
উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন।
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক মাসব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালায় সাইকেল র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পাইকগাছার মাহমুদকাটী এলাকার অনির্বাণ লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সাইকেল র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি কপিলমুনি ও কাশিমনগর হয়ে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রচার চালানো হয়।
সচেতন সংস্থার সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।
নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, এ মুহূর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। উপকূলজুড়ে এ জ্বালানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, উপকূলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য প্রচুর জমি রয়েছে। রামপাল ও মাতারবাড়ীর মতো বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যমান জমি কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া উপকূলের বেড়িবাঁধ ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা যেতে পারে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত করার পাশাপাশি বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। দূষণের কারণে সৌর প্যানেলে ধুলার স্তর জমে এর কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই বায়ুদূষণ কমানো গেলে সৌর প্যানেলের কার্যকারিতাও বাড়বে।
বক্তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার সঙ্গেও যুক্ত। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে দেশের নিজস্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ জন্য সুস্পষ্ট পথনকশা, কার্যকর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।
তারা বলেন, এ পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ৪২টি সংগঠন যৌথভাবে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক প্রচারাভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমীরণ দে, অনির্বাণ লাইব্রেরির সহসভাপতি বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র, উন্নয়নকর্মী এস এম আফজাল হোসেন এবং পরিবেশকর্মী শহিদুল ইসলাম।
আরটিভি/এমএম


