ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কবর খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেল ৮২ বছর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম
আবদুস সোবহান টুলু : ছবি সংগৃহীত

কবর খোঁড়ার জন্য প্রথম হাতে কোদাল ওঠে ছয় বছর বয়সে। এরপর আর থামেননি। কবর খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ৮২ বছর। একে একে খুঁড়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি কবর। অগণিত মানুষের শেষ বিদায়ের সাক্ষী আবদুস সোবহান টুলু গাইবান্ধা শহরের মমিনপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয়দের কাছে ‘টুলু চাচা’ নামে পরিচিত। জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে মানুষের শেষযাত্রার প্রস্তুতি করে। কখনও ভোরে, কখনও গভীর রাতে—মৃত্যুর খবর এলেই ছুটে গেছেন কবরস্থানে। লক্ষ্য মানুষের শেষ সম্মান নিশ্চিত করা।

আবদুস সোবহান টুলুর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ১৯৫০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে বড় ভাই ও স্থানীয়দের সঙ্গে পৌর গোরস্তানে গিয়ে প্রথম কবর খোঁড়ার কাজে হাতেখড়ি তার। এরপর নিয়মিত কবর খোঁড়া ও দাফনের কাজে যুক্ত হন। পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকেই কাজ করেছেন। ১৯৮৯ সালে পৌরসভায় অস্থায়ী গোরখোদক হিসেবে নিয়োগ পান। তখন মাসিক বেতন ছিল পাঁচ হাজার টাকা। বর্তমানে পান নয় হাজার টাকা।

দিন কিংবা রাত— শহরের কোথাও মৃত্যুর খবর এলেই ডাক পড়ে টুলু চাচার। স্বজন হারানোর শোকে যখন একটি পরিবার মুহ্যমান, তখন তিনি নীরবে কবর খুঁড়ে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

টুলু মিয়া বলেন, কখনও ভোর হওয়ার আগেই ছুটতে হয়েছে। কখনও গভীর রাতে। নির্জন কবরস্থানে কাজ করতে গিয়ে হয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। দেখেছি ক্ষত-বিক্ষত লাশ। কবর থেকে আগুন বের হতেও দেখেছি। জিন দেখার গল্পও শুনেছি। তবে এসবের কোনো প্রমাণ পাইনি।

এত অল্প বেতনে এত দীর্ঘ সময় এই কাজ করে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা— জানতে চাইলে টুলু মিয়া বলেন, তেমন আক্ষেপ নেই। মানুষের শেষ বিদায়ের কাজে থাকতে পারাটাকেই সৌভাগ্য মনে করি। তার ভাষায়, আল্লাহকে খুশি রাখতে পারাটাই আমার একমাত্র আরাধনা। অভাব ছিল, এখনও আছে। কিন্তু কাজ কখনও ছাড়িনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজটি করে যেতে চাই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে শাহিনুর বেগম চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় টুলু মিয়ার। অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। ১৯৬০ সালে জেলা শহরের পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

তাদের সংসারে সাত মেয়ে সন্তান। বর্তমানে চার মেয়ে জীবিত।

স্বামীর কবর খোঁড়ার কাজকে এখন গর্বের সঙ্গে দেখেন স্ত্রী শাহিনুর বেগম। তবে বিয়ের পর বিষয়টি তার কাছে এতটা সহজ ছিল না। তিনি বলেন, মাঝরাতে কারও মৃত্যুর খবর এলেই ঘুম থেকে উঠে চলে যেতেন। এমনও হয়েছে, ভাত খেতে বসেছি— হঠাৎ ডাক এসেছে। ভাত রেখেই চলে গেছেন। প্রথম দিকে খুব বিরক্ত লাগত। পরে বুঝেছি, এটা শুধু তার কাজ নয়, দায়িত্ব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টুলু মিয়ার কাজ শুধু কবর খোঁড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় নিজ উদ্যোগে কাফনের কাপড়, বাঁশসহ দাফনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে দেন।

৫৫ বছর বয়সী রেজাউন্নবী রাজু বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই টুলু এই কাজ করেন। তার মতো মানুষ সমাজের গর্ব।

মুনশিপাড়ার বাসিন্দা জাভেদ হোসেন বলেন, এলাকায় কেউ মারা গেলে মসজিদে ঘোষণা হলেই তাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি কবর খোঁড়ার পাশাপাশি কাফনের কাপড়, বাঁশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করে দেন। এমন নির্লোভ মানুষ এখন খুবই কম।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান হয়নি, মানত করতে পীরের মাজারে যাওয়ার পথে ৩ জনের মৃত্যু
বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান হয়নি আঁখি আক্তারের। সন্তানের আশায় মানত করতে স্বামী, বাবা, বোন, ভাগনে ও ভাগনিকে নিয়ে মৈনট পীরের বাড়ির মাজারে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান হয়নি, মানত করতে পীরের মাজারে যাওয়ার পথে ৩ জনের মৃত্যু
জলপাই কুড়ানোর কথা বলে শিশুকে ডেকে নিয়ে যায় হৃদয়, অতঃপর...
জলপাই কুড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর ময়মনসিংহের নান্দাইলে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তহসিন হৃদয় (১৪) নামে ওই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
জলপাই কুড়ানোর কথা বলে শিশুকে ডেকে নিয়ে যায় হৃদয়, অতঃপর...
গভীর রাতে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে গভীর রাতে ২৩ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন। 
গভীর রাতে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ
টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের কারণে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রংপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।  সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে। নেসকোর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রংপুরের সাতগাড়া মিস্ত্রীপাড়া, পিটিসি, বাস টার্মিনাল, বড়বাড়ি রোড, দেওডোবা ডাঙ্গির পাড়, পাঠানপাড়া, প্রাইম মেডিকেল কলেজ, পীরজাবাদ, দরগার পাড়, সুলতান মোড়, নিশবেতগঞ্জ ও নজিরের হাট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সাময়িকভাবে এই বিভ্রাট ঘটবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। সাময়িক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আরটিভি/এসআর
টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ভারতে পাচারের সময় বাংলাদেশি মুদ্রা জব্দ
ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। এ সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
ভারতে পাচারের সময় বাংলাদেশি মুদ্রা জব্দ
আরও পড়ুন
১১ মাসের সন্তান নিয়ে উধাও বাবা, ১০ হাজার টাকার জন্য বিক্রির হুমকি
গাইবান্ধায় পানি শোধনাগার অচল: ১৫ দিনের আল্টিমেটাম পৌরবাসীর!
মাদকের বিরুদ্ধে লাঠি হাতে সুন্দরগঞ্জের মানুষ
৯৯৯-এ কল পেয়ে মহিলা মাদরাসায় পুলিশ, ঘটনা কী