বেগমগঞ্জ ও সুনেত্রায় ৩ কূপ খননে একনেকে যাচ্ছে ৭২৯ কোটি টাকার প্রকল্প

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪৯ এএম


বেগমগঞ্জ ও সুনেত্রায় ৩ কূপ খননে একনেকে যাচ্ছে ৭২৯ কোটি টাকার প্রকল্প
তিনটি নতুন কূপ খনন করবে বাপেক্স। ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মূল্যায়ন-উন্নয়ন (অ্যাপ্রেইজাল-কাম-ডেভেলপমেন্ট) কূপ এবং দুটি অনুসন্ধানমূলক (এক্সপ্লোরেটরি) কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

'একটি মূল্যায়ন-উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধানমূলক কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্রা-২) খনন' শীর্ষক এ প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতায় বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন-উন্নয়ন কূপ, ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতায় বেগমগঞ্জ-৬ অনুসন্ধান কূপ এবং ৫ হাজার ৩০০ মিটার গভীরতায় সুনেত্রা-২ অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। গ্যাসের সন্ধান মিললে পরীক্ষণ এবং কূপ সম্পন্ন করার কাজও করা হবে। বেগমগঞ্জের দুটি কূপ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এবং সুনেত্রা-২ কূপ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় খনন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২ডি ও ৩ডি ভূকম্পন জরিপসহ ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের পর বাপেক্স প্রকল্পটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সিসমিক ডাটা ও অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-পদার্থগত (জি অ্যান্ড জি) কমিটি খননের স্থানগুলো চূড়ান্ত করেছে।

তাদের মতে, বেগমগঞ্জ কাঠামো ইতোমধ্যে সম্ভাবনাময় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বেগমগঞ্জ-৩ ও বেগমগঞ্জ-৪ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট (এমএমএসসিএফ) গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা নতুন কূপগুলোর সফলতার সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ দশমিক ৬১ একর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, রিগ ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ, দেশি-বিদেশি ড্রিলিং সরঞ্জাম সংগ্রহ, বেগমগঞ্জের কূপগুলোতে বাপেক্সের নিজস্ব রিগ ব্যবহার করে খনন এবং গভীর সুনেত্রা-২ কূপ টার্নকি ভিত্তিতে খননের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে মোট ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কূপ খননের আগে ২ডি ও ৩ডি ভূকম্পন জরিপসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনটি কূপ খননের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রকল্পের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৫৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বাপেক্স নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে ১৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তিনটি কূপ সফলভাবে খনন করে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট (এমএমএসসিএফ) গ্যাস যোগ হবে। কারিগরি মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব কূপ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭১১ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত এলএনজির সমমূল্যে এ গ্যাসের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। ফলে একদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission