
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সরকারি হালট ও অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি সম্পত্তি) দখল করে গেট ও পার্ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পুস্পধারা হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গেট নির্মাণের সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাধা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সুযোগে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। গেট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও বর্তমানে সরকারি সম্পত্তিতে পার্ক নির্মাণ এবং ফসলি জমি ভরাটের কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেওটখালী মৌজার ১০৩৫ নম্বর দাগের সরকারি হালটের উপর কোম্পানিটির গেট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেওটখালী মৌজার আরএস ৯৬৩, ৯৯৭, ৯৯৯, ১০৩৮, ১০৫৮, ১৮৪১, ২১২৩ ও ২১৩৩ নম্বর দাগের ভিপি সম্পত্তি দখল করে পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে পুস্পধারা হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাউজিং প্রকল্পের প্রবেশপথে বড় আকারের একটি গেট নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। প্রকল্পের ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে প্রথমে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া গেলেও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় গেট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন দেখা যায়। পাশাপাশি প্রকল্পের ভেতরে পার্ক নির্মাণের কাজ চলতে এবং ফসলি জমি ভরাট করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হালট ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হলে জনসাধারণের চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব জমির প্রকৃত মালিকানা, শ্রেণি ও বর্তমান দখল পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুস্প ধরা হাউজিং কোম্পানির প্রকোমেন্ট ডিরেক্টর আবু বক্কর সিদ্দিক, আমরা সরকারি নিয়ম মেনে হাউজিং করছি। পার্ক এক কোন কাজ আমরা করিনি শুধু বিউটিফিকেশন এর কাজ করেছি। যেখানে এলাকার ছেলেপেলেরা বসে ও সময় কাটায়। সরকারি হালটের উপর গেট নির্মাণে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা নিয়মের মধ্যেই সব করছি। আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে ঢাকা অফিসে আসেন।
এবিষয়ে ষোলঘর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসে বিষয়টি জানতাম না। আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম দ্রুত তদন্ত করে এবিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবো।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, বিষয়টা আমি অবগত আছি। ইতিমধ্যে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছি। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম




