
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ‘জুলাইযোদ্ধা’ তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত ৫০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বরের অভিযোগ, সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ একটি পক্ষকে সুবিধা দিয়ে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে দেন। এরপর বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন।
তামিম মাতুব্বর বলেন, ‘মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে তাদের সঙ্গে থেকে আমাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে, লুটপাট করেছে এবং আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহেরান্দী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের সঙ্গে একই এলাকার এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধটি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরেই বুধবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, হামলায় অন্তত ৫০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। এমদাদ মাতুব্বরের পক্ষের লোকজন পুলিশের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে একটি পক্ষকে সহযোগিতা করার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য। তামিম সাহেব হয়তো মনগড়া কথা বলেছেন। সারা দেশের মানুষ জানে আমি আওয়ামী লীগের পক্ষ হয়ে কাজ করছি কি না।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বাচ্চু মোড়লকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আরটিভি/এসকে


