ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্কুল ফাঁকি দিলেই মেসেজ যায় অভিভাবকের ফোনে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ কিংবা আইডি কার্ডের মাধ্যমে হাজিরা। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই তথ্য চলে যাচ্ছে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না এলে সকাল ১১টার পর তার অনুপস্থিতির বার্তাও পৌঁছে যাচ্ছে অভিভাবকের কাছে।

ফলে কমেছে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা, বেড়েছে জবাবদিহিতা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পদ্ধতি চালুর পর শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতি বেড়েছে ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শতবর্ষী জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৯ সাল থেকে চালু রয়েছে শিক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৪৫২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮৪২ ও ছাত্রী ৬১০ জন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩৫৯, সপ্তম শ্রেণিতে ৩১৫, অষ্টম শ্রেণিতে ২৩৮, নবম শ্রেণিতে ২৯০ এবং দশম শ্রেণিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দেয়।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রথম শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর এক বছর পর ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদেরও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। এরপর থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ও মাসভিত্তিক উপস্থিতির হিসাবও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে হাজিরা দেয়। কেউ বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দেয়, আবার কেউ আইডি কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করে। হাজিরা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে উপস্থিতির তথ্য পৌঁছে যায়।

একইভাবে বিদ্যালয় ছুটির পর বের হওয়ার সময়ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইডি কার্ডের মাধ্যমে প্রস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। সেই তথ্যও অভিভাবকের মোবাইলে পাঠানো হয়। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না এলে সকাল ১১টার পর তার অনুপস্থিতির তথ্য অভিভাবকের ফোনে চলে যায়।

ফলে সন্তান বিদ্যালয়ে আছে কি না, তা জানতে অভিভাবকদের আলাদাভাবে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে হয় না।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, আমরা একদিন বিদ্যালয়ে না এলে আমাদের অভিভাবকদের মোবাইলে এসএমএস চলে আসে। ফলে মন চাইলেও অনেকে ভয়ে বিদ্যালয় ফাঁকি দিতে পারে না।

সহকারী শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করায় আমরা অনেক সুফল পাচ্ছি। কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে সকাল ১১টার পর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএস চলে যায়। ফলে বিদ্যালয় ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমার পাশাপাশি জবাবদিহিতা বেড়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি চালু করা হয়। পদ্ধতিটি চালুর আগে দৈনিক প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ১০ শতাংশ বেড়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি আমাদের প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার যেমন কমেছে, তেমনি উপস্থিতিও বেড়েছে।

ডিজিটাল হাজিরা চালুর আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে হাজিরা নিতে হতো। এতে ক্লাসের একটি অংশ সময় ব্যয় হতো। বর্তমানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা নেওয়ায় সেই সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, মিরসরাইয়ে বেশ কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু রয়েছে। আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাজিরা ডাকতে গিয়ে সময় নষ্ট হতো। এখন সেটি হয় না। শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে যায়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, আট বছর ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুপস্থিতির তথ্যও নির্দিষ্ট সময়ের পর অভিভাবকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পর দৈনিক উপস্থিতির হার বেড়েছে ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৩৩ কেজির বাঘাইড় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি
টাঙ্গাইলের যমুনা নদী থেকে ধরা পড়েছে ৩৩ কেজি ওজনের বাঘাইড়। 
৩৩ কেজির বাঘাইড় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি
শিশুর চিৎকারে পালাল কিশোর
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় রহমতপুর গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে লাকিব মিয়া (১৪) বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে একটি খালি ঘরে নিয়ে যায়।
শিশুর চিৎকারে পালাল কিশোর
প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে: প্রতিমন্ত্রী সাকি 
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে। এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে সাশ্রয়ী ব্যয়ে ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে: প্রতিমন্ত্রী সাকি 
সাপের কামড়ে ওঝার মৃত্যু
ফরিদপুরের সদরপুরে কালাচ সাপকে দাঁড়াশ ভেবে ধরতে গিয়ে দংশনের শিকার হয়ে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজে ওঝা হিসেবে গ্রামে বেশ পরিচিত ছিলেন। তার বাবা সত্তার ওঝাও এলাকায় ওঝা হিসেবে পরিচিত।
সাপের কামড়ে ওঝার মৃত্যু
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...
শরীয়তপুরের জাজিরায় ডিভোর্সি এক নারীকে বিয়ে করায় রতন সরদার (৪৫) নামে এক যুবককে সালিশে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সালিশকারীদের ভয়ে গত নয় দিন ধরে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রতন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। রতন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে। রতনের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের রুবেল শিকদারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রুবেল তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। পরে চলতি বছরের ৩ আগস্ট রুবিনাকে বিয়ে করেন রতন। রতনের দাবি, তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে বিয়ের পর রুবেল শিকদার ও তার লোকজন তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক বসে। রতনের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সালিশকারীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশরাফ মাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী, বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মতিউর রহমান খান, লতিফ খান ও রাজ্জাক বেপারীসহ কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন রতন। রতনের অভিযোগ, সালিশে তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পেলেও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য ওঠার আগেই তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালিশকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া রুবেল শিকদারের পরিবারের কাছে বন্ধক রাখা তার জমির এক লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সালিশে উপস্থিত মোশারফ বেপারী বলেন, রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরও বেশিরভাগ সালিশকারী তাকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা সাধারণত তিন লাখ টাকা হলেও রতনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে সালিশকারীদের একজন রাজ্জাক বেপারী বলেন, রতনের কারণে রুবেল শিকদারের সংসার ভেঙে গেছে এবং পরে রুবিনাকে রতন বিয়ে করেছেন। এ কারণে সালিশে জুরি ভোটের মাধ্যমে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে রতন মাফ চাওয়ায় জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তার সম্মতি ছিল। স্বামীর বিয়েতে তার কোনো অভিযোগ নেই। এরপরও কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জড়িতদের বিচার দাবি করেন হোসনে আরা। অভিযোগের বিষয়ে রুবেল শিকদার বলেন, রতনের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। পরে রতন তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কারণে সালিশে রতনকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রতন সরদার। তিনি বলেন, রুবেল ও রুবিনার ডিভোর্স হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। আর তিনি রুবিনাকে বিয়ে করেছেন চলতি বছরের আগস্টে। তাই তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর জুলুম করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, রতন সরদার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসকে
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...
আরও পড়ুন
নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় পা পিছলে কলেজ শিক্ষার্থী আহত