
মানিকগঞ্জের যমুনা নদীতে চলাচলরত যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা থেকে প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা চাঁদা তুলছেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট আরিচা পুরাতন ৩ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই চাঁদাবাজি বন্ধে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন ওই এলাকার নৌযান মালিকরা।
জানা যায়, অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রটি সরাসরি না দিয়ে ডাকযোগে পাঠিয়েছে নৌযান মালিকরা। অভিযোগ পাঠানোর একমাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নৌযান মালিক জানান, শিবালয় উপজেলার সমেজঘর তেওতা এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে জালাল উদ্দিন ও হৃদয় শেখ, আব্দুল আজিজের ছেলে মো. রাজা, জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জুয়েল এবং নিহালপুর গ্রামের মফিজ সেখের ছেলে ফিরোজ সেখ প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫শ’ করে টাকা চাঁদা তুলছে। তাদেরকে টাকা না দিলে নৌকা চালাতে দেয়া হয় না। ফলে বাধ্য হয়েই তাদেরকে টাকা দিয়ে নৌকা চালাচ্ছেন নৌযান মালিকরা। কিন্তু প্রতিদিন ৫শ’ টাকা দেয়ার পর তাদের কাছে আর সংসার চালানোর মতো টাকা থাকছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা।
এই ঘাটে একশ থেকে দেড়শ নৌকা চলাচল করে। প্রতিদিন নৌকা থেকে ৫শ’ করে টাকা নিলে প্রত্যেকদিন ওঠে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসে কমপক্ষে ৩০ লাখ এবং বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটিরও বেশি। এই চাঁদার টাকার ভাগ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং প্রভাবশালীরা নিয়মিত পান বলে জানা গেছে। আর সে কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত সমেজঘর তেওতা এলাকার মো. রাজা বলেন, ঘাটের নৌকা থেকে কত টাকা নেয়া হয় তা তিনি জানে না। ঘাটটি জালাল উদ্দিন নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি সব জানেন।
তবে জালাল উদ্দিনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, তিনি এই ধরণের কোনও অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তিনি এবং নৌ-পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
আরও পড়ুন
এফএম/এসএস




