ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নদীর ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহারের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ছবি : আরটিভি

আমতলীর পায়রা নদীর এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক নষ্ট হয়ে ক্ষয়ে যাবে। এতে সরকারের শত কোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে যাবে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণে ১৩টি প্যাকেজে কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণকাজ চলছে।

ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই চার প্যাকেজের এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ পায়। দরপত্রে উল্লেখ আছে, ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি হতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেক চট্টগ্রাম থেকে লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। বুধবার ন্যাশন টেকের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকশন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) কাজ শুরু করেছে। তারা আরও বলেন, স্তূপ করা বালুর নিচে জমে থাকা পানি মুখে দিলেই বোঝা যাবে বালু কোথাকার। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

তারা আরও বলেন, লবণপানির বালুর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে বালু স্তূপ করে রেখেছে, ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশিদিন টিকবে না।

ন্যাশন টেকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, বালুর এফএম মান পরীক্ষা করে তা ফিল্ডে নামিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েটে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে ব্লক বাতিল করে দেওয়া হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক সুজন বলেন, কিছু স্তূপ করা বালুতে এফএম মান কম থাকলেও সব মিলিয়ে ঠিক আছে।

ন্যাশন টেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. গোলাম ফারুক বলেন, স্তূপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এ বালুতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা থাকলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব পরীক্ষায় তা ধরা পড়বে। সমস্যা ধরা পড়লে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্লক বাতিল করে দেবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চাঁদা না পেয়ে তেলের দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুহিদুল ইসলাম।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা বাজারে চাঁদের আলো ফিলিং স্টেশনে আগুনের এ ঘটনা ঘটে।  আগুনে প্রায় আট হাজার লিটার জ্বালানি তেল, অটোরিকশার শোরুম, কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং পাশের তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে। এতে ৩০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিক। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মুহিদুল ইসলাম ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং চাঁদের আলো ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী। তার ভাষ্য, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলমেট পরা এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে দোকান থেকে দুই লিটার পেট্রল নেন। এরপর এক হাজার টাকার নোট দিলে কর্মচারী মামুন টাকা ভাঙাতে ক্যাশ কাউন্টারে যান। এর পরপরই তেলের ড্রামে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের প্রতিষ্ঠান ও তিনটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই মোটরসাইকেল আরোহীকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুহিদুলের অভিযোগ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। চার মাস আগে স্থানীয় এক নেতাকর্মী সুবল উদ্দিন তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ছাড়া গত মাসে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী হাসনাত নামের এক ব্যক্তি মেসেঞ্জারে তাকে হুমকি দেন। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে সিয়াম হাসানকে মারধর করে হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রটিই পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে বলে সন্দেহ মুহিদুলের। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত সুবল উদ্দিন তিন মাস আগে থেকেই একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আগুনের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনে ফিলিং স্টেশন, পাশের দুটি প্রতিষ্ঠান ও পেছনের তিনটি বাড়ি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মুহিদুলের দাবি, ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল। অটোরিকশার শোরুমে থাকা পাঁচটি নতুন অটোরিকশা ও ৫৫টি ব্যাটারি পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কম্পিউটার ও আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে। মুহিদুল জানান, ফিলিং স্টেশনের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন ছিল না। তবে ফায়ার সার্ভিস ও জেলা পরিষদের অনুমোদন ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেখানে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারও বিক্রি করা হতো। ফায়ার সার্ভিস এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় না; অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি করছিল। সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে মুহিদুলের এক কর্মচারী হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুনের খবর তিনি পেয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আগুনের প্রকৃত কারণ, এটি পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না এবং এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের ব্যবসা কীভাবে চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরটিভি/টিআর
চাঁদা না পেয়ে তেলের দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
হঠাৎ দৌলতদিয়ার মৌসুমীর ঘরে অভিযান, যা পাওয়া গেল
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ১০০ গ্রাম হেরোইন ও মাদক বিক্রির ছয় লাখ টাকা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় মৌসুমী আক্তার (২৯) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হঠাৎ দৌলতদিয়ার মৌসুমীর ঘরে অভিযান, যা পাওয়া গেল
পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
খুলনার পাইকগাছায় পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে—এমন ভয় দেখিয়ে এক স্কুলশিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের হোগলারচক গ্রামের জামাত আলী সরদারের ছেলে আবদুল কাদের সরদার (৩৮) ও খোকন গাইনের ছেলে রনি গাইন (২৬)। পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইনবাড়িয়া এলাকার স্কুলশিক্ষক ঠাকুরদাসসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির নাম পুলিশের তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করেন ওই দুই যুবক। তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে তারা টাকা দাবি করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মুঠোফোনের সূত্র ধরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বাইনবাড়িয়া সেতুর কাছ থেকে স্থানীয় ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলসহ থানার পুলিশের সদস্যরা কাদের ও রনিকে আটক করেন। বুধবার সকালে স্কুলশিক্ষক ঠাকুরদাস মুঠোফোনে জানান, ওই দুই যুবক তার নামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে পুলিশের তালিকায় থাকার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। তবে দুপুরের পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভয়ে ওই শিক্ষক মামলা করতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে পরে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুই যুবককে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পাইকগাছা থানায় দায়ের করা ১৭ নম্বর চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাইকগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব মন্দিরে সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অন্তর্গত লংগদু জোনের পক্ষ থেকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দুরছড়ি বাজারে অবস্থিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব মন্দির পরিদর্শন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সেনাসদস্যরা মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মন্দিরে পূজার সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পূজার আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে লংগদু জোনের পক্ষ থেকে মন্দির পরিচালনা কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এ সহযোগিতার জন্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে অনুষ্ঠানে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আরটিভি/টিআর
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব মন্দিরে সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে তোলপাড় চলছে। সেখানকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকা ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে লিপ্ত হন। পেশাগত মর্যাদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দুই শিক্ষকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম।  জানা গেছে, তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে এবং তারা আলাদা বসবাস করছেন। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে তা ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার সেই দৃশ্যের ধারণকৃত ভিডিও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা থাকলেও এখনো তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ২০১১ সালে দুজনই আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্কুল অফিসে এমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও সেই বিরোধের জেরেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি আরও প্রকাশ করেন, এর আগেও দুই থেকে তিনবার স্কুলে তাদের মধ্যে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাঁচজন শিক্ষক ও প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এ বিদ্যালয়টিতে এমন কাণ্ডে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যক্তিগত কলহের প্রভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি দিন দশেক আগের হলেও ভিডিও প্রকাশের পর তা জানা গেছে।  তিনি জানান, বিদ্যালয়ে এমন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশমালা পাঠিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। আরটিভি/এসআর
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
আরও পড়ুন
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
১০ টাকার বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে শিশুকে নির্জনে নিয়ে গেলেন ভ্যানচালক
বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন
হাসপাতালের মেঝেতে চলছে বাবার চিকিৎসা, স্যালাইনের বোতল হাতে ছেলে