ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে মুনাফা যত, কিনবেন যেভাবে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ফাইল ছবি

সঞ্চয়পত্র হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের পরিচালিত একটি বিনিয়োগ প্রকল্প, যেখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে নির্ধারিত সময় পরপর মুনাফা পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে যে টাকাটা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তাও উত্তোলন করা যায়। সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক মূলত দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা সামাল দেন এ শ্রেণির গ্রাহকরা। আবার, অনেকের প্রতি মাসের সংসার খরচের একটি অংশও আসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে।

দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে লাভজনক একটি সঞ্চয়পত্র হলো পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ১৯৭৭ সালে এই সঞ্চয়পত্র চালু করে। নতুন নির্ধারিত হারে পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক মুনাফার হার দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

যত টাকায় কেনা যায়

এই সঞ্চয়পত্র ১০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ১ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকা, ৫০ হাজার টাকা, ১ লাখ টাকা, ৫ লাখ টাকা, ১০ লাখ টাকা ও ২৫ লাখ টাকায় কেনা যায়।

যেভাবে মিলবে

জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোসহ ডাকঘর থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কেনার পাশাপাশি নগদায়ন করা যায়।

বিনিয়োগে যে পরিমাণ মুনাফা

১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে। তবে আগের মতো সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারী। আর দ্বিতীয় ধাপটি হলো ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপরে বিনিয়োগকারী।

মুনাফার হার কমেছে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও। এখন থেকে এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা কম বিনিয়োগ থাকলে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার দাঁড়াবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা ৫ বছর বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

আর দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরারা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে মুনাফা পাবেন প্রথম বছরে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে।

মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে উল্লিখিত হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হয়ে থাকলে তা মূল টাকা থেকে কেটে রেখে সমন্বয় করে অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করা হবে।

উৎসে কর

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়। তবে, এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়।

যারা কিনতে পারবেন

সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিকরা পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। এছাড়া এই বিনিয়োগ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি (২) এ সংজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিল এবং ভবিষ্যৎ তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ এর ১৯ নং) অনুযায়ী পরিচালিত ভবিষ্যৎ তহবিল।

এই বিনিয়োগ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফসিলের পার্ট-এ এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগির খামার, পেলেটেড পোলট্রি ফিডস উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন, গবাদি পশুর খামার, দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, রেশম গুটিপোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতাপাতার চাষ থেকে অর্জিত আয়। যা সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত।

অটিস্টিকদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অটিস্টিকদের সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই বিনিয়োগ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে। তবে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফা অবশ্যই অটিস্টিকদের সহায়তায় ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত হতে হবে।

এছাড়া, এই বিনিয়োগ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে দুঃস্থ ও অনাথ শিশুদের নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান (অনাথ আশ্রম, শিশু পরিবার, এতিমখানা ইত্যাদি)। অংশ নিতে পারবে প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয় কেন্দ্রও।

ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমা

ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৩০ লাখ টাকা অথবা যুগ্ম নামে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায় পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যৎ তহবিলে মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত কেনা যায়।

এছাড়া ফার্মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কেনা যায় পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। অটিস্টিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান, দুঃস্থ ও অনাথ শিশুদের নিবন্ধিত আশ্রয় প্রতিষ্ঠান (অনাথ আশ্রম, শিশু পরিবার, এতিমখানা ইত্যাদি) এবং প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয় কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা।

অন্যান্য সুবিধা

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে নমিনি নিয়োগ করা যায়। এছাড়া, সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি সঙ্গে সঙ্গেই অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণের পর সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি ধীর হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় শাপলা ফুল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও জলাশয় থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন উপজেলার তিন হাজার মানুষ।
গোপালগঞ্জে বছরে কোটি টাকার শাপলা বিক্রি
পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি।
পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
দেশের বাজারে সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিক্রি হচ্ছে সোনা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর আগে আরও এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
তিন দেশে বাড়ছে পোপা শুঁটকির চাহিদা, সাগরে কমছে মাছ
কক্সবাজার উপকূলে উৎপাদিত পোপা শুঁটকির চাহিদা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে। সুস্বাদু স্যুপের পাশাপাশি পোপা মাছের পটকা ও আঁইশ থেকে কোলাজেন, প্রসাধনী ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। চাহিদা থাকলেও সাগরে মাছের সংকটের কারণে কমছে উৎপাদন ও রপ্তানি। ফলে এ বছর নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিন দেশে বাড়ছে পোপা শুঁটকির চাহিদা, সাগরে কমছে মাছ
আরও পড়ুন
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল
সঞ্চয়পত্রের টাকা পেতে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ে চালু হচ্ছে এভিএস
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি
চিনিতে লোকসান, মদে রেকর্ড মুনাফা কেরুর