
শিক্ষানুরাগীর আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন কুইন মেরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ জামাল ওরফে সেগা জামাল। কলেজ ভবনেই ছিল ইয়াবার মজুদ। লবণ, কাঠ ও শুঁটকির ট্রাকে করে ঢাকায় আনতেন ইয়াবার চালান। পরে ঢাকার আশপাশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠাতেন সে ইয়াবা। শুধু তা নয় প্রাডো গাড়িতে করে বড় বড় চালান পৌঁছে দিতেন রাজধানীর বিভিন্ন ডিলারের কাছে।
গেল শনিবার রাতে রাজধানীর ভাটারায় একটি ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে গিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের কাছে হাতেনাতে গ্রেফতার হন সেগা জামাল। এসময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরে প্রগতি কলেজ থেকে আরও পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা সরবরাহে ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো গ-৬৫৫৮) জব্দ করা হয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, ইয়াবার ব্যবসা আড়াল করতে তিনি ভাটারা এলাকায় কুইন মেরী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন সেগা ফাউন্ডেশন। ঢাকাতে যুক্তরাজ্যের একটি কলেজের শাখা খুলে শিক্ষাবাণিজ্য করার চেষ্টাও করছেন। প্রগতি সরণিতে ক-৯০ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা কিনে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন কুইন মেরী কলেজ। ভবনের ৮ম তলায় তার বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট। শুধু তা নয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং বনশ্রীর একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে একটি মোটেল করার জন্য ২২ লাখ টাকায় জমির বায়নাও করেছেন। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে এ সম্পদের মালিক হয়েছেন দাবি করলেও প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে জামাল মাদক ব্যবসা করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
কর্মকর্তা আরো জানান, কক্সবাজারের আইয়ুব ও আজিজ নামে দুইজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে রাজধানীতে ইয়াবা নিয়ে আসতেন জামাল। রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ঢাকায় এসে সেগা জামালের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নিয়ে যেত।
এমসি/এমকে




