
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বাণীকে সামনে নিয়ে একতারা, দোতারা আর ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে লালন ফকিরের ভবের হাট।
জাতপাত ভুলে লালন ভক্ত অনুসারীরা নিজেকে ও অজানাকে জানছেন। মহাগুরু ফকির লালনের রীতি অনুযায়ী সাধু সঙ্গে দীক্ষা নিয়েছেন। লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে পুণ্য সেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ করেছেন। লালন স্মরণোৎসব শেষ হবে আগামীকাল (১৯ অক্টোবর)।

আধ্যাত্মিক জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক ফকির লালন তার জীবদ্দশায় দৌল পূর্ণিমার তীথিতে ভক্তদের নিয়ে সাধু সঙ্গ করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার দেহত্যাগের পর তাকে স্মরণে তার রীতি মেনেই সাধু সঙ্গ শুরু করেন অনুসারীরা। পরে লালন একাডেমি এ উৎসব চালিয়ে আসছে। ১৩৬ বছর ধরে চলা এই সাধুসঙ্গের এই উৎসব এখন বিশাল লালন স্মরণোৎসবে পরিণত হয়েছে। এবার স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দেশ- বিদেশি ভক্তরা ভবের হাটে ভিড় করেছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে সাধু সঙ্গে বাল্য, রাখাল ও পুণ্য সেবার মধ্য দিয়ে মনের হিংসা, রাগ দূর করতে মহাগুরু লালনের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। এভাবেই তারা নিজেদেরকে খাটি করে তুলছেন। বলছেন, লালন ফকিরইতো সব ধর্ম বর্ণের মানুষকে একত্র করতে প্রেরণা জুগিয়েছেন।

প্রতিনিয়ত আখড়াবাড়ির ভেতরে খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার চলছে। রাতে আখড়াবাড়ির বাইরে মূল মঞ্চে লালন দর্শনের আলোচনা ও গান গানে বাণী প্রচার। লালন অ্যাকাডেমির মাঠে চলছে বাউল মেলা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এক মহা সম্মিলনিতে মেতে উঠেছেন সবাই।
লালন বিশ্লেষক হৃদয় শাহা ফকির বলেন, নিজেকে জানতে ও যখনই প্রয়োজন হয় মানুষ এভাবে ভবের হাটে জড়ো হয়।
লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে পারলেই সাথক হবে এই উৎসব বলছেন ভক্তরা।
আরটিভি/এসএস


