
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মো. আব্দুল কাদির জিলানী নামে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কীভাবে বাঁশ সংগ্রহ করতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অপ্রতীমকে দেখতে পান তারা।
তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম কাজ করতে। কাজের মাঝে আমাদের বাঁশের প্রয়োজন হয়। তখন এই বাঁশ সংগ্রহের জন্য এই দিক দিয়ে গেলে আমার সঙ্গে থাকা ভাতিজা আমাকে বলে- কাকা এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে। তখন আমি এখানে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। এরপর আমরা ভয়ে কাজ ফেলে চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর আমরা শুনতে পাই- ম্যাডামের বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমরা জানাই যে সেখানে একটা বাচ্চা দেখে এসেছি, সে এখনো সেখানেই পড়ে আছে। তখন সবাই আমাকে এখানে নিয়ে আসে। আমরা আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে বাচ্চাটিকে দেখতে পাই।
ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত কি না- এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে একটি টিলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তার মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটি তার পরনে ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি। নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নেই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।
এ ঘটনায় তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
এদিকে, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএ


