ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ব্যাগ হাতে একজন নারী উদ্যোক্তা। পুরোনো ছবি

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব জোরদারে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

সোমবার (৫ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালুর ফলে নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি)-এর মতো প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন। দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিদেশে অবস্থান করেও আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে এসব সেবা গ্রহণ করা যাবে।

এতে সরকারি দপ্তরে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসএমই খাতে অর্থায়ন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ খাতের জন্য ঋণের পরিসর ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ অর্থ ৬ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে।

নারী উদ্যোক্তারা যাতে এ ঋণ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পান, সে জন্য এসএমই বোর্ড পুনর্গঠন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বিডব্লিউসিসিআই প্রতিনিধিরা নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে তথ্যের ঘাটতি, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের জটিলতা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

এসব সমস্যা দূর করতে তারা নারী উদ্যোক্তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ডেস্ক স্থাপন এবং নিয়মিত কেন্দ্র-জেলা সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

প্রতিনিধিরা বলেন, দেশে কোন খাতে এবং কোন পর্যায়ে কতজন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ফলে তাদের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তারা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের উইমেন চেম্বারগুলোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও বিধিবিধান অনুসরণেও নানা জটিলতা রয়েছে বলে জানান তারা। এ জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ডেস্ক বা সমন্বিত সেবামঞ্চ গঠনের দাবি জানান প্রতিনিধিরা।

প্রস্তাবিত ডেস্ক থেকে ব্যবসা নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া জেলা পর্যায়ের সমস্যাগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে বছরে দুবার কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।

নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গড়ে ওঠা বিকল্প সেবামঞ্চগুলোর প্রশংসা করে বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের ব্যবসায়িক সেবাপ্রাপ্তি ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৭ অর্থবছরে ৩.৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, যা ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসের সমান। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩.৯ শতাংশ হতে পারে।
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
জবাবদিহিতা নিশ্চিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের প্রাতিষ্ঠানিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
জবাবদিহিতা নিশ্চিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
নতুন ঋণচুক্তি সই, বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ
বর্তমান বাজারদরে এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের এই ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। অর্থাৎ এই সময়ে ঋণের মূল অর্থ পরিশোধে ছাড় পাওয়া যাবে।
নতুন ঋণচুক্তি সই, বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ
ফের সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব
রমজানকে সামনে রেখে দেশে আবারও ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক দোকানেই মিলছে না ২ ও ৫ লিটারের বোতলজাত তেল। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশের স্থানীয় রিফাইনাররা। তাদের দাবি, দাম সমন্বয় করা না হলে তেল আমদানিতে নিরুৎসাহ তৈরি হতে পারে। এতে রমজানে চাহিদা বাড়ার সময় সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। গত ২ সেপ্টেম্বর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর মাত্র ২০ দিনের মাথায়, ২০ সেপ্টেম্বর নতুন করে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩২৫ ডলারে উঠেছে। এতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে রিফাইনারদের প্রায় ১৭ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি তাদের। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের দাম সমন্বয়ের আশ্বাস পাওয়ায় লোকসান সত্ত্বেও ঋণপত্র খোলা ও তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, প্রস্তাব যাচাই-বাছাই না করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হবে না। গত শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ সংকটের পর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। জুলাইয়েও আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব দেখিয়ে বাজারে সরবরাহে টান দেখা দেয়। সবশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। এর আগের সপ্তাহে এই দাম ছিল ১ হাজার ২২৩ ডলার। দেশে বছরে ২২ লাখ টনের বেশি ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বছরে ২২ থেকে ২৬ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি করা হয়। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশের সয়াবিন তেলের প্রধান সরবরাহকারী আর্জেন্টিনা। এরপর রয়েছে ব্রাজিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সয়াবিন ও সয়াবিন তেল আমদানি করে বাংলাদেশ। আরটিভি/এসকে
ফের সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব
আরও পড়ুন
সমালোচনার মুখে নিজের প্রশংসার টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে সরকারি অর্থ ব্যয় বন্ধ করলেন ট্রাম্প
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী
ইতালিতে কর্মী নিয়োগের বড় ঘোষণা, তালিকায় বাংলাদেশও
নতুন পে স্কেলে বেতন পুনর্নির্ধারণ শুরু আজ, লাগবে যেসব তথ্য