
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি খাসজমিতে চাষাবাদ করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা দীর্ঘদিন ধরে চার বিঘা আয়তনের ওই জমিতে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করে আসছিল। মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় গ্রামে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযুক্ত হেকমত আলী সরকার সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির। তিনি জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নওকৈড় গ্রামের শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মাঠটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে হেকমত আলী সরকারসহ কয়েকজন ট্রাক্টর দিয়ে জমিটি চাষ করে দখলে নেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা দ্রুত মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলার জন্য সংরক্ষণের দাবি জানান।
সলপ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন জানান, চার বিঘা আয়তনের জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা জায়গাটিকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছিল।
জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে জামায়াত নেতা হেকমত আলী সরকার বলেন, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) লোকজন জিম্মি করে আমাদের জায়গা দখল করে সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।
অন্যদিকে, সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। পরে জমিটি অব্যবহৃত থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করত। সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
তবে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, জায়গাটি খেলার মাঠ নয়। সেখানে সরকারি কিছু জমি ছিল, যা এলাকার লোকজন বিভিন্ন সময়ে লিজ নিয়ে চাষাবাদ করতেন। তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাহজাহান আলীর ভাষ্য, বিগত সরকারের আমলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মাটি ভরাটের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এ নিয়ে মামলা হয়। বর্তমানে সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নওকৈড় গ্রামটি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নিজ গ্রাম।
আরটিভি/এসকে


