ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী

নীলফামারী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।

শেফালী বেগমের এই সাফল্য কেবল একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন, যদি থাকে শেখার অদম্য আগ্রহ, শিক্ষার পথে বয়স কখনো বাধা হতে পারে না।

গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী শেফালীর এই অর্জনে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। বিশেষ করে পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা।

শেফালীর শিক্ষাজীবনের শুরুটা ছিল বেশ সম্ভাবনাময়। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে মেধার স্বাক্ষর রাখা এই শিক্ষার্থীকে একসময় বই-খাতার পরিবর্তে কাঁধে তুলে নিতে হয় সংসারের দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে স্বামী-সন্তান, পরিবার ও জীবনের নানা বাস্তবতায় নিজের শিক্ষার স্বপ্ন আড়ালে চলে যায়। তবে শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ কখনোই পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

দীর্ঘ বিরতির পর স্বামী ও তিন সন্তানের উৎসাহ ও সহযোগিতায় আবারও পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। বয়সের ব্যবধান, সংসারের ব্যস্ততা এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষাবিরতি সবকিছু উপেক্ষা করে নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হন। অবশেষে তার সেই অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি মেলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।

শেফালী বেগমের ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। অন্যদিকে, তার মেয়ে মাখসূরা খানম নাজমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়ন করছেন। সন্তানদের শিক্ষাজীবন ও অর্জনেও শেফালী বেগমের ত্যাগ, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার প্রতিফলন রয়েছে।

গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রভাষক আব্দুল মান্নান বলেন, শেফালী বেগমের এই সাফল্য সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা। নিয়মিত অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল থাকলে জীবনের যেকোনো বয়সেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত শেফালী বেগম বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সংসারের নানা পরিস্থিতির কারণে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে বরাবরই ভালো রেজাল্ট করেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে আমার ভাগ্নি ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া দেখে নিজের মধ্যেও আবার পড়াশোনা করার ইচ্ছা জাগে। পরে স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় নতুন করে পড়াশোনা শুরু করি। আজ জিপিএ ৪.২১ নিয়ে এইচএসসি পাস করতে পেরে মনে হচ্ছে, জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

তার স্বামী মকছেদুল আলম বলেন, শেফালী পরিবারের জন্য নিজের অনেক স্বপ্ন ত্যাগ করেছে। দীর্ঘদিন পর নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তার এই সাফল্যে আমরা সবাই গর্বিত। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনার পথে পাশে থাকব।

শেফালী বেগমের নাতনি ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শারাফি রাজের চোখেও দাদি এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক। সে বলে, আমার দাদি আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ৫২ বছর বয়সে দাদি এইচএসসি পাস করেছেন, এতে আমি ভীষণ খুশি ও গর্বিত। দাদির এই সাফল্য দেখে আমিও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে চাই। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। দাদি আমাকে শিখিয়েছেন, মন দিয়ে চেষ্টা করলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পরও শেফালী বেগমের এই অর্জন প্রমাণ করে, দৃঢ় সংকল্প, পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু করা সম্ভব। তার গল্প শুধু একটি পরিবারের গর্বের বিষয় নয়, বরং সমাজের অসংখ্য মানুষের জন্য আশার বার্তা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়, পঞ্চগড় থেকে এবার দেখা মিলল এভারেস্টেরও
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট ও মাকালুর একাংশ দেখা গেছে। ২৬ অক্টোবর ভোরে পঞ্চগড়ের একটি গ্রাম থেকে অল্প সময়ের জন্য পর্বত দুটি দৃশ্যমান হয়।  সম্প্রতি আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ নিজের ক্যামেরায় এর ছবি তুলেছেন। ফিরোজ আল সাবাহ জানান, ওই দিন সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি এভারেস্ট ও মাকালুর দেখা পান। পঞ্চগড় থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের এই পর্বতশৃঙ্গ এত স্পষ্টভাবে আগে কখনো দেখেননি বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, আট বছর আগে তার মনে প্রশ্ন জাগে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলে এভারেস্ট কেন নয়। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত ১০ দিন ধরে প্রতিদিন ভোরে বের হতেন তিনি, তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সফল হননি। ২৬ অক্টোবরের আগের দিন থেকে বাতাসে ঠান্ডার আমেজ ও আর্দ্রতা কমে আসায় তিনি দৃশ্যমানতা বাড়ার আভাস পান। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল বলে জানান তিনি। সেদিন ভোর ৪টার দিকে সঙ্গী তুষারকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হন তিনি। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পূর্বাকাশে রঙের খেলা দেখা যায়। সূর্যোদয়ের আগে চাঁদের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়, পরে সূর্যের প্রথম আলোয় তার চূড়া সোনালি রং ধারণ করে। এর কয়েক মিনিট পর দিগন্তে ধীরে ধীরে এভারেস্ট ও মাকালুর অবয়ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলোকচিত্রী জানান, এই অভিজ্ঞতার গল্প তিনি ২০২২ সালেও লিখেছিলেন। এবার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তবে নিজের তোলা ছবির সত্যতা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। আরটিভি/এসআর
শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়, পঞ্চগড় থেকে এবার দেখা মিলল এভারেস্টেরও
অসহায় মানুষদের জন্য শ্রীপুরে ফ্রি মেডিকেল সেন্টার চালু
মাগুরার শ্রীপুরে বিধবা, দুস্থ ও অসচ্ছল মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ফ্রি মেডিকেল সেন্টার চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রতি মাসে কার্ডধারী অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।
অসহায় মানুষদের জন্য শ্রীপুরে ফ্রি মেডিকেল সেন্টার চালু
এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে জীবন দিলেন মাগুরার দুই শিক্ষার্থী
মাগুরায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে জীবন দিলেন মাগুরার দুই শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা হয়েছে: মাহ্দী আমিন
এইচএসসিতে উত্তীর্ণদের ছাত্রদলের অভিনন্দন, অকৃতকার্যদের প্রতি সহমর্মিতা
জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া ফাইয়াজ পেলেন জিপিএ-৫
এইচএসসিতে নীলফামারীর ১৪ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল