
বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের আকস্মিক তারল্য সহায়তা ঘোষণার পর দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ ও ডলারের মূল্য কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি ট্রয় আউন্সে ৪ হাজার ৫১২ দশমিক ১৯ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে আগের সেশনে দাম বেড়ে ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৭৯ ডলারে উঠেছিল, যা ২ জুনের পর সর্বোচ্চ। এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) একদিনেই সোনার দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলারের মূল্য প্রায় ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে, এক ট্রয় আউন্স সোনার আন্তর্জাতিক স্পট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক ট্রয় আউন্সে ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম এবং এক ভরিতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসেবে প্রতি ভরি সোনার আনুমানিক দাম দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার টাকা।
তবে এটি আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের ভিত্তিতে করা হিসাব। বাংলাদেশে সোনার প্রকৃত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার, সোনার ক্যারেট, মজুরি, ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় দাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমার পেছনে দেশটির ট্রেজারি বিভাগের নতুন সিদ্ধান্ত ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের জন্য তারল্য সহায়তা বা বাইব্যাক কার্যক্রমের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পর এসব বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে এবং সুদ কমে যায়।
একই সময়ে মার্কিন ডলারও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে উঠেছে। এতে সোনার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ এবং সুদ পরিশোধের ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধের খরচও দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে কর কমানোর কারণে সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়ায় দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত মাসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৬৭ দশমিক ০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮১৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ১ হাজার ৩৩৯ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/এসকে


