
সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে (১৯) পুলিশের হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা ও গুজব দাবি করে সদর থানার ওসি রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে মামলার আসামী হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সে দুর্বল ও আগে থেকেই খিচুনি রোগ ছিল। থানা হাজতে দাঁড়ানো অবস্থায় পড়ে যায়।’
গ্রেপ্তার শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (১৯) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তারা সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন।
এদিকে শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সের ছোট ভাই ফাহিম রাজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই বিষয়ে সদর থানার ওসি জানিয়েছেন, এমন হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকার বাসা থেকে শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। থানায় নেওয়ার পর শারীরিক নির্যাতনে সে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে শাহনেওয়াজ চৌধুরী পুলিশকে বলছেন, ‘স্যার আমি কয়দিন পর আত্মসমর্পণ করবো।’ জবাবে পুলিশ বলছেন, ‘বোকা ছেলের মতো কথা বলে। দুদিন পরে তুমি পাশ করলে আমরা মিষ্টি খাওয়াবো, সমস্যা নাই। শাহনেওয়াজ তার ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার কথা বললে পুলিশের উত্তর, ‘ক্যারিয়ার তো এমনিইে নাই। ক্যারিয়ার তো শেষ হয়ে গেছে।’
শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে পুলিশের গ্রেপ্তার, হাসপাতালে ভর্তি , তার মা-বাবার আকুতির ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজসহ দলের শত শত নেতাকর্মী তার ভিডিও শেয়ার করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী জানান, গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর মডেল থানার এস আই জাকারিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সুনামগঞ্জের নতুনপাড়া বাসায় যান। সদর থানার ওসি রতন শেখের সাথে দেখা করানোর কথা বলে ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। পরে রাত প্রায় দেড়টার দিকে তিনি পরিচিত একজনের কাছ থেকে জানতে পারেন ছেলে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছে। পরে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান তারা। রাতেই মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় সুবিদবাজারের কুইন্স নামক প্রাইভেট একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত ছেলে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন শাহনেওয়াজের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী।
ছেলে রাজনীতির সাথে জড়িত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার ছেলে এ বছর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এর আগে মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছিল তাকে। জেল থেকে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বর্তমানে জামিনে থাকা সত্বেও বাসা থেকে ধরে নিয়ে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আমার ছেলেকে আহত করে হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়। আমি আমার ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
থানায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলার আসামী হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আগে থেকেই তার খিচুনি রোগ ছিল এবং সে দুর্বল ছিল। থানাহাজতে দাঁড়ানো অবস্থায় পড়ে যায়। তার শরীরের কোনো আঘাতের চিহ্ন নাই। তাছাড়া তার সঙ্গে কী হয়েছে, তা সব সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। সে কীভাবে পড়ে গেল, কীভাবে সে এসেছিল, সবই ফুটেজে আছে। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কিছু লোক মব সৃষ্টি করে গুজব ছড়ায়, পুলিশ মেরে ফেলে গেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘ বৃহস্পতিবার রাতে সে অসুস্থ্য হলে তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু তার পরিবার তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন। পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছে সে।
আরটিভি/ এসকেডি



