ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন দেশে বাড়ছে পোপা শুঁটকির চাহিদা, সাগরে কমছে মাছ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার উপকূলে উৎপাদিত পোপা শুঁটকির চাহিদা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে। সুস্বাদু স্যুপের পাশাপাশি পোপা মাছের পটকা ও আঁইশ থেকে কোলাজেন, প্রসাধনী ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। চাহিদা থাকলেও সাগরে মাছের সংকটের কারণে কমছে উৎপাদন ও রপ্তানি। ফলে এ বছর নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বছর কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছটার একটি কারখানা থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ৭০ মেট্রিক টন পোপা শুঁটকি যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে রপ্তানি করা হয়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩০ মেট্রিক টন। এ বছর প্রায় ৮০ মেট্রিক টন রপ্তানির লক্ষ্য থাকলেও মাছের আহরণ কমে যাওয়ায় তা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি উৎপাদনকেন্দ্র কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরাটেক উপকূলে প্রায় ৭০০টি শুঁটকি মহাল রয়েছে। গত বছর এসব মহালে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। বিভিন্ন মাছের শুঁটকি উৎপাদন হলেও পোপা তৈরির প্রক্রিয়া আলাদা এবং মান নিয়ন্ত্রণও কঠোর।

উত্তর নুনিয়াছটার সাগর ফিশ এক্সপোর্টের মালিক আবিদ আহসান জানান, তার কারখানায় ২৪ ঘণ্টা পোপা শুঁটকি উৎপাদন হয়। ৩০ শ্রমিক কাজ করেন সেখানে। মহেশখালী, ঘটিভাঙ্গা, সোনাদিয়া ও চৌফলদণ্ডীর ২৮টি ট্রলার নিয়মিত মাছ সরবরাহ করে। জমিসহ কারখানায় তার বিনিয়োগ প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

গভীর সাগর থেকে বড়শি দিয়ে ধরা পোপা প্রথমে লবণমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়। এরপর নাড়িভুঁড়ি ফেলে ওয়াশিং ট্যাংকে ধুয়ে বাঁশের মাচায় রোদে শুকানো হয়। তিন-চার দিনে শুঁটকি তৈরি হলে ৩২টি গ্রেডে ভাগ করে প্যাকেটজাত করা হয়। পরে ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কোল্ড স্টোরেজে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়। তিন কেজি কাঁচা পোপা থেকে পাওয়া যায় প্রায় এক কেজি শুঁটকি।

রপ্তানিযোগ্য পোপা শুঁটকির মান নিয়ে কোনো ছাড় নেই। বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধিরা কারখানায় উপস্থিত থেকে উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ তদারকি করেন। প্রক্রিয়াজাতকরণে ত্রুটি হলে রপ্তানির জন্য পুরো চালান অযোগ্য ঘোষিত হতে পারে।

আবিদ আহসান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও চীনে প্রতি কেজি পোপা শুঁটকির দাম প্রায় ৮ ডলার। আগে তা ছিল ১২ ডলার। চাহিদা থাকলেও মাছের সংকটের কারণে রপ্তানি কমছে।

জেলেদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগের তুলনায় সাগরে পোপা মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে ১৮ প্রজাতির পোপা পাওয়া গেলেও এখন ধরা পড়ছে প্রায় ১২ প্রজাতি। বেশি দামে বিক্রি হয় কালো জাতের পোপা। নিম্নমানের বরফে সংরক্ষণ করলে শুঁটকির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় এখন অনেক জেলে মাছের পেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন।

জেলেরা আরও জানান, গভীর সাগরে মিয়ানমার, ভারত ও চট্টগ্রামের ট্রলিং জাহাজ জাল টেনে নির্বিচারে মাছ ধরছে। এতে সাগরতলের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে এবং কক্সবাজারের কাঠের ট্রলারগুলোও মাছ ধরতে সমস্যায় পড়ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, গভীর সাগরে ট্রলিং জাহাজের মাছ আহরণ তদারকির মতো আধুনিক জলযান মৎস্য বিভাগের নেই। তবে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও নৌ পুলিশের সহযোগিতায় নিষিদ্ধ কারেন্ট ও বিহিন্দি জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে।

কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, এক দশক আগে সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ, মহেশখালী ও উত্তর নুনিয়াছটা এলাকায় পোপা শুঁটকির ২৭টি কারখানা ছিল। মাছের সংকট, লোকসান, সহজ শর্তে ঋণের অভাব ও সরকারি প্রণোদনা না থাকায় এর মধ্যে ২৪টির বেশি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্যবিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ আহরণের কারণে সাগরে পোপাসহ বিভিন্ন মাছের উৎপাদন কমছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও চা শিল্পকে লাভজনক করতে কাজ করছে সরকার’
চা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
‘চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও চা শিল্পকে লাভজনক করতে কাজ করছে সরকার’
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের নতুন উদ্যোগ, মহাপরিকল্পনা
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।
জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের নতুন উদ্যোগ, মহাপরিকল্পনা
তিতাস-২৮ কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রীয় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস-২৮ নং কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। 
তিতাস-২৮ কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু
‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে’
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে।
‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে’
আরও পড়ুন
সাবেক এমপি জাফর আলম কারাগারে
কক্সবাজারে বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাসে এলো ইয়াবার পার্সেল
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে বিল পাস, ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে ভারত