
বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ কিংবা আইডি কার্ডের মাধ্যমে হাজিরা। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই তথ্য চলে যাচ্ছে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না এলে সকাল ১১টার পর তার অনুপস্থিতির বার্তাও পৌঁছে যাচ্ছে অভিভাবকের কাছে।
ফলে কমেছে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা, বেড়েছে জবাবদিহিতা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পদ্ধতি চালুর পর শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতি বেড়েছে ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শতবর্ষী জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৯ সাল থেকে চালু রয়েছে শিক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৪৫২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮৪২ ও ছাত্রী ৬১০ জন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩৫৯, সপ্তম শ্রেণিতে ৩১৫, অষ্টম শ্রেণিতে ২৩৮, নবম শ্রেণিতে ২৯০ এবং দশম শ্রেণিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দেয়।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রথম শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর এক বছর পর ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদেরও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। এরপর থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ও মাসভিত্তিক উপস্থিতির হিসাবও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে হাজিরা দেয়। কেউ বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দেয়, আবার কেউ আইডি কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করে। হাজিরা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে উপস্থিতির তথ্য পৌঁছে যায়।
একইভাবে বিদ্যালয় ছুটির পর বের হওয়ার সময়ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইডি কার্ডের মাধ্যমে প্রস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। সেই তথ্যও অভিভাবকের মোবাইলে পাঠানো হয়। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না এলে সকাল ১১টার পর তার অনুপস্থিতির তথ্য অভিভাবকের ফোনে চলে যায়।
ফলে সন্তান বিদ্যালয়ে আছে কি না, তা জানতে অভিভাবকদের আলাদাভাবে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে হয় না।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, আমরা একদিন বিদ্যালয়ে না এলে আমাদের অভিভাবকদের মোবাইলে এসএমএস চলে আসে। ফলে মন চাইলেও অনেকে ভয়ে বিদ্যালয় ফাঁকি দিতে পারে না।
সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করায় আমরা অনেক সুফল পাচ্ছি। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে সকাল ১১টার পর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএস চলে যায়। ফলে বিদ্যালয় ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমার পাশাপাশি জবাবদিহিতা বেড়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি চালু করা হয়। পদ্ধতিটি চালুর আগে দৈনিক প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ১০ শতাংশ বেড়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি আমাদের প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার যেমন কমেছে, তেমনি উপস্থিতিও বেড়েছে।
ডিজিটাল হাজিরা চালুর আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে হাজিরা নিতে হতো। এতে ক্লাসের একটি অংশ সময় ব্যয় হতো। বর্তমানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা নেওয়ায় সেই সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, মিরসরাইয়ে বেশ কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু রয়েছে। আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাজিরা ডাকতে গিয়ে সময় নষ্ট হতো। এখন সেটি হয় না। শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, আট বছর ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুপস্থিতির তথ্যও নির্দিষ্ট সময়ের পর অভিভাবকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পর দৈনিক উপস্থিতির হার বেড়েছে ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে।
আরটিভি/এসকে



