ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করে মামলায় গ্রাহক

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করা ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে ফখরুল ইসলাম সোহেল নামে এক সিএনজি চালকের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় দুই মাস ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হলেও অতিরিক্ত বিল নিয়ে প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফখরুল ইসলাম সোহেল মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সিএনজি চালক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী। স্থানীয়দের কাছে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার আপস বা নিষ্পত্তির জন্য হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মো. ইসমাত কামালের পক্ষ থেকে তার কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।

সোহেল জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের জিএম স্যার বিষয়টি সমাধান করবেন। আমার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমার কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক।

পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হবে না। তবে মামলার আপস বা নিষ্পত্তির জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকলে সেটি আদালতের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে। মামলার কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা সমাধানের উপায় হতে পারে না।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মো. ইসমাত কামাল বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না।

তবে মামলা চলমান থাকার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার বিধিমালা বা আইনি ভিত্তি কী—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।

ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম সোহেল বলেন, দুই মাস ধরে আমি বিদ্যুৎবিহীন। আমি পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের সঙ্গে কোনো অন্যায় করিনি। আমাকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তদন্তেই তা প্রমাণ হবে।
তিনি আরও বলেন, স্কুলপড়ুয়া সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আমি সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপপরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কোনো সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করতে চাইলে তাকে পত্র দিয়ে জানাতে হবে। আমরা আশাবাদী, জিএম সাহেব বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
খুলনার তেরখাদায় নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন জেলের বিরুদ্ধে। 
নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন, দেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা। কৃষিকে লাভজনক করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। ইশরাক নিয়ম মেনেই পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয়, এখানে আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।
ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি / জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে তাদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের ধুলট হাটা প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। এর আগে, ওই দিন ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া অংশে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই পাঁচজনসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। নিহত ব্যবসায়ীরা হলেন—জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দির জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দির জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাটের ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাটের সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী। জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কৃষিপণ্যের ব্যবসা করছিলেন। রাজশাহী অঞ্চলের তাহেরপুর বাজার থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন পণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা নাটোর হয়ে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানাজায় শোক প্রকাশ করে সেনেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কাজী, কাজিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি মোখলেস মাদবর এবং বাজার ইজারাদার টিটু আকন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বাজারে অত্যন্ত পরিচিত ও সক্রিয় ব্যবসায়ী ছিলেন। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের অকালমৃত্যু পুরো ব্যবসায়ী সমাজ ও এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
আরও পড়ুন
‘শুরু করছি তোর ভাইরে দিয়া, শেষ দিমু তরে দিয়া’—সাংবাদিককে মাদক কারবারির হুমকি
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা: ৮ ডিসেম্বর আপিলের চূড়ান্ত শুনানি
আবরার ও মেজর সিনহা হত্যাসহ আলোচিত তিন মামলার আপিল শুনানির দিন ধার্য
মামলায় ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজির ও ভূমি দখলের অভিযোগ আল মোস্তফা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে