
দেশের ব্যাংকিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো ব্যাংক খাতে এআইয়ের ব্যবহারকে নিরাপদ, নৈতিক এবং নিয়ন্ত্রিত রাখা।
নীতিমালাটি খসড়া ও বাস্তবায়নের জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষ ওয়ার্কিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম আগামী মাসে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জমা দেবে। টিম লিডার এবং আইসিটি বিভাগ-১ এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হাসান বলেন, এআই উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অনৈতিক কার্যকলাপের কারণ হতে পারে।
নতুন কাঠামোর অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রস-বর্ডার ডেটা স্থানান্তরের ঝুঁকি প্রতিরোধ করার জন্য নিজস্ব লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেল (এলএলএম) এআই সিস্টেম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। জাকির হাসানের ব্যাখ্যা অনুসারে, নিজস্ব এআই ব্যবহার করে বিদেশী সার্ভার বা নেটওয়ার্কে ডেটা যাওয়ার ঝুঁকি কার্যকরভাবে হ্রাস করা হবে।
এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো মুদ্রাস্ফীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পূর্বাভাসের মতো অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এআই লেনদেনের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার মাধ্যমে জালিয়াতি এবং অর্থপাচার প্রতিরোধের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ শতাংশ ব্যাংকের এআই সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা নেই, যেখানে ৬৮ শতাংশ ব্যাংকের পরিচালনা নীতিমালায় এআই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ ব্যাংক আংশিকভাবে প্রস্তুত এবং মাত্র ১১ শতাংশ ব্যাংক এআই বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে, মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংক তাদের দুর্যোগ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় এআই ব্যবহার করে।
আরটিভি/এআর




