এসএমই ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর যৌথ উদ্যোগে সিএমএসএমই (কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি) উদ্যোক্তাদের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলায় বিমার উদ্ভাবনী ধারণা দিয়ে ‘ইন্স্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় ৭৯ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে দু’টি প্রতিষ্ঠান—পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স এবং ব্র্যাক ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈশপ্রপাত মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারের আওতায় পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রায় ৪৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী এবং ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার।
শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সকে তাদের উদ্ভাবিত মডেলের আওতায় ১০ হাজার এবং ব্র্যাক ব্যাংককে ৫ হাজার ৫৭৫ জন সিএমএসএমই উদ্যোক্তার কাছে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ পৌঁছে দিতে হবে। পুরস্কারের অর্থ ব্যয় হবে নতুন বিমা পণ্য উন্নয়ন, বিতরণব্যবস্থায় সচেতনতা সৃষ্টি এবং বীমা ব্যবস্থাপনার পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে চারটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান—পদক্ষেপ, আরডিআরএস, সিডিআইপি ও দেশা। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। কিন্তু দেশের ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ উদ্যোক্তা। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান আরও প্রায় ১৪ শতাংশ। ফলে প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণসেবার বাইরে রয়েছেন।
এই বাস্তবতায় সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং তাদের আর্থিক ঝুঁকি কমাতে বীমাভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপি চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত প্রস্তাব আহ্বান করে। এ সময় মোট ১৮টি প্রস্তাব জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাইয়ে ১৩টি প্রস্তাব উত্তীর্ণ হয়। পরে কারিগরি সক্ষমতা, উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য, আর্থিক প্রস্তাব, বাস্তবায়নযোগ্যতা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ সিএমএসএমইর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বিবেচনায় ৫টি প্রস্তাব সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায়।
সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জুরি বোর্ডের সামনে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রথম এবং ব্র্যাক ব্যাংক দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাতেই সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে ৩ কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই শিল্পায়নে সিএমএসএমই খাতের সক্ষমতা বাড়াতে তারা জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।
আরটিভি/এমএম


