ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী টেক্সটাইল সিরিজের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স নিয়ে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স ২০২৬’। পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ আয়োজিত এবারের প্রদর্শনীতে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ‘২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’, ‘২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬-সামার এডিশন’ এবং ‘৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম, গ্রুপ সিইও এস. এস. সারওয়ার, নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম এবং গ্রুপ ডিরেক্টর অভিষেক দাস উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রদর্শনীতে ৩৭টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৭৫টি কোম্পানি অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ হাজার ২৪৫টির বেশি বুথ ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। চার দিনের আয়োজনে ১৬ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক দর্শনার্থী আসবেন বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

থাকছে প্রযুক্তি থেকে কাঁচামাল

টেক্সটেক বাংলাদেশ প্রদর্শনীতে পোশাক ও টেক্সটাইল উৎপাদনের বিভিন্ন মেশিনারি, অটোমেশন প্রযুক্তি, স্মার্ট ম্যাটেরিয়ালস ও আধুনিক উৎপাদন সরঞ্জাম গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শোতে বিভিন্ন ধরনের সুতা, কাপড়, ট্রিমস ও অ্যাকসেসরিজ প্রদর্শনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সোর্সিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ডাই + কেম বাংলাদেশে টেক্সটাইল উৎপাদনে ব্যবহৃত ডাইস্টাফ, বিশেষায়িত কেমিক্যাল ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সমাধান তুলে ধরা হবে।

গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তর

এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’। হল বি-তে এ বিশেষ জোনে পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং স্মার্ট ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হবে।

এখানে ইআরপি, অটোমেশন, ক্লাউডভিত্তিক সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি ও ডিজিটাল মেশিনারিজসহ আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের কথা রয়েছে।

আয়োজকেরা বলছেন, বৈশ্বিক পোশাক ও টেক্সটাইল বাজারে বর্তমানে উৎপাদনের স্বচ্ছতা, দ্রুত সরবরাহ, টেকসই উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নমনীয়তার বিষয়গুলো ক্রেতাদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর এবারের আয়োজন বাংলাদেশের শিল্পের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

চারটি আন্তর্জাতিক সেমিনার

প্রদর্শনীর পাশাপাশি চারটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এসব সেমিনারে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের নতুন প্রযুক্তি, টেকসই উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।

চার দিনের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি কারখানা মালিক, প্রস্তুতকারক, প্রধান নির্বাহী, উৎপাদন ব্যবস্থাপক, মার্চেন্ডাইজার, সোর্সিং কর্মকর্তা, বায়িং হাউস প্রতিনিধি, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন।

এর ফলে নতুন প্রযুক্তি ও কাঁচামাল সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নতুন সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।

সেমস-গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আয়োজিত এ প্রদর্শনী বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের যোগাযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশে গিয়ে ক্রেতা বা সরবরাহকারী খোঁজার পরিবর্তে ঢাকাতেই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, মরক্কো, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় তাদের টেক্সটাইল সিরিজের বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে এবার ২৫তম ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংযোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে আয়োজকদের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তেল, রসুন ও সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। 
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর পথে এগোচ্ছে সরকার। নতুন এ স্কিমের আইনগত ভিত্তি তৈরিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের কাঠামো, পরিচালনপদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে নতুন এ স্কিম চালু করা হলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একটি পৃথক বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো যুক্ত হবে। এতে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহী জনগোষ্ঠীর জন্য অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ স্কিমে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল পরিচালনার কাঠামো তৈরি করা হবে। তহবিলের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অন্যতম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। এ অর্থবছরের জন্য মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এ বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহক নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা কাঠামো যুক্ত হবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন এবং এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ স্কিম চালুর আগে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন স্কিম চালুর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম শুধু নতুন একটি স্কিম সংযোজনের উদ্যোগ নয়; বরং বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, অংশগ্রহণের পরিধি ও সুবিধার ধরন আরও বিস্তৃত করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠানো এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এর বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে। আরটিভি/এসকে
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে জমা টাকার ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেবে সরকার। টাকার পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
আরও পড়ুন
ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে ধরা বাংলাদেশি
শাহজালালে বিমানের ফ্লাইটে মিলল শতাধিক সোনার বার
আইইইই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সেরা ২ শতাংশে যবিপ্রবির গবেষণাপত্র
থার্ড টার্মিনাল ঘিরে শাহজালালে আসছে বড় বিনিয়োগ