
বিয়ে বাড়িতে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধ করতে বলায় বর ও বন্ধুরা এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের নাম নাজমুল হক। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- আলতাফ, হৃদয় (বর)ও নিলয়।
ওয়ারীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির সামনে শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়ারী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম বলেন, মূলত বিয়েতে জোরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এই গন্ডগোল হয়। পরে সকালে নাজমুলকে ভবনের নিচে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়। ওই সময়ের ভবনের ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত নাজমুলের মেয়ে নাফিসা জানান, বহুতল বাড়িটির অষ্টমতলায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন তারা। ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় থাকেন আলতাফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি ও তার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতে আলতাফের ভাতিজা হৃদয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছিল ভবনের ছাদে। এসময় বেশ উচ্চস্বরে গান-বাজনা চলছিল। চার বছর আগে তার বাবার (নাজমুল) বাইপাস সার্জারি হয়। ফলে তিনি অসুস্থ ছিলেন।
নাফিসা আরো জানান, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে জোরেশোরে গান-বাজনার প্রচণ্ড শব্দে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ কারণে নাজমুলের ছেলে নাসিমুল হক ছাদে গিয়ে গান-বাজনার আওয়াজ কমাতে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এর জেরে শুক্রবার সকালে ভবনের নিচতলায় আলতাফ, বর হৃদয়, নিলয় এবং আরও কয়েকজন মিলে নাজমুল ও নাসিমুলকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। পরে তাদের বেধড়ক মারধর করলে নাজমুল অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এমসি/পি




