
নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি আর্থিক সহায়তা ও সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি আরও জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা ও একটি সিটি করপোরেশন এলাকার ২৫৭টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও নির্দেশনায় জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের কার্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণকালে এসব কথা জানান তিনি।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং সদর, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া ও গৌরীপুর উপজেলার পূজামণ্ডপে সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া মুক্তাগাছা, নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে চেক বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাসসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তাগাছায় স্থানীয় সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং নান্দাইলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। একসময় রাজা-মহারাজা ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ পূজার আয়োজন হতো। কালের পরিক্রমায় সেই আয়োজন রাজবাড়ি ও জমিদারবাড়ির সীমানা পেরিয়ে গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা একটি ব্যয়বহুল আয়োজন। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে আনন্দ, উৎসাহ ও মর্যাদার সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে থাকে। এ সহযোগিতা শুধু আর্থিক অনুদান নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামল ও পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পেরিয়ে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এবার শারদীয় দুর্গোৎসব আরও ব্যাপক পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবের আয়োজন সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি ছুটি ও পূজামণ্ডপের জন্য সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পূজামণ্ডপের জন্য আর্থিক বরাদ্দ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাধারণ বরাদ্দের চাল ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। জেলা পরিষদ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ধর্মকর্ম পালন ও ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে বিএনপি সব সময় সব ধর্মের মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ধর্মীয় পরিচয় যেন কারও অধিকার, মর্যাদা কিংবা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— এই নীতিতে বিশ্বাস করে বিএনপি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা দলটির রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
দুর্গোৎসবসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এবার বিএনপি জাতীয়ভাবে পূজামণ্ডপ পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে দলীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা পূজা উদযাপন কমিটিকে সহযোগিতা করছেন।
আরটিভি/এমএইচজে


