ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

লালন সাঁই অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক: খাদ্যমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ছবি: আরটিভি

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক নন। তিনি মানবতার সাধক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক এবং সম্প্রীতির এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তার দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ, মানুষের মর্যাদা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, লালন সাঁই ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মিলনের কথা বলেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব। আজকের পৃথিবীতে লালনের এই দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে পরিচয়ের কারণে কেউ অবহেলিত হবে না, ধর্মের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই হবে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি। আমরা চাই সাম্যের সমাজ, সম্প্রীতির সমাজ, মানবিক মর্যাদার সমাজ।

তিনি বলেন, মত ও পথ আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতার প্রশ্নে আমরা সবাই এক। ভেদাভেদ নয়, সম্প্রীতি; ঘৃণা নয়, ভালোবাসা; বিভাজন নয়, মানুষের মিলন লালন সাঁইয়ের দর্শন আমাদের সেই পথই দেখায়।

লালনের গান ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা বলেন, লালনের গান শুধু বিনোদন নয়। এটি আত্মজিজ্ঞাসার গান, আত্মপরিচয়ের গান, মানবমুক্তির গান। তার সুরে মিশে আছে বাংলার মাটির গন্ধ, তার কথায় ফুটে উঠেছে জীবনের গভীর দর্শন। তার সাধনায় প্রকাশ পেয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার শক্তি। লালনের এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে তার দর্শন পৌঁছে দেওয়া আমাদের কর্তব্য। বাংলার বাউলসংগীত ও লোকজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করা আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, লালন সাঁই আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই। কিন্তু তার গান আছে, তার দর্শন আছে, তার মানবতার বাণী আছে। যত দিন মানুষ সত্যের সন্ধান করবে, মুক্তির পথ খুঁজবে, মানবতার চর্চা করবে, তত দিন লালন সাঁই বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বদরবারে বাংলার সংস্কৃতিকে আরও পরিচিত করে তোলা। কারণ, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর নয়, উন্নয়ন আমাদের সংস্কৃতিরও। শেকড়কে ভুলে নয়, শেকড়কে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতিতেও মানুষের কল্যাণ, মানুষের অধিকার এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। আমরাও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে চাই আমাদের কাজের মাধ্যমে, আমাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে।

নিজের জন্মস্থান মানিকগঞ্জের মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা বলেন, আমি মানিকগঞ্জের সন্তান। এই মাটি, এই মানুষ, এই জনপদ আমার অস্তিত্বের অংশ। আমার বাবা আমৃত্যু মানিকগঞ্জের মানুষের পাশে থেকেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন, মানুষের ভালোবাসাকে মূল্য দিয়েছেন। তার সেই পথচলা আমার জীবনেও প্রেরণা।

তিনি বলেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে যাব। মানুষের পাশে থাকব, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। কারণ, আমার কাছে মানিকগঞ্জ শুধু একটি জেলার নাম নয়। এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার শেকড়, আমার স্মৃতি, আমার দায়বদ্ধতা, আমার ভালোবাসা। এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা আমার কাছে অত্যন্ত আপন। মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষই আমার এক পৃথিবী। এই মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জেলা কমিটির সদস্য-সচিব শামীম বিশ্বাস।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী উম্মে সুমাইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে 'লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শণবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সিংগাইর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি ও জাসাসের শিল্পীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক জুঁইরিরা ইসলাম নুপুর।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
এক হাতে কাদামাটি, অন্য হাতে রংতুলি। সকাল থেকে রাত— দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকা রানী পালের। দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। মেলার দোকানিরা আগেই দিয়েছেন পাইকারি অর্ডার। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে দিন-রাত কাজ করছেন কনিকা। কারণ, মাটির তৈরি এসব পণ্য বিক্রির আয়ই তার ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র ভরসা।
এক হাতে মাটি অন্য হাতে রং-তুলি, দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকার
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন: মীর হেলাল
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়িয়েছেন: মীর হেলাল
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন / জীবন বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় ‍নিয়ে সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন।  তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তারা টয়লেটে ঢুকে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ১৬ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। আগুন লাগার পরপরই ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে একে একে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। আরটিভি/এসআর  
জীবন বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয়, সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ম্যানেজার
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিনড্রাইভ লাগোয়া রিসোর্টটিতে ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন।
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ম্যানেজার
জন্মের পর থেকে পূজা দেখেনি রামু সদ্দার পাড়ার শিশুরা!
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সারা বাংলাদেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ আর আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজ ঘরে ঘরে। কিন্তু এই মহা-আনন্দের দিনেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রামু সদ্দার পাড়ায় চলছে নীরব হাহাকার। স্বাধীনতার এত বছর পরও এই পাড়ার বাসিন্দারা নিজেদের এলাকায় একটি স্থায়ী মন্দির পাননি। ফলে এখানকার শিশুদের জন্মের পর থেকে কখনোই নিজ গ্রামে পূজার আনন্দ উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়নি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব থেকে যুগের পর যুগ বঞ্চিত হয়ে আসছে পুরো এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো।
জন্মের পর থেকে পূজা দেখেনি রামু সদ্দার পাড়ার শিশুরা!
আরও পড়ুন
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে মানিকগঞ্জে মাদকবিরোধী সমাবেশ
লালন সাঁইকে স্মরণে দেশজুড়ে আয়োজন, ঢাকায় বিশেষ অনুষ্ঠান
শ্রেণিকক্ষে অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা, ‘ও বন্ধু লাল গোলাপী’ গানে আনন্দ-উল্লাস করছেন শিক্ষকরা
সারের ডিলারশিপ পাননি যুবদল নেতা, বললেন ‘গুডবাই’