
গাজীপুরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেন (৩৫) মারা গেছেন।
জানা গেছে, ভাঙচুরের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত হন তৌফিক হোসেন।
পরে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৌফিক।
নিহত তৌফিক হোসেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গাজীপুর মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের কাটিং সেকশনে কাজ করতেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ওই শ্রমিক আন্দোলনকারীদের ভাঙচুরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। সে সময় তাকে মারধর করে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন, এমনকি পুলিশের কাছ থেকেও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করতে পারেন, কিন্তু পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের অধিকার তাদের নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাজ। আমরা তাদের কঠোর হাতে দমন করব।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের সামনে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এ সময় একদল লোক কারখানার সামনে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ও কারখানার শ্রমিকরা বাধা দেন। তখন উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময় তৌফিক হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গাজীপুরের শিল্প পুলিশের এসপি আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ঠিক কীভাবে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।
আরটিভি/এমএইচজে



