
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একসময় টেলিফোন সেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল টিএন্ডটি কার্যালয়। ২০০২ সালে কার্যালয়টি ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা হয়। অথচ সেই কার্যালয়ের বর্তমান অবস্থা জরাজীর্ণ। চত্বরজুড়ে জন্মেছে আগাছা, জমেছে ময়লা-আবর্জনা। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, জায়গাটি মলমূত্র ত্যাগের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি না থাকায় কার্যালয়টির এমন অবস্থা হয়েছে। একসময় এখান থেকে টেলিফোন সেবা দেওয়া হলেও বর্তমানে সেবার পরিধি সীমিত। অন্যদিকে ভবন ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায়ও কার্যকর উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। তাতে লেখা ‘ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর’। এই কার্যালয়ের নামেই সড়কটির নাম হয়েছে টিএনটি রোড। তবে কার্যালয়ের চত্বরের চিত্র ভিন্ন। চত্বরের চারপাশে আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা। কোথাও কোথাও জমে আছে আবর্জনার স্তূপ। পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ভবনটি টিএন্ডটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০২ সালে এটি ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সরকারি হাসপাতাল ও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখান থেকে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। বিটিসিএল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টির মতো সংযোগ চালু রয়েছে। জনবলসংকটের কারণে কার্যালয়টিতে নিয়মিত কর্মী রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একজন কর্মচারী থাকলেও তিনি সেখানে অবস্থান করতে পারেন না। ফলে পিরোজপুর জেলা কার্যালয় থেকে গিয়ে কাজ করতে হয়। এতে নিয়মিত তদারকিও ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন টেলিফোন সেবা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মঠবাড়িয়ার নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা জামান আবির বলেন, ১৯৮৮ সালের দিকে টিএন্ডটির একটি ল্যান্ডফোন সংযোগ নিয়েছিলাম। এর কোড ছিল ১০২। ২০০২ সালে ডিজিটাল হওয়ার পরও সংযোগটি চালু ছিল। পরে সেবা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে একসময় লাইনটি কেটে দিয়েছি।
উপজেলায় দায়িত্বে থাকা গার্ড ও লাইনম্যান গোলাম মোল্লা বলেন, এখানে ময়লা ফেলতে নিষেধ করা হলেও কেউ তা মানছে না। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে ময়লা নিয়ে যায়। কিন্তু এখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বিটিসিএলের পিরোজপুর জেলার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কার্যালয় এলাকায় ময়লা-আবর্জনার বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বর্ষাকালে এখানে পানি জমে থাকে। আমরা জায়গাটি উঁচু করার ব্যবস্থা করব। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যালয় এলাকার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করব।
আরটিভি/এমএইচজে




