ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঠাগারে ‘জ্ঞানের আলো’, তরুণদের কাছে মোবাইলই ভালো!

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শেরে বাংলা সাধারণ পাঠাগার : ছবি আরটিভি

সারিবদ্ধ আলমারিতে বই। তবে পাঠক নেই বললেই চলে। ভবনের বিভিন্ন অংশে অযত্নের ছাপ। একসময় যে পাঠাগারটি ছিল জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দখলের কারণে সেটি এখন অনেকটাই পাঠকশূন্য। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শেরে বাংলা সাধারণ পাঠাগারের চিত্র এমনই।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি একসময় স্থানীয় তরুণ, শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের মিলনস্থল ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া, ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার এবং পাঠাগার ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে সেখানে পাঠকের উপস্থিতি কমেছে। তরুণদের একটি বড় অংশ এখন বইয়ের বদলে মোবাইল ফোনের পর্দাতেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, ১৯৮৪ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মঠবাড়িয়ায় এসে পাঠাগারটির ফলক উন্মোচন করেন। কবি আব্দুল খালেক প্রতিষ্ঠিত ‘শেরে বাংলা স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের দান করা জমিতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে পাঠাগার ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাঠাগারের কক্ষ নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। এতে পাঠাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

১৯৯৩ সালে মঠবাড়িয়া পৌরসভা গঠনের পর পাঠাগারটি প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য একজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তখন পাঠাগারে পাঠকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। দীর্ঘদিন বইগুলোও পড়ে ছিল অব্যবহৃত অবস্থায়।

২০১৬ সালে স্থানীয় তরুণ লেখক মেহেদী হাসানের একটি কলাম প্রকাশের পর পাঠাগারটির দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় তরুণ, লেখক ও বইপ্রেমীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘মঠবাড়িয়া পাঠাগার আন্দোলন’।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইন মোল্লাসহ স্থানীয় প্রবীণদের পরামর্শে তরুণেরা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে পাঠাগারের দুটি কক্ষ দখলমুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে সেখানে সাপ্তাহিক পাঠচক্রের কার্যক্রম শুরু হয়।

এরপর প্রতি শুক্রবার পাঠচক্র, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিচারক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বইপ্রেমীদের সহযোগিতায় পাঠাগারে নতুন বইও সংগ্রহ করা হয়। এতে একসময় পাঠাগারটিতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর পাঠাগার ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে কার্যক্রমে আবারও ভাটা পড়ে। বর্তমানে পাঠকের উপস্থিতিও কম।

পাঠাগারটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পর্যালোচনা কমিটির সম্পাদক কবি মেহেদী হাসান বলেন, ২০১৬ সালের পর দীর্ঘদিন স্থানীয় তরুণ লেখক ও বইপ্রেমীরা এখানে পাঠচক্র করে আসছেন। কিন্তু কোভিড-১৯-এর পর ভবনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাওয়ায় পাঠকের আনাগোনা কমেছে। ফলে পাঠাগারকেন্দ্রিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

পাঠাগারটি টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইন মোল্লা। তার মতে, স্মার্টফোনের আসক্তির এই সময়ে তরুণেরা যখন ক্রমেই বই ও পাঠচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তাদের পাঠাগারমুখী করা গেলে এটি সমাজ পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তবে জরাজীর্ণ ভবন ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে পাঠাগারটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত ভবনটি মেরামত করে পাঠাগারের পরিবেশ পাঠবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হুক ছিঁড়ে ৬ বগি লাউয়াছড়ায় রেখে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাল ট্রেন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তঃনগর পাহাড়ি এক্সপ্রেসের (৭২০) হুক ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
হুক ছিঁড়ে ৬ বগি লাউয়াছড়ায় রেখে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাল ট্রেন
ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের অদূরে বাবরা রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু
বিমানবন্দর থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগরীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দর থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, উদ্ধার ১১টি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের প্রস্তুতির সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণে দুইজন আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত দুজনের মধ্যে একজনের হাতের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শেখটোলা পিয়নপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখটোলা ও কবিরাজপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা ওদুদ মহরীল ও সাবেক ইউপি সদস্য জালাল মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ানোর প্রস্তুতি নেয়। এ সময় তাদের হাতে ককটেলসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে সুমেল ও আব্দুল হামিদ আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে একজনের হাতের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকার একটি বাড়িতে একসঙ্গে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চরবাগডাঙ্গায় ককটেল বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। আরটিভি/টিআর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, উদ্ধার ১১টি
১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার পদ্মার বাঁধে ফাটল, ২০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শত বছরের পুরোনো সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে ফাটল ধরেছে। এতে বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফাটল ধসে ওই অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। এতে নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কায় সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকানপাট ও মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে সুরেশ্বর মাছবাজারসহ আশপাশের নদীতীরবর্তী স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানান তাঁরা। শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, গতকাল সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। পরে আজ সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগামীকাল সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হবে। আরটিভি/টিআর
১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার পদ্মার বাঁধে ফাটল, ২০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন
আরও পড়ুন
চুরি করা ৯৪ মোবাইল নিয়ে পালাচ্ছিলেন ৮ চোর, অতঃপর...
এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর...
দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহার বেড়েছে: বিবিএস
সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতের জন্য এনবিআরের নতুন আদেশ