ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের জাজিরায় ডিভোর্সি এক নারীকে বিয়ে করায় রতন সরদার (৪৫) নামে এক যুবককে সালিশে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর সালিশকারীদের ভয়ে গত নয় দিন ধরে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রতন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

রতন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে।

রতনের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের রুবেল শিকদারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রুবেল তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। পরে চলতি বছরের ৩ আগস্ট রুবিনাকে বিয়ে করেন রতন।

রতনের দাবি, তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে বিয়ের পর রুবেল শিকদার ও তার লোকজন তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠক বসে। রতনের অভিযোগ, ওই বৈঠকে পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সালিশকারীদের মধ্যে জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আশরাফ মাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী, বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক শেখ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মতিউর রহমান খান, লতিফ খান ও রাজ্জাক বেপারীসহ কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন রতন।

রতনের অভিযোগ, সালিশে তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পেলেও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য ওঠার আগেই তাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালিশকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া রুবেল শিকদারের পরিবারের কাছে বন্ধক রাখা তার জমির এক লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সালিশে উপস্থিত মোশারফ বেপারী বলেন, রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরও বেশিরভাগ সালিশকারী তাকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা সাধারণত তিন লাখ টাকা হলেও রতনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে সালিশকারীদের একজন রাজ্জাক বেপারী বলেন, রতনের কারণে রুবেল শিকদারের সংসার ভেঙে গেছে এবং পরে রুবিনাকে রতন বিয়ে করেছেন। এ কারণে সালিশে জুরি ভোটের মাধ্যমে তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে রতন মাফ চাওয়ায় জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রতনের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে তার সম্মতি ছিল। স্বামীর বিয়েতে তার কোনো অভিযোগ নেই। এরপরও কয়েকজন মিলে তার স্বামীকে জরিমানা ও ঘরছাড়া করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জড়িতদের বিচার দাবি করেন হোসনে আরা।

অভিযোগের বিষয়ে রুবেল শিকদার বলেন, রতনের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। পরে রতন তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কারণে সালিশে রতনকে জরিমানা ও গ্রামছাড়া করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রতন সরদার। তিনি বলেন, রুবেল ও রুবিনার ডিভোর্স হয়েছে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। আর তিনি রুবিনাকে বিয়ে করেছেন চলতি বছরের আগস্টে। তাই তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর জুলুম করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, রতন সরদার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই হেমায়েতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভাওয়াইয়া চর্চায় নতুন দিগন্ত, উলিপুরে নির্মিত হচ্ছে তিন কোটি টাকার ভবন
ভাওয়াইয়া গানের দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন মাইলফলকের পথে এগোচ্ছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সংগঠনটির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একটি স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন।
ভাওয়াইয়া চর্চায় নতুন দিগন্ত, উলিপুরে নির্মিত হচ্ছে তিন কোটি টাকার ভবন
ট্রান্সফরমার চুরির সময় হাতেনাতে আটক গণঅধিকার পরিষদের নেতা
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা। তার কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরির সময় হাতেনাতে আটক গণঅধিকার পরিষদের নেতা
নোয়াখালীতে পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার আসামি ছিনতাই
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশের হাতকড়াও নিয়ে যায় তারা।
নোয়াখালীতে পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার আসামি ছিনতাই
সাতক্ষীরায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, গাছ কাটার ও দখলের অভিযোগ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, গাছ কাটা ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক পক্ষের লোকজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর সরদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছবেদ আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলামের সঙ্গে জব্বার সরদারের ছেলে সফিকুল, সৈয়দ আলীর ছেলে আমিরুল এবং লতিফ সরদারের ছেলে আবুল কাশেমসহ তাদের শরিকদের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে জমিজমা সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। আবুল কাশেমের অভিযোগ, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে শরিফুল ও আরিফুল শতাধিক লোক নিয়ে কবরস্থানের সীমানার বেড়া কেটে গাছপালা কর্তন করে জমি দখল করেন। এতে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় জাহানারা খাতুন, লুৎফুন্নেছা ও নাজমুন নাহার আহত হন।  নাজমুন নাহারের দাবি, হামলার সময় তার কানের দুল ও গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলাম বলেন, তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই পথ দিয়ে চলাচল করছেন। ৩-৪ মাস আগে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে চলাচলের পথটি সংকুচিত করে দেওয়ায় তাদের পোল্ট্রি খামারের মালামাল পরিবহন ও বিপণনে সমস্যা হচ্ছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা চলাচলের পথ সম্প্রসারণ করেছেন এবং পথের মধ্যে থাকা গাছপালা কর্তন করেছেন।  তাদের দাবি, তারা কোনো হামলা বা ছিনতাই করেননি; বরং পথ সম্প্রসারণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা করে। তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছেন মাত্র। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে উভয় পক্ষেরই স্বত্ব দাবি রয়েছে। পূর্বপুরুষদের সময় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সবাই ওই পথ দিয়ে চলাচল করে আসছেন। তবে কয়েক মাস আগে একটি পক্ষ বেড়া দিয়ে পথটি সংকুচিত করে দেয়। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শরিফুল ইসলামরা পথটি সম্প্রসারণ করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাস্তার প্রকৃত সীমানা, জমিজমা সক্রান্ত বিরোধ নিস্পর্তী ও আদালতের নির্দেশনা এবং সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আরটিভি/ এসকেডি
সাতক্ষীরায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, গাছ কাটার ও দখলের অভিযোগ
ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ, ওসি বললেন ‘খিঁচুনির রোগী’
সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ  ছাত্রলীগের নেতা শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে (১৯) পুলিশের হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ, ওসি বললেন ‘খিঁচুনির রোগী’
আরও পড়ুন
কীর্তিনাশা নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
পূজামণ্ডপগুলোতে দেবী বিসর্জনের প্রস্তুতি, ভক্তদের মাঝে বিষাদের ছায়া
সন্তানদের জন্য চকলেট আনার কথা ছিল জুয়েলের
পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে হামলা, আটক ৪৫ জেলে