ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছুই নয়, আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে পূজা পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ দেশের প্রতিটি জেলায় রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।

তিনি বলেন, বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ বেরিয়ে এসেছিলেন, শিশুরা বেরিয়ে এসেছিল, তরুণেরা বেরিয়েছিল, যুবকেরা বেরিয়ে এসেছিল। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলি খাওয়া মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। যাওয়ার পথে কেউ মারা গিয়েছে অথবা যাওয়ার পথে বেঁচে থাকলেও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছুই নয়। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে; সেভাবেই ২৪ এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সেদিন যুদ্ধের মাঠে শত-সহস্র মানুষ, লাখো মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন। কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান। আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন করেছেন। সেসব আন্দোলনেও কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মী কোন ধর্মের বা আমার সামনে কিংবা পেছনের কর্মী কোন ধর্মের।

আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। ধর্মের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার এই দৃষ্টান্তই প্রমাণ করে, নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় ও অধিকার সমান।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
খুলনার তেরখাদায় নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন জেলের বিরুদ্ধে। 
নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন, দেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা। কৃষিকে লাভজনক করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী
ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। ইশরাক নিয়ম মেনেই পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয়, এখানে আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।
ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি / জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে তাদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের ধুলট হাটা প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। এর আগে, ওই দিন ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া অংশে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই পাঁচজনসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। নিহত ব্যবসায়ীরা হলেন—জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দির জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দির জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাটের ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাটের সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী। জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কৃষিপণ্যের ব্যবসা করছিলেন। রাজশাহী অঞ্চলের তাহেরপুর বাজার থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন পণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা নাটোর হয়ে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানাজায় শোক প্রকাশ করে সেনেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কাজী, কাজিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি মোখলেস মাদবর এবং বাজার ইজারাদার টিটু আকন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বাজারে অত্যন্ত পরিচিত ও সক্রিয় ব্যবসায়ী ছিলেন। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের অকালমৃত্যু পুরো ব্যবসায়ী সমাজ ও এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
আরও পড়ুন
সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে দিনদুপুরে সরকারি পুকুরের মাছ লুটের চেষ্টা