
পরীক্ষার হলে অনৈতিক সুবিধা না দেয়ার ঘটনার জের ধরে পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের এক প্রভাষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মারধরে শিকার ওই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মাকসুদুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, গত ৬ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ১০৬ নম্বর কক্ষে এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে সরকারি মহিলা কলেজের দু’জন পরীক্ষার্থী খাতা দেখাদেখি করছিলেন। এসময় ওই কক্ষের পরিদর্শক সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে নিবৃত্ত করতে না পেরে এক পর্যায়ে খাতা কেড়ে নেন।
এ ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষক মাকসুদুর রহমান কলেজ থেকে মোটরসাইকেল যোগে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একদল ছেলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল ঘুষি লাথিসহ বেদম মারপিট করে। মারধোরের ভিডিওটি সিসি টিভির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি ভাইরাল হয়।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন জুন্নুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি হামলাকারীদের চেনেন না। তিনি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করছিলেন। সিসিটিভির ফুটেজে তার প্রমাণ আছে।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আব্দুল কুদ্দুস বলেন, একটি মেয়ের অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়ে তদন্ত টিম করে দেয়া হয়েছে। এসময় তিনি শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কেউ অনৈতিক সুবিধা না পেলে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেন-এটি নতুন নয়। এ ঘটনা সব শিক্ষক সমাজের জন্য অপমান জনক।
কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ তার সহকর্মী শিক্ষককে প্রহৃত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কলেজকে বহিরাগত মুক্ত এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে হবে।
এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, তারা পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন এর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।
পাবনা থানার ওসি ওবাইদুল হক জানান, বুলবুল কলেজের বিষয়টি শুনেছি। কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে এ ঘটনায় পাবনার সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এসএস




