
ব্যস্ত সড়ক, তবুও দেখার যেন নেই কেউ। দীর্ঘ পাকা সড়ক ভেঙে চৌচির, জায়গায় জায়গায় খানাখন্দ; যানবাহন পার হতে গিয়ে চালক-যাত্রীদের ভোগান্তি হয়ে উঠেছে নিয়মিত চিত্র। এসবের মাঝেও হাসি-তামাশার খোরাক যোগাচ্ছে সড়কের মাঝে বাতাসে দোল খেতে থাকা পাকা ধানের শীষ।
বেহাল এই অবস্থা রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের। পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ ভেঙে গেছে। গত এক বছরে একরকম কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে সড়কের দীর্ঘ এই অংশটি। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন পার হতে গেলেই দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।
এর মধ্যে বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যেতে প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের বের হয়ে আসা মাটিতে হয়েছে ধানের ফলন।
স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তার পাশে গত বৈশাখ মাসে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকেই এক সময় বের হয় চারা। ধীরে ধীরে বড় হয় সেই চারা; বের হয় ধানের শীষ। সেই ধান এখন পেকেছে। তবুও সড়কটি মেরামতের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তারা রেখে দিয়েছেন। যত্ন করেছেন; কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।
হাসমত আলীর মতে, পাকা সড়কে ধানের এই ফলন ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’। তিনি বলেন, টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।
রসিকতা করে এক পথচারী বলেন, এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। পরে উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান বলেন, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।
আরটিভি/এসএইচএম




