
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার নাতি রায়হান কবীর ওরফে রাব্বীকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ মধুপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুকুরটির দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই রাতে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানায়। পরে ঘটনা আড়াল করার জন্য তার মরদেহের দুই পা বিচ্ছিন্ন করে একটি সবুজ ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর বাচ্চু মিয়ার চাচাতো নাতি রাব্বির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ মধুপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন পুকুরে যায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পার্শে একটি পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কী কারণে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরটিভি/টিআর


