
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুহিদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা বাজারে চাঁদের আলো ফিলিং স্টেশনে আগুনের এ ঘটনা ঘটে।
আগুনে প্রায় আট হাজার লিটার জ্বালানি তেল, অটোরিকশার শোরুম, কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং পাশের তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে। এতে ৩০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিক। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মুহিদুল ইসলাম ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং চাঁদের আলো ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী। তার ভাষ্য, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলমেট পরা এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে দোকান থেকে দুই লিটার পেট্রল নেন। এরপর এক হাজার টাকার নোট দিলে কর্মচারী মামুন টাকা ভাঙাতে ক্যাশ কাউন্টারে যান। এর পরপরই তেলের ড্রামে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের প্রতিষ্ঠান ও তিনটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই মোটরসাইকেল আরোহীকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মুহিদুলের অভিযোগ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। চার মাস আগে স্থানীয় এক নেতাকর্মী সুবল উদ্দিন তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ছাড়া গত মাসে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী হাসনাত নামের এক ব্যক্তি মেসেঞ্জারে তাকে হুমকি দেন। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে সিয়াম হাসানকে মারধর করে হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রটিই পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে বলে সন্দেহ মুহিদুলের।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত সুবল উদ্দিন তিন মাস আগে থেকেই একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আগুনের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনে ফিলিং স্টেশন, পাশের দুটি প্রতিষ্ঠান ও পেছনের তিনটি বাড়ি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মুহিদুলের দাবি, ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল। অটোরিকশার শোরুমে থাকা পাঁচটি নতুন অটোরিকশা ও ৫৫টি ব্যাটারি পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কম্পিউটার ও আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে।
মুহিদুল জানান, ফিলিং স্টেশনের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন ছিল না। তবে ফায়ার সার্ভিস ও জেলা পরিষদের অনুমোদন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেখানে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারও বিক্রি করা হতো। ফায়ার সার্ভিস এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় না; অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি করছিল।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে মুহিদুলের এক কর্মচারী হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুনের খবর তিনি পেয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আগুনের প্রকৃত কারণ, এটি পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না এবং এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের ব্যবসা কীভাবে চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরটিভি/টিআর




