ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাপের কামড়ে ওঝার মৃত্যু

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি : আরটিভি

ফরিদপুরের সদরপুরে কালাচ সাপকে দাঁড়াশ ভেবে ধরতে গিয়ে দংশনের শিকার হয়ে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজে ওঝা হিসেবে গ্রামে বেশ পরিচিত ছিলেন। তার বাবা সত্তার ওঝাও এলাকায় ওঝা হিসেবে পরিচিত।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সলেনামা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর একটি সাপকে দাঁড়াশ ভেবে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় সাপটি তাকে দংশন করে। দংশনের পর দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে তিনি বাড়িতে গিয়ে বাবা সত্তার ওঝার কাছে যান। পরে তার বাবা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

একপর্যায়ে আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পার্শ্ববর্তী চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাপটি শনাক্ত করতে ভুল করেছিলেন আলমগীর। তিনি সাপটিকে নির্বিষ দাঁড়াশ মনে করলেও সেটি ছিল বিষধর কালাচ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপে দংশনের পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে সময়ক্ষেপণ করা বিপজ্জনক হতে পারে। বিষধর সাপের দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনহানির ঝুঁকি থাকে।

গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক মানুষ বিষধর ও নির্বিষ সাপের পার্থক্য সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে জানেন না। ফলে সাপে দংশনের পর অনেকেই প্রথমে ওঝার কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ‘বিষ নামানোর’ চেষ্টা করেন। নির্বিষ সাপের দংশনের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে বিষধর সাপের দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কালাচ সাপের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই কালাচকে দাঁড়াশ ভেবে ভুল করছেন। তাই সাপ দেখলে সেটি ধরতে বা কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা। সাপে দংশন করলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি সাপ ধরতে বা মারতে গিয়ে নিজেরা ঝুঁকিতে না পড়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৩৩ কেজির বাঘাইড় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি
টাঙ্গাইলের যমুনা নদী থেকে ধরা পড়েছে ৩৩ কেজি ওজনের বাঘাইড়। 
৩৩ কেজির বাঘাইড় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি
শিশুর চিৎকারে পালাল কিশোর
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় রহমতপুর গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে লাকিব মিয়া (১৪) বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে একটি খালি ঘরে নিয়ে যায়।
শিশুর চিৎকারে পালাল কিশোর
প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে: প্রতিমন্ত্রী সাকি 
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও বাড়ে। এতে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে সাশ্রয়ী ব্যয়ে ও যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে: প্রতিমন্ত্রী সাকি 
স্কুল ফাঁকি দিলেই মেসেজ যায় অভিভাবকের ফোনে
ফলে কমেছে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা, বেড়েছে জবাবদিহিতা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পদ্ধতি চালুর পর শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতি বেড়েছে ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে।
স্কুল ফাঁকি দিলেই মেসেজ যায় অভিভাবকের ফোনে
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...
শরীয়তপুরের জাজিরায় ডিভোর্সি এক নারীকে বিয়ে করায় রতন সরদার (৪৫) নামে এক যুবককে সালিশে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সালিশকারীদের ভয়ে গত নয় দিন ধরে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রতন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। রতন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে। রতনের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের রুবেল শিকদারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রুবেল তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। পরে চলতি বছরের ৩ আগস্ট রুবিনাকে বিয়ে করেন রতন। রতনের দাবি, তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে বিয়ের পর রুবেল শিকদার ও তার লোকজন তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক বসে। রতনের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সালিশকারীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশরাফ মাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী, বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মতিউর রহমান খান, লতিফ খান ও রাজ্জাক বেপারীসহ কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন রতন। রতনের অভিযোগ, সালিশে তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পেলেও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য ওঠার আগেই তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালিশকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া রুবেল শিকদারের পরিবারের কাছে বন্ধক রাখা তার জমির এক লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সালিশে উপস্থিত মোশারফ বেপারী বলেন, রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরও বেশিরভাগ সালিশকারী তাকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা সাধারণত তিন লাখ টাকা হলেও রতনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে সালিশকারীদের একজন রাজ্জাক বেপারী বলেন, রতনের কারণে রুবেল শিকদারের সংসার ভেঙে গেছে এবং পরে রুবিনাকে রতন বিয়ে করেছেন। এ কারণে সালিশে জুরি ভোটের মাধ্যমে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে রতন মাফ চাওয়ায় জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তার সম্মতি ছিল। স্বামীর বিয়েতে তার কোনো অভিযোগ নেই। এরপরও কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জড়িতদের বিচার দাবি করেন হোসনে আরা। অভিযোগের বিষয়ে রুবেল শিকদার বলেন, রতনের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। পরে রতন তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কারণে সালিশে রতনকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রতন সরদার। তিনি বলেন, রুবেল ও রুবিনার ডিভোর্স হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। আর তিনি রুবিনাকে বিয়ে করেছেন চলতি বছরের আগস্টে। তাই তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর জুলুম করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, রতন সরদার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসকে
ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...
আরও পড়ুন
ব্যক্তি মালিকানার গাছ কাটতেও লাগবে অনুমোদন, অমান্য করলে মামলা
ফরিদপুরে বাসের ধাক্কায় সাংবাদিক নিহত
ভাতিজার পর একই কায়দায় চাচাকে কুপিয়ে হত্যা
ফুচকা খাওয়ার সময় হাসাহাসি নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ