
হেমন্তের নির্মল আকাশে ধরা দিয়েছে হিমালয়ের অপরূপ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খালি চোখেই দেখা মিলছে বরফে ঢাকা এই পর্বতশৃঙ্গের। ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় কখনো লালচে, কখনো গোলাপি, আবার কখনো শুভ্র সাদা রূপে ধরা দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। প্রকৃতির এই মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন নানা বয়সী পর্যটক।
গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ের আকাশে দেখা মিলছে হিমালয়ের এই অপরূপ শৃঙ্গের। মেঘমুক্ত আকাশে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বরফে মোড়ানো পাহাড়ের চূড়া। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার সরকারি-বেসরকারি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ও পরিবেশকর্মীরা জানান, হেমন্তের এই সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় রঙের পরিবর্তন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। তবে আবহাওয়া, মেঘের আনাগোনা ও দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন এই পর্বতশৃঙ্গ দেখা যায় না।
ভারতে গিয়ে হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ যাদের নেই, তাদের জন্য তেঁতুলিয়া থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। পাসপোর্ট-ভিসার ঝামেলা ছাড়াই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে হিমালয়ের এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকেরা।
কয়েক দিন অপেক্ষার পর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা দর্শনার্থীরা। কেউ মুঠোফোনে, কেউবা ক্যামেরায় ধারণ করছেন হিমালয়ের অপরূপ দৃশ্য। শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন অনেকে। মহানন্দা নদীর তীর ও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। পর্যটকদের আনাগোনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। তবে পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আগত পর্যটকেরা।
এদিকে পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠছে নতুন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট। পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন মৌসুমের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত আবাসনসুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যায়। মূলত আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পর্বতশৃঙ্গটির দৃশ্যমানতা। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে ভ্রমণের পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে। পর্যটন খাতের বিকাশে আরও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/এসকে


