইটে কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ, সরানোর আশ্বাস ঠিকাদারের
পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড মহিলা দলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যারা পালিয়ে গেছে, তাদের সংগঠনটি ১৭ বছরের অপকর্মের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে তারা কিছু অপকর্ম করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে আমরা একটু সজাগ ও সতর্ক থাকব। বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে যারা আছেন, তাদের চিন্তা করতে হবে যে বিএনপি সরকারি দল, ছয় মাসে সব কাজ করা সম্ভব নয়। তাহলে বিরোধী দল এখন কথায় কথায় মিছিল করবে, মিটিং করবে, লংমার্চ ও রোডমার্চ করবে—এটা কি মানানসই? এ্যানি বলেন, নির্বাচনের আগে উনারা বলেছেন, উনারা আল্লাহর দল। উনারা আপনাদের জান্নাত দিতে পারবেন। তাঁরা এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে দুর্বল জায়গায় আঘাত করে আমাদের মা-বোনদের ভোট নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে কোনো দল কি জান্নাত দিতে পারে? জান্নাত সম্পূর্ণ ঈমান ও আকিদার ব্যাপার। এটা আল্লাহর হুকুম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন, মহিলা দল নেতা ছকিনা বেগম, তাজনেহার বেগম, নাজমুন নাহার ও রাবেয়া বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী
আরও পড়ুন
বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন
প্রতিবন্ধী নারীকে পেয়ে নিজেকে আর ‘সামলাতে পারলেন না’ রবিউল
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবনে দুর্বৃত্তের আগুন