ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ্মায় ধরা পড়ল ৩৩ কেজির বাঘাইড় মাছ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মায় জেলের জালে ৩৩ কেজির একটি বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি বিক্রি হয়েছে ৭৯ হাজার ২০০ টাকায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা-যমুনার মোহনায় জেলে সেকেন হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানান স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ।

জেলে সেকেন হালদারের বরাতে সম্রাট শাহজাহান শেখ জানান, সকালে সেকেন হালদার তাঁর দল নিয়ে পদ্মায় মাছ ধরতে যান। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাল ফেলেও মাছের দেখা পাননি। পরে দুপুরের দিকে পদ্মা-যমুনার মোহনায় জাল ফেলেন তাঁরা। সেখান থেকে জাল তুলতেই দেখা মেলে বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছের। পরে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে নিয়ে ওজন দিয়ে দেখেন, মাছটির ওজন ৩৩ কেজি।

মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ বলেন, মৎস্য আড়ত থেকে উন্মুক্ত নিলামে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে মোট ৭২ হাজার ৬০০ টাকায় মাছটি কিনে নিই।

পরে ওই মাছের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড ও মুঠোফোনে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে মোট ৭৯ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বাঘাইড় একটি সংরক্ষিত ও মহাবিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এই মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ। আইনে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

কিন্তু ওই আইনের কোনো প্রয়োগ না থাকায় দৌলতদিয়ায় পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে জেলেরা জাল দিয়ে বাঘাইড়, পাঙ্গাশ, চিতল ও ড্রাই মাছ শিকার করে বিক্রি করছেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুল কেটে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) হলরোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. আজমুল হোসেন (২২) নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ওই সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে চুরির অভিযোগে তাকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে খুবির অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা কর্তৃপক্ষকে জানান, আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমুল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন তিনি তার বাবাকে জানান যে, তিনি সেখানে থাকেন এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছেন। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না।  এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়। চারদিকে তখন অনেক লোকজন, আওয়াজ ও বিশৃঙ্খলা থাকায় পরে কে ফোনে কথা বলেছেন, তা তিনি খেয়াল করেননি। ওই মেসের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরুতে সেখানে ১০-১২ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে আরও অনেক লোকজন চলে আসেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করা হয় এবং তার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে আরও লোকজন চলে আসায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং টুকটাক বাড়াবাড়িও হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। ছাদে থাকাবস্থায় তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওই মেসের শিক্ষার্থীরা। কথা বলার পর আবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তখন তিনি হঠাৎ ছাদের যে কর্নার বা কার্নিশের দিকে যান, সেখানে বৃষ্টির পানি জমে জায়গাটি কিছুটা পিচ্ছিল ছিল। তিনি সেখানে গিয়ে সরাসরি লাফ দেন। তাকে ধরার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানান তারা। এদিকে, মারধরের পর নিহত আজমুলের পিতার কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন দাবি করেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায়, এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে, খরচ। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি, ঠিক আছে, তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের ওপর ফোন দিই, কিন্তু ফোন ধরে না। পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে পৌঁছাই ৬টার পরে। সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা, আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে, আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা, আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, তারপরে দেখলাম, অতিরিক্ত ওরা মারধর করে মেরে ফেলছে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। আমি চাচ্ছি না কোর্ট-কাচারি করব, বিচার করবেন তিনি। আমার কোনো অভিযোগ নাই, আমি চাচ্ছি না আমার ছেলেরে কাটাকুটি করুক। টাকা-পয়সা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাস্থলে থাকা এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথা শুনেননি। তার মতে, তাদের কেউ টাকা-পয়সা দাবি করার মতো কথা বলবে—এটা অসম্ভব। তিনি জানান, ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরিকল্পনা ছিল ছাত্রটিকে সেখান থেকে নিয়ে পুলিশে দিয়ে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ১৫-২০ জনের মতো মানুষ ছিলেন। ছাত্রটি লাফ দেওয়ার পর সবাই হতবিহ্বল হয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের কোনো মানুষ, সে যত খারাপই হোক, কাউকে ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলার মতো মানসিকতা রাখবে—এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি ফেসবুকে এ ধরনের আলোচনা দেখতে পেয়ে বিষয়টিকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে আজমুলকে কয়েকজন মারধর করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা যুবকেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে চুরি করে পালানোর সময় লাফিয়ে পড়ে আজমুল আহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটি ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা বাইরে আসেন। এ সময় ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুল কেটে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা
পুলিশ সুপার / অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতীম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবো।
অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৩৪১ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মেধা যাচাই পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ৩৪১ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ‘সুপার ট্যালেন্ট’, ‘ট্যালেন্ট’ ও ‘গোল্ডেন’—এই তিন ক্যাটাগরিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের  হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও গ্র‌্যাজু‌য়েশন ক‌্যাপ প্রদান করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৩৪১ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান
গহীন বাঁশঝাড়ে যেভাবে পাওয়া গেল অপ্রতীমের নিথর দেহ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গহীন বাঁশঝাড়ে যেভাবে পাওয়া গেল অপ্রতীমের নিথর দেহ
‘আইফোনের জন্যই এ হত্যা’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেছেন, আমরা অনেকটা নিশ্চিত আইফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
‘আইফোনের জন্যই এ হত্যা’
আরও পড়ুন
পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
পদ্মায় গিলে নিলো শেষ স্মৃতি, কবরটাও রইল না
এশার নামাজ পড়ে যান মুসল্লিরা, ফজরে গিয়ে দেখেন ‘মসজিদ নেই’
পদ্মায় কমেছে পানি, বেড়েছে সাপ আতঙ্ক