ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মাছ, মুরগি ও সবজির দাম

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:১৭ পিএম
ফাইল ছবি

ভরা মৌসুমে প্রচুর সরবরাহ থাকার পরেও লাগামহীন হয়ে পড়েছে শীতকালীন সবজির বাজার। ৬০ টাকার নিচে বাজারে তেমন কোনো সবজি নেই বললেই চলে। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ-মাংস। মৌসুম শুরু হলেও কিছুতেই কমছে না আলু ও পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের তুলনার ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারঘুরে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। যা গত সপ্তাহে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি, সোনালি হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে। সোনালি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি, লেয়ার ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শেওড়াপাড়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা সজিব বলেন, গত এক মাস ধরে মুরগির বাজার বাড়তি রয়েছে। প্রতি সপ্তাহেই মুরগির দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় আমরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছি।

চলতি সপ্তাহে এসব বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কমেছে। পেঁয়াজ দেশি (পুরাতন) ১৩০ টাকা, দেশি নতুন পেঁয়াজ ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শেওড়াপাড়া বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আরমান বলেন, গত সপ্তাহে দেশি পুরাতন পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কমেছে। শুধু তাই নয় নতুন আলুও কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি দাম বেড়েছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ সকল ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

রাজধানীর মহাখালীর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিজান শেখ বলেন, বাজারে আসলে অতিরিক্ত দামের কারণে কোন মাছই কেনা যায় না। গরিবের মাছ তেলাপিয়া, পাঙাশ, চাষের কইয়ের দামও চড়া। আর অন্য কোনো মাছ তা কেনার কথা ভাবাই যায় না। এখন পাঙাশ মাছও কেজি ২২০/২৪০ টাকা করে কিনতে হয়।

মালিবাগে বাজারে মাছ কিনতে আসা কবির হোসেন একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি বলেন, ইদানীং বাজারে এলে মাছ কিনতে পারি না বাড়তি দামের কারণে। বাজারে সবচেয়ে কম দামের মাছও এখন বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। দরদাম করে সবশেষে তেলাপিয়া মাছ কিনলাম তাও ২২০ টাকা কেজি দরে। এই বছর কোনো সময়ের জন্যই কোনো মাছের দাম কমেনি। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষরা কোনো মাছই এখন সেভাবে কিনতে পারছি না।

এদিকে মাছের বাড়তি দামের বিষয়ে গুলশান-সংলগ্ন লেকপাড় বাজারের বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, মাছের খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই সব ধরনের মাছের দাম চড়া যাচ্ছে। এ ছাড়া মাঝে হরতাল অবরোধের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাছের দামও বেড়েছিল। এরপর থেকে দাম নতুন করে কমেনি।

তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজারেই আমাদের সব ধরনের মাছ বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এরপর পরিবহন খরচ, শ্রমিক খরচ, রাস্তা খরচ, দোকান ভাড়া সব মিলিয়ে দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেশিই যাচ্ছে। আমাদের মাছ কেনা যখন কম দামে পড়বে তখন আমরাও খুচরা বাজারে কম দামেই বিক্রি করতে পারব।

বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা কপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং গাজর ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার এসব বাজারে বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকায়, ধুন্দুল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতা কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, জালি কুমড়া ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, নতুন আলু ৭০ টাকা, নতুন উঠা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে, ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা দরে, পেঁয়াজের ফুলকলি ৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বাজারগুলোতে লাল শাক ১০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, মূলা শাক ১০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, কলমি শাক ১০টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৫৮০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১০৫০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহে লাল ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে।

এসব বাজারে গরুর মাংসের দাম কিছুটা কম থাকায় মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, মাগুর মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা , মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ৯০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, কাচকি মাছ ৬০০ টাকায়, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকায়, রূপচাঁদা ১০০০ টাকা, বাইম মাছ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, দেশি কই ১০০০ টাকা, মেনি মাছ ৭৬০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০টাকা, আড়ই মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং কাইকলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণের সুদহার হবে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে ভোক্তা ঋণের সুদহার পড়বে প্রায় ১৩ শতাংশ।  যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা– সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং সবশেষ ডিসেম্বরে স্মার্ট রেট বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে এখন সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে জানুয়ারি মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ করতে পারে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশ্য একবার সুদহার কার্যকর করা হলে পরবর্তী ছয় মাসে তা আর পরিবর্তন করা যায় না। ডিসেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে জানুয়ারি মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। সেই হিসাবে, নতুন ২০২৪ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের সুদহার হবে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। তবে জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে ব্যাংক নিতে পারবে ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। কারণ সিএমএসএমই, ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ তদারকি বা সুপারভিশন চার্জ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যা ডিসেম্বরে ছিল ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।  এ ছাড়া ডিসেম্বরে বড় অঙ্কের ঋণে সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ব্যাংকের ক্ষেত্রে শুধু ঋণে সর্বোচ্চ সীমা থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত সংগ্রহেও সুদহারের একটা সর্বোচ্চ সীমা দেওয়া আছে। এসব প্রতিষ্ঠান স্মার্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ যোগ করে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। ‘স্মার্ট’ রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে ঋণের বিপরীতে সুদ নিতে পারবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনবিএফআই। সেই হিসাবে ডিসেম্বর মাসে তাদের সর্বোচ্চ ঋণের সুদহার হবে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং আমানতে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে জানুয়ারিতে ঠিক করা ঋণের এই সুদহার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদহার প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে স্মার্ট ছিল ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর প্রতি মাসে একটু করে বেড়ে গত মে মাসে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। জুন ও জুলাইয়ে সামান্য কমে ৭ দশমিক ১০ শতাংশে নামে। এরপর আগস্ট থেকে ধারাবাহিক সুদহার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে ৯০ দশক থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা আরোপ করা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সীমা তুলে নেওয়ার জন্য বলা হয়।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনেও সুদহারের সীমা প্রত্যাহার অথবা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় নীরব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত হলো, সুদহার বাজারভিত্তিক করা। সেই শর্তের আলোকে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য এত দিন মূলত ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে তারা। সুদের হার বাড়লে মানুষ সাধারণত ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত জুন ও জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার পর আগস্ট, সেপ্টেম্বরে মাসেও তা আবার বেড়েছে। সবশেষ গত অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা গত ১১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।  বিবিএসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে।
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ আজ
ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ (রোববার) ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। যার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। নীতি অনুযায়ী, ব্যাংক হলিডেতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিন বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যার কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। ওইদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না। এদিকে, শেয়ারবাজারের শেয়ারের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না।
ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ আজ
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনকে দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ঠিক রাখার জন্য তাই মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত পাঠাচ্ছেন বৈদেশিক মুদ্রা। লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ বিনিময় হার তুলে ধরা হলো- বৈদেশিক মুদ্রার নাম   বাংলাদেশি টাকা   ইউ এস ডলার   ১২০ টাকা ৩০ পয়সা   ইউরোপীয় ইউরো   ১৩৪ টাকা    ব্রিটেনের পাউন্ড   ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা   ভারতীয় রুপি   ১ টাকা ২৯ পয়সা   মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত   ২৬ টাকা ০৫ পয়সা   সিঙ্গাপুরের ডলার   ৯০ টাকা ০৭ পয়সা   সৌদি রিয়াল   ২৯ টাকা ২৭ পয়সা   কানাডিয়ান ডলার   ৯০ টাকা   অস্ট্রেলিয়ান ডলার   ৮২ টাকা    কুয়েতি দিনার   ৩৯৮ টাকা ৪১ পয়সা    ** যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
যে কারণে রোববার বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংকের লেনদেন
আগামীকাল রোববার ‘ব্যাংক হলিডে’ হওয়ায় ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। তবে নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। নীতি অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। ‘ব্যাংক হলিডে’তে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকে গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। এ দিন ব্যাংকগুলো বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না।  আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতি বছর দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ থাকে। অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়, শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে।   
যে কারণে রোববার বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংকের লেনদেন
বছরজুড়ে অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক
অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক অর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিচ্ছে আলোচিত বছর ২০২৩। বছরজুড়ে ভুগিয়েছে ডলার সংকট, পিছিয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি। বাজারে চলছে চরম মূল্যস্ফীতি। রেকর্ড গড়েছে খেলাপি ঋণ। ঋণ সহায়তা এগিয়ে এসেছে আইএমএফ। এ বছরই চালু হয়েছে মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। ডলার সংকট করোনা পরবর্তী ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভুগিয়েছে ২০২৩ কেও। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি কারণে দেশে ডলারের দাম বছর শেষে এখন সর্বোচ্চ উচ্চতার রেকর্ড করেছে। চাপ সামলাতে বাজারে ডলার ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সৃষ্টি হয় তীব্র সংকট। ৮৫ টাকা ডলারের দাম উঠে ১২৮ টাকা পর্যন্ত। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ খালি হয়েছে প্রায় অর্ধেক।  চরম মূল্যস্ফীতি ডলার সংকটে আমদানিতে ঋণপত্র খুলতে বাধার মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আনতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। এমন বাস্তবতায় বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। আর তার সুযোগ নিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরাও। সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন আরও দ্বিগুণ। সরকারি হিসাবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। শীত মওসুমে যেখানে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয় সবজি। এবার তার দাম প্রায় শত টাকা ছুঁই ছুঁই। শীতে আলু, পেয়াজ, ডিম ও মাংসের বাজার বেশ গরম। খেলাপি ঋণে রেকর্ড সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল ব্যাংক খাত। পরিচালনা পর্ষদের খামখেয়ালিপনায় বড় বেকায়দায় বেশ কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক। খেয়ে ফেলা হয়েছে মূলধন। দেড় লাখ কোটি টাকার উপরে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। বছর শেষে সিকদার পরিবারের আধিপত্য খর্ব করে ভেঙে ফেলা হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ। আইএমএফ’র সাপোর্ট বেশি কিছু শর্তে অর্থনীতিকে কিছুটা সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ। ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির পাশাপাশি চলতি বছরে দুটি কিস্তি ছাড় করে সংস্থাটি। ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ে চমক না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি রাজস্ব আদায়ে। অর্থবছরের পাঁচ মাসে আহরণ হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ।  পেনশন স্কিম ২০২৩ সালে বড় চমক বেসরকারি খাতের আর্থিক নিরাপত্তায় বহুল প্রতীক্ষিত সার্বজনীন পেনশন স্কিম। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কিমটির উদ্বোধন করেন। তবে টাকার মান কমে যাওয়া ও স্কিমটি চেয়ে ব্যাংকের সুদের হার বেশি থাকায়, এতে তেমন সাড়া দেয়নি দেশের মানুষ। তিন মাসে স্কিমে যুক্ত মাত্র ১৭ হাজার মানুষ। উন্নয়নের মাইলফলক বছরজুড়ে ছুঁয়েছে উন্নয়নের অনন্য মাইলফলক। এ বছরই চালু হয়েছে রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, উদ্বোধন শেষে কর্ণফুলী টানেলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি, অনন্য কারুকার্যে নির্মিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল খুলে দেয়া হয়েছে আকাশ পথে যাত্রী চলাচলের জন্যে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০২৩ এ অর্থনীতিক সংস্কার করার প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান বৃদ্ধি করার যে ব্যাপক চাহিদা সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে বের হয়ে আসছে। তাই সেটাকে আর বিলম্ব না করে দ্রুত আগামী বছরের শুরুতে যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বছরজুড়ে অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩০ ডিসেম্বর)
ফেসবুক লাইভে ইভ্যালির রাসেলের নির্বাচনী আমেজ
২১০ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার