
বরগুনার পাথরঘাটায় জবাই করা একটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাথরঘাটার বন বিভাগের মামলা পরিচালক মো. সোহরাফ হোসেন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে চরলাঠিমারার ছোটহোর খাল এলাকা থেকে জবাই করা হরিণটিকে জব্দ করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পণির শেখ এর নির্দেশনায় ওই হরিণটিকে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
বন বিভাগের মামলা পরিচালক (এফসিসিও) মো. সোহরাফ হোসেন জানান, দুপুরের পরেই বন বিভাগের হরিণঘাটা বিটের সদস্যরা চর লাঠিমারা এলাকায় টহল দিচ্ছিল। বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ করে ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকা এসে কিছু সাদা বস্তা উঠিয়ে দিয়ে আবার চলে যায়। বন বিভাগের টহল দলের সন্দেহ হলে কাছাকাছি গিয়ে জবেহ করা মৃত চিত্রা হরিণ টিকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। ততক্ষণে ট্রলারটি নিয়ে অনেক দূরে চলে যায় শিকারিরা।
তিনি আরও জানান, পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক মো. পনির শেখের নির্দেশক্রমে মৃত চিত্রা হরণের চামড়া সংরক্ষণ করে বাকি অংশ কেরোসিন দিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, চিত্রা হরিণ চিত্রল হরিণ বা চিত্র মৃগ নামেও পরিচিত। উপমহাদেশে হরিণের প্রজাতিগুলোর মধ্যে এটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। লালচে বাদামি শরীরের ওপর সাদা সাদা ফোটা গোলাকার দাগ থাকে বলে প্রজাতি চিত্রা বা চিত্রল হরিণ নামে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনই এর প্রধান আবাস। তবে দেশের চিরহরিৎ বনগুলোয় খুব অল্প সংখ্যায় এরা টিকে আছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এরা মূলত গাছের ফল, পাতা, বাকল ও ঘাস খায়। হরিণের এই প্রজাতির কোনো প্রজনন মৌসুম নেই। চিত্রা হরিণের গর্ভধারণকাল ৭ মাস এবং এরা প্রতিবারে মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে। ফলে বংশবৃদ্ধি খুব ধীরে হয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) চিত্রা ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ বলে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২-এর তফসিল-২ অনুযায়ী এই বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা, শিকার বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরটিভি/এমএইচজে


