
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে একই ঘর থেকে প্রবাসী এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সি কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহত স্ত্রীর পরিবারের দাবি এটি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকার জান্নাকান্দি গ্রামের একটি বন্ধ ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন, প্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের দেড় বছর বয়সি কন্যাশিশু।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন একরাম হোসেন। এরপর থেকে তিনি অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। শনিবার সকালের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের কাছে যান। পরে ঘরের জানালার পাশে টিনের বেড়া কেটে দেখতে পান ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে একরামের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং মেঝেতে তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ পড়ে থাকতে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রথমে ইট দিয়ে প্রিয়াঙ্কার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকেও ইট দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে একরাম আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন বলেন, পাশেই ডেকোরেশনের কাজ করছিলাম। চিল্লাচিল্লির শব্দ পেয়ে এগিয়ে যাই। তখন দেখি ঘরের টিনের বেড়া কাটা। পরে তাকিয়ে দেখি একরাম ভাই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে আর ভাবী ও তার বাচ্চা নিচে পড়ে আছে।
স্থানীয় তোফাজ্জল বলেন, রাতে পাশেই বক্স বাজছিল। সকাল ৯টা-১০টার দিকে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের বেড়া কেটে দেখা যায় একজন ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আর দুজন নিচে পড়ে আছে। তাদের আর্থিক কোন সমস্যা ছিলো না তবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা কেন তাদের দুপুর ১টার দিকে জানানো হলো। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলছেন তারা।
প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, দুই দিন আগেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে শুধু বলেছে, স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসবে। তবে আমার মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের কোনো সমস্যা ছিল না। আমার ধারণা, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, আমার মেয়েকে এই বাড়ির যারা আছে, পুত্রা ঝিয়ারি ( প্রিয়াঙ্কার দেবর, ও ননদ), ঝিয়ারির জামাই( ননদের জামাই) ষড়যন্ত্র কইরা মারছে। আমার জামাই (প্রিয়াঙ্কার জামাতা) এর সাথে কোনো অবনতি (অমিল) নাই এটা আমি জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই।
তার দাবি, প্রিয়াঙ্কার সাথে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরটিভি/টিআর
আরটিভি/টিআর




