ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গহীন বাঁশঝাড়ে যেভাবে পাওয়া গেল অপ্রতীমের নিথর দেহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

মো. আব্দুল কাদির জিলানী নামে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কীভাবে বাঁশ সংগ্রহ করতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অপ্রতীমকে দেখতে পান তারা।

তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম কাজ করতে। কাজের মাঝে আমাদের বাঁশের প্রয়োজন হয়। তখন এই বাঁশ সংগ্রহের জন্য এই দিক দিয়ে গেলে আমার সঙ্গে থাকা ভাতিজা আমাকে বলে- কাকা এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে। তখন আমি এখানে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। এরপর আমরা ভয়ে কাজ ফেলে চলে যাই।

তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর আমরা শুনতে পাই- ম্যাডামের বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমরা জানাই যে সেখানে একটা বাচ্চা দেখে এসেছি, সে এখনো সেখানেই পড়ে আছে। তখন সবাই আমাকে এখানে নিয়ে আসে। আমরা আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে বাচ্চাটিকে দেখতে পাই।

ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত কি না- এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে একটি টিলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তার মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটি তার পরনে ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি। নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নেই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।

এ ঘটনায় তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

এদিকে, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হঠাৎ চাকসুতে দ্বন্দ্ব, এজিএসকে ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ জিএসের
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) ও সাজিনাজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব ও সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।  জিএসের হস্তক্ষেপে মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এজিএস। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তা প্রমাণ করতে পারলে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জিএস।  পাল্টা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এজিএস। শনিবার (১০ অক্টোবর) মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিতের পর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক পোস্টে দুজনের মধ্যে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া বক্তব্যেও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চাকসু ও সাজিনাজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পটি স্থগিত করে। এরপরই কর্মসূচি স্থগিতের কারণ ও এর আয়োজনের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে চাকসুর জিএস ও এজিএসের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত স্থানেও প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। কিন্তু জিএসের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পটি স্থগিত করা হয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, এজিএসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।  তার দাবি, তিনি নিজে কিংবা তার মাধ্যমে অন্য কেউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত করেননি। এ ধরনের কোনো ঘটনার প্রমাণ দিতে পারলে তিনি চাকসুর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাড়াবেন এবং পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে হলেও এজিএসকে ১০ কোটি টাকা দেবেন। জিএসের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। প্রকাশিত পোস্টে তিনি অডিওতে অপর প্রান্তের বক্তাকে সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রকাশিত অডিওতে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রাথমিক যোগাযোগ ও বৈঠকের বিষয়ে দুজনকে কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে এজিএস বলেন, ‘উনি ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ লিখছে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে, যদি প্রমাণ করতে পারি। এর জবাবে হাসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি বলেন, কে বলছে, তোমাদের একটু বুঝাই বলি। আমাকে ফোন করছিল, তোমাদের কালো করে মোটা করে একটা ছেলে আছে না? তখন এজিএস বলেন, ‘হ্যাঁ, স্বাস্থ্য সম্পাদক।’ জবাবে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘এই ওই ফোন করছিল।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা অস্বীকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এজিএস। তিনি বলেন, ‘কিন্তু দেখেন, আসলে আমি আপনাদের সাথে যোগাযোগ করছি। উনি বলতেছে যে, উনারা নিজেরাই যোগাযোগ করছে। মানে উনি এই জায়গায় আমার অবদান অস্বীকার করতেছেন। তো এইটা আমার খারাপ লাগবে না, বলেন?’ এর জবাবে অপর প্রান্তের ব্যক্তি বলেন, ‘স্বাভাবিক, স্বাভাবিক। এ তো অবশ্যই।’ পরে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রাথমিক যোগাযোগ ও বৈঠক কিভাবে হয়েছে সেটি তুলে ধরে হাসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এইডা তো সিকোয়েন্স কী বলে? সিকোয়েন্স হলো যে, তুমি আসছিলা, কথা বলছো, তারপর আমি আমরা ওদেরকে বললাম যে, তোমরা আসো, তোমরা আসলা, কথা বললা, ওইখানের ভিতরে সবাই একসাথে বসলো।’ এ বিষয়ে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক আরটিভি নিউজকে বলেন, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, আমি তা গ্রহণ করছি। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডও প্রকাশ করছি। সাধারণত কারও ব্যক্তিগত ফোনালাপ রেকর্ড বা প্রকাশ করা উচিত নয়। কিন্তু তিনি নিজেই একটি কল রেকর্ড প্রকাশ করেছেন। তাই আমিও বাধ্য হয়ে কল রেকর্ড প্রকাশ করছি। আশা করি, এর মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সবার কাছে স্পষ্ট হবে। মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিতের জন্য জিএসকে দায়ী করে তিনি বলেন, এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের স্বার্থে।  এতে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইনি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চাকসুতে দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক উদ্যোগ নিতে চেয়েছি। কিন্তু পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাবে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তারা কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। বলা যায়, চাকসু চলছে তাদের মতো করে, আর আমি আমার জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এজিএস আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যতটুকু সম্ভব, আমি কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবার সবাইকে সম্পৃক্ত করে, চাকসুর অন্য সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি জিএসের পছন্দ হয়নি। ফলে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে  অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে আসা প্রয়োজন। এ কারণেই আমি তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘রাজনীতিকে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে ফেলা অত্যন্ত বিব্রতকর। দীর্ঘদিন পর একেবারে শেষ সময়ে এসে আমাকে নিয়ে এমন বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কোনো কথাই হয়নি। এর প্রমাণও আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছি। এজিএসের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে জিএস বলেন, তৌফিক গত এক বছরে চাকসুর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখেনি। মাঝেমধ্যে চাকসুতে এসেছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে কিছু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে তার কার্যক্রম কতটা ছিল, সেটি শিক্ষার্থীরাই বিবেচনা করবেন। তবে আমি ফোন করে কোনো কার্যক্রম বন্ধ করিয়েছি বলে সে যে অভিযোগ করেছে, তা স্পষ্ট মিথ্যাচার। অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ পুনর্ব্যক্ত করে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আমি তাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি, সে যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি ফোন করে ওই কার্যক্রম বন্ধ করিয়েছি, তাহলে তাকে ছোট ভাই হিসেবে ১০ কোটি টাকা উপহার দেব এবং চাকসুর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও পদত্যাগ করব। একই সঙ্গে তাকেও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি। নিজের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হলো, শেষ সময়ে এসে তৌফিক এমন একটি বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে, যেন আমার সঙ্গে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। বাস্তবে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। সে তার মতো কাজ করেছে, আমি আমার মতো কাজ করেছি। অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে আমাকে জড়িয়ে নিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা দুঃখজনক। ছোট ভাই হিসেবে তাকে বলব, মিথ্যা অভিযোগ করে এই সুন্দর সময়টাকে নষ্ট করো না। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের চাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা জয়ী হন। অন্যদিকে, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পান ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। ভিন্ন রাজনৈতিক প্যানেল থেকে নির্বাচিত এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে এর আগেও চাকসু ভবনে বসার কক্ষ নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সেই বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে। আরটিভি/এসআর
হঠাৎ চাকসুতে দ্বন্দ্ব, এজিএসকে ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ জিএসের
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে জবিতে জকসুর বিক্ষোভ
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে জবিতে জকসুর বিক্ষোভ
যবিপ্রবিতে ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ১৩ অক্টোবর
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ‘ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস (আইএএএস) বাংলাদেশের যবিপ্রবি শাখা। আগামী ১৩ অক্টোবর দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ইকো অলিম্পিয়াডে পরিবেশবিজ্ঞান ও দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও অণুজীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, জেনেটিক্স ও বায়োকেমিস্ট্রি, মৎস্যবিজ্ঞান, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, জলজ বাস্তুবিদ্যা এবং টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকবে ইনডোর প্ল্যান্ট, সনদপত্র ও উপহার। পাশাপাশি আয়োজনে তাৎক্ষণিক কুইজ প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আলোচনা পর্ব থাকবে। এদিন সংগঠনটির নবীন সদস্যদেরও বরণ করে নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবিরের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. রাফিউল হাসান। এ ছাড়া মূল বক্তা হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন। সংগঠনটির যবিপ্রবি শাখার সমন্বয়ক মো. আশিকুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে। একটি সবুজ, সচেতন ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইএএএসের সদস্যদের জন্য নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে সংগঠনের বাইরের অংশগ্রহণকারীদের জন্য নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। আরটিভি/ এসআর
যবিপ্রবিতে ইকো অলিম্পিয়াড ও নবীনবরণ ১৩ অক্টোবর
সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় রাবিতে বিশেষ সিন্ডিকেট ১৫ অক্টোবর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল, চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এসব সুপারিশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৫০তম সভায়। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসলাম হোসেন বলেন, আজই সিন্ডিকেট সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত কমিটির সুপারিশসহ পূর্বনির্ধারিত সব এজেন্ডা উত্থাপন করা হবে। সিন্ডিকেট সভা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের কাছে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের তিনজন নেতা-কর্মী ও হল সংসদের জিএস-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া আরও চার জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিন জনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়, সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় আহসান হাবীব (সহসভাপতি, রাবি ছাত্রদল), বিশাল চক্রবর্তী (রাবি ছাত্রদল কর্মী), হাসিবুল হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রাবি ছাত্রদল), আরিফুল ইসলাম (জিএস, জিয়া হল সংসদ)-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হলো। এতে, রাকসুর সহসাংকৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। উল্লেখ্য, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।  এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আরটিভি/এসআর  
সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় রাবিতে বিশেষ সিন্ডিকেট ১৫ অক্টোবর
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রুয়েটে আইএপি সদস্যকে বহিষ্কার
পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও দাবির মুখে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইসিই বিভাগের শিল্প-উপদেষ্টা প্যানেল (আইএপি) থেকে সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।  সেখানে বলা হয়, আজ বিকেল ৩টায় ইসিই বিভাগের প্রধানের সভাপতিত্বে আইএপি প্যানেল থেকে একজন সদস্য বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপস্থিত সদস্যরা অনুমোদন করেছেন। তবে উক্ত সদস্যকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। উল্লেখ্য শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রুয়েট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (আরডিএফ) নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কোরআন ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে বহিষ্কৃত ব্যক্তির কিছু মন্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। রুয়েটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইইই, ইসিই, ইটিই ও এমটিই বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রুপটি গঠিত।  যেখানে কুরআন কোর্স সংক্রান্ত একটি বার্তা ঘিরে সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদের বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য উঠে আসে। যা ধর্মপ্রাণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্ম চর্চা ও ধর্মীয় মৌলিক অনুভূতিতে আঘাত করে বলে। সেখানে সাইদ ইমতিয়াজ কোরআনকে ‘ইশারা গ্রন্থ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন রুয়েটের উচিত বিজ্ঞান বইয়ের পরিবর্তে ইশারা গ্রন্থ থেকে শিক্ষা দেওয়া। এছাড়াও তিনি কোরআন বিজ্ঞানের বই নয়, এটি নিদর্শনের বই হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকৌশলীদের পণ্য নকশা ও নির্মাণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোরআনের জ্ঞান ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।  কোরআনে বিমান তৈরি, প্রযুক্তিগত বিপ্লব, বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা যন্ত্র তৈরির পদ্ধতি নিয়ে আয়াত নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি কোরআনে পণ্য নকশার কথা থাকলে গ্রন্থটির ঐশী গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতো, এমন বক্তব্যও দেন। পাশাপাশি তিনি কোরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে বিব্রতকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তিনি বার্তায় লিখেছেন,বাবার হাতে মাকে মার খেতে দেখে সন্তানদের কাঁদা উচিত নয়। কুরআনের ৪ নং সূরার ৩৪ নং আয়াতে পুরুষদেরকে তাদের স্ত্রীদের মারধর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কুরআনের ৬৪ নং সূরার ১৪ নং আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, রুয়েট-এর স্নাতক ও শিক্ষার্থীদের সন্তানরা যখন এ আয়াত পড়বে, তখন তারা জানতে পারবে যে তারা এবং তাদের মায়েরা তাদের পিতার শত্রু। তাই, কুরআন পুরুষদেরকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে উপদেশ দেয়। এসব মন্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন ইসিই বিভাগের মুসলিম শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ নিয়ে এমন বক্তব্যের কারণে তারা ক্ষুব্ধ এবং সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে আইএপি সদস্য হিসেবে মানতে সম্মত নন।  তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে উপদেষ্টা প্যানেল থেকে তাকে অবিলম্বে বাদ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বিভাগের কোনো কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত না রাখার দাবি জানান। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে একাডেমিক ও পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ জানান। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, রুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা বিভাগের শিক্ষক না হয়েও সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছিলেন। তার পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মৌলিক কোর্সের পরিবর্তে মাইক্রোকন্ট্রোলার ভিত্তিক কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  এমনকি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কোর্স ‘ইলেকট্রনিক শপ প্র্যাকটিস’ এ এসটিএম৩২-সংক্রান্ত সেশন উপস্থিতির ওপর ২০ শতাংশ নম্বর রাখার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করে।  এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, থিসিসের পরিবর্তে প্রকল্প ভিত্তিক কাজকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার পরামর্শে। এসব প্রভাবের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইসিই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু যৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাডভাইজারি প্যানেলের একজন সদস্যের ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানায় এবং তাকে প্যানেল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে। শিক্ষার্থীদের এই আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উক্ত প্যানেল থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।  ‘এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে ল্যাব সংস্কার, প্রজেক্ট এবং ওয়ার্কশপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ল্যাব বা ওয়ার্কশপ বাধ্যতামূলক না করে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তা ঐচ্ছিক করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। ডিপার্টমেন্টের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতির জন্যই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক ও ইতিবাচক দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন সবসময় আন্তরিক।’ জানা যায়, সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১৯৭৫ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এবং কানাডাভিত্তিক সিগন্যাল স্ট্রিম ইনকরপোরেটেডের সভাপতি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একজন বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং বিভাগের পাঠ্যক্রমে তার হস্তক্ষেপ তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।  সামগ্রিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকের বিভাগীয় সভায় সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে আইএপি এর সদস্যপদ বাতিলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দাবির বাস্তবায়ন বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। আরটিভি/এসআর  
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রুয়েটে আইএপি সদস্যকে বহিষ্কার
আরও পড়ুন
‘আমিও তো সন্তানহারা, স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব’
অপ্রতিম হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে কুবিতে মৌন মিছিল
অপ্রতীম হত্যার বিচার ও ৪ দফা বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
‘অপ্রতিমের বয়স তেরো, এই সংখ্যাকে সরকারি ভবনের কপালে লিখে দিতে চাই’