
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার অন্যতম সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাইনীমুখ বাজার এখন প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ দখলের থাবায় বিনষ্ট হতে বসেছে। ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে বাজারের ফায়ার রোড ও বাজার ফান্ডের কোটি কোটি টাকার সরকারি জায়গা। অথচ এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ও চলাচলের জন্য নির্ধারিত ‘ফায়ার রোড’ এবং বাজার ফান্ডের খালি জায়গা দখল করে প্রভাবশালী চক্র স্থায়ী ও অস্থায়ী নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে তুলছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের এই গলিপথ দখলের চিত্র নিয়ে তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরাও নানা ধরনের হুমকির শিকার হচ্ছেন।
মাইনীমুখ বাজারের চৌধুরী দেব কুমার চাকমা জানান, বাজার ফান্ডের নিবন্ধনে মোট ২৫টি ফায়ার রোড থাকলেও বাস্তবে এখন হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র চোখে পড়ে। যেগুলো অবশিষ্ট আছে, সেগুলোরও দু’পাশ দখল হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ায় ক্রেতা ও সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এমনকি মাইনীমুখ বাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাসেমের বিরুদ্ধেও ফায়ার রোডের জায়গা দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন বাজার সভাপতি আবুল কাসেম। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কাসেম মেম্বারের ভাই ও তার ছেলের হাতে হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
এছাড়াও মাইনীমুখ বাজারের গুলশাখালী ঘাটের ফায়ার রোডটি ইতোমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি দখল হয়ে গেছে। সরকারি কাগজে এর প্রশস্ততা ২০ ফুট উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে বর্তমানে আছে মাত্র ৮ থেকে ১০ ফুট।
ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে কিছুদিন পরপরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ঘাট ও ফায়ার রোডগুলো অবৈধ দখলের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না এবং কাপ্তাই লেক থেকে পানি তোলার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বিশেষ করে সাপ্তাহিক শনিবারের হাটের দিনে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাজারের সুরক্ষায় ও সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, ফায়ার রোড পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় জনগণ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
আরটিভি/এমএম


