
ভূমি অধিগ্রহণ তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এবার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর সাইদুজ্জামান ও পিয়ন দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক।
মঙ্গলবার বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা ও ময়মনসিংহের ৪ সদস্যের একটি দল ওই দুই সরকারি কর্মচারীকে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
গত ১৭ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি দল সেতাফুলকে পিরোজপুর জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে।
ওদিনই দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল বাদী হয়ে সেতাফুলকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় সেতাফুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে বদলির পর তিনি একই পদে পিরোজপুর জেলায় দায়িত্বরত ছিলেন।
২৯ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট আ. ছালাম খান সেতাফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গেলো ২ ফেব্রুয়ারি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওইদিন বিকেলে আদালতের বিচারক তছলিমা আক্তারের খাস কামরায় সেতাফুলের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে সেতাফুলকে আবারও কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের আদেশের পরই সেতাফুলকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেদের হেফাজতে নেয়।
সূত্র মতে, সেতাফুলের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ (রাজস্ব) জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস ও ব্যাংকের কয়েকজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরই অডিটর সাইদুজ্জামান ও পিয়ন দুলালকে আজ মঙ্গলাবার গ্রেপ্তার করেছে দুদক।
জেবি/এসএস




