ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০ কোটি ডলারের হাতছানি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ছাদে স্থাপিত সোলার প্যানেল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বাজারে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরঞ্জাম ও উপকরণের চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে গৃহস্থালি পর্যায়ে এ প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলে সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠতে পারে, যা জাতীয় বিদ্যুতের চাহিদার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউএবল এনার্জি প্ল্যাটফর্ম (ডিআরইপি)।

আবাসিক খাতই এ সম্ভাবনার মূল চালিকাশক্তি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৯৪ টেরাওয়াট-ঘণ্টা (টিডব্লিউএইচ) বিদ্যুৎ এ খাতে ব্যবহৃত হয়েছে। দেশের মোট ৪ কোটি ৩ লাখ পরিবারের মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখ বা ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে।

সীমিত হারে সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণের একটি পরিস্থিতি বিবেচনায়, যেখানে ১০ শতাংশ পরিবার ১ থেকে ৫ কিলোওয়াট-পিক (কেডব্লিউপি) ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবে, সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৮ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট-পিক (এমডব্লিউপি) উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন সম্ভব। এর মাধ্যমে বছরে ১৩ হাজার ৯৩৭ গিগাওয়াট-ঘণ্টা (জিডব্লিউএইচ) বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে, যা বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ পূরণ করতে পারে বলে জানিয়েছে পাঁচটি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ডিআরইপি।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মেহেদী বলেন, মাঝারি মাত্রায় এ প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে মোট ২১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। এতে বছরে ৩৪ হাজার ৫১৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে, যা জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার ৩৫ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রতি এক মেগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতা প্রতিবছর জাতীয় কোষাগারের ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা সাশ্রয় করতে পারে। এর ফলে আমদানিনির্ভর ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি প্রতি মেগাওয়াটে ৮ হাজার ১০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হয়।

হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বিশাল বাজার ১০ ধরনের হার্ডওয়্যার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের চাহিদা তৈরি করে উল্লেখযোগ্য শিল্প কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সৌর পিভি প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা। পাশাপাশি স্থাপনকারী থেকে প্রশিক্ষক ও উদ্যোক্তা পর্যন্ত পাঁচটি প্রধান পেশাগত ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত স্থাপন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা গেলে সরঞ্জাম ও উপকরণের বাজারমূল্য আনুমানিক ১ হাজার ৯৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে সৌর প্যানেলের বাজারমূল্য ৬২৮ মিলিয়ন ডলার এবং ইনভার্টারের ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার।

এ খাতের সম্প্রসারণে বিপুল কর্মসংস্থানেরও সুযোগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুতের প্রতি ১ কিলোওয়াট সক্ষমতায় গড়ে ২ দশমিক ৫২টি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এমনকি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা ৫০ শতাংশ ধরা হলেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে প্রায় ১৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

বাজারের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে এ খাতে সক্ষমতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিপিডির গবেষণা সহযোগী মো. মেহেদী হাসান শামীম বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে নেট মিটারিংয়ের আওতায় ৪ হাজার ৫৫১টি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মোট সক্ষমতা ২১৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ স্থাপনাই ঢাকা বিভাগে।

তিনি বলেন, সরকার ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্রে (আরইএসপি) ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট করেছে।

তবে ভোক্তা ও শিল্প উভয় পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ক্লিনের এক জরিপ অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে জনসচেতনতার হার ৮৭ শতাংশ হলেও মাত্র ২১ শতাংশ মানুষ মনে করেন সৌরবিদ্যুৎ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। অন্যদিকে, ২৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সৌর প্যানেলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নেই।

অ্যাকশনএইডের ব্যবস্থাপক আবুল আজাদ বলেন, সরঞ্জাম কেনার জন্য উচ্চ প্রাথমিক ব্যয়, পরিবারের অনিয়মিত আয় এবং সহজলভ্য ঋণ সুবিধা সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা এ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও নানা জটিলতা রয়েছে। জটিল ঋণপ্রক্রিয়া, আমদানিকৃত উপকরণের ওপর উচ্চ হারে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার পরিদর্শন ও জাতীয় গ্রিডে সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সিপিডি আবাসিক গ্রাহকদের নেট মিটারিংয়ের যোগ্যতার শর্ত সহজ করার পাশাপাশি অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল আবেদন প্ল্যাটফর্ম চালুর সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া সংস্থাটি বিশেষ ঋণ সুবিধা, আংশিক ঋণ নিশ্চয়তা এবং ‘পে-অ্যাজ-ইউ-সেভ’ বা সাশ্রয়ের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের মতো অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছে।

সিপিডি, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) এবং সোলশেয়ার মূলধনি ব্যয় কমাতে পিভি প্যানেল ও লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) ব্যাটারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামকে শূন্য শুল্কের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।

তারা কম উৎপাদনশীল বা অকার্যকর ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চিহ্নিত, মূল্যায়ন ও পুনরুদ্ধারের জন্য একটি জাতীয় পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুরও সুপারিশ করেছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তাদের আস্থা পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে ছোট আকারের বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য আমদানিকৃত আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি এবং পুরোনো সোলার হোম সিস্টেমগুলোকে হাইব্রিড ও গ্রিড-সংযুক্ত ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করে পুনরায় কার্যকর করার বিষয়ও রয়েছে। এর ফলে এসব সম্পদ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকবে না। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৩০ ব্যাংকের বন্ধ এটিএম ও অনলাইন সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ বা ব্যাহত থাকা প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির পরিচালিত কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর ফলে কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব কিউ-ক্যাশের সুইচিং কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্ডভিত্তিক সেবা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব ব্যাংক সরাসরি এনপিএসবির সঙ্গে যুক্ত, সেসব ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও অন্যান্য পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের লেনদেনও স্বাভাবিকভাবে চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ), বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস)সহ অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেমও স্বাভাবিক রয়েছে। সম্প্রতি কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ে। ব্যাংকভেদে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস), কার্ড লেনদেন, আন্তব্যাংক অর্থ স্থানান্তর ও কিউআর পেমেন্টসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজন হলে বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
৩০ ব্যাংকের বন্ধ এটিএম ও অনলাইন সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
মার্কিন ডলারের দর ও ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী অবস্থানের বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন তারা।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, ফ্রান্সের বন্ডবাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে সোনার নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা দেখা যাচ্ছে। সোমবার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কিছুটা কমেছে। একই সময়ে এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ডলারের দরও কমেছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনার তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। ইউরোজোনের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বাজেট ঘাটতি বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। চলতি বছরে আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে এতে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ২২ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন হচ্ছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা এবং জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে তেলের দাম কমেছে। তবে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাপ থাকলেও স্বর্ণের বাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে টিডি সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, ২০২৭ সালে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে উঠবে বলে তারা মনে করছেন। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ০১ ডলারে রয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬০ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আরটিভি/এসআর
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে: বিশ্বব্যাংক
একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং বিদ্যমান নগদ অর্থ কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশে অতিরিক্ত ২৮.৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের নতুন হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  সবশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ কার্যক্রম অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়েছে, রপ্তানি তার গতি হারিয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহতভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।  পাশাপাশি আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা ঋণ মধ্যস্থতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সীমিত রাজস্ব সংস্থানের কারণে সরকারি বড় বিনিয়োগ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব বৈরী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সহায়তায় বাহ্যিক খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ ক্রমান্বয়ে সহজ হওয়া এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত হলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বেসরকারি বিনিয়োগ-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, দরিদ্রদের সুরক্ষার পাশাপাশি আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে সাড়া দিতে হবে। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি একপ্রকার থমকে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক নারী তাদের চাকরি হারিয়েছেন। এদিকে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক দুর্বলতা আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০.৬ শতাংশ থেকে আরও বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  দেশের রাজস্ব আদায়ের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক; জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হচ্ছে যা বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায় এবং এর ফলে প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক খাতে সরকারি ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ অর্থবছরের ৩.৫ শতাংশ থেকে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩.৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি এবং কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে কিছুটা রক্ষা করতে সাহায্য করলেও বাস্তবতায় প্রায় অর্ধেক দরিদ্রতম পরিবার কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার মধ্যেই নেই। বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নততর লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে এই সামাজিক কর্মসূচিগুলোর দারিদ্র্য-প্রতিরোধমূলক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। একটি অধিক সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে পারে যে সরকারের সীমিত সম্পদ যেন প্রকৃত দরিদ্র ও দুর্বল পরিবারগুলোর কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে তা লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আওতার ঘাটতি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ মূলত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদ’-এর একটি পরিপূরক অংশ হিসেবে আজ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এদিকে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বিভিন্ন বৈশ্বিক ধাক্কার মুখেও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলটি অসাধারণ স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, যার ফলে এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। আরটিভি/এসআর
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে: বিশ্বব্যাংক
৭০ বছর পর চালু হল আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন
প্রায় ৭০ বছর পর ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে আবারও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য শুরু হয়েছে। 
৭০ বছর পর চালু হল আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন
তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি
জুলাই-সেপ্টেম্বরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।
তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি
আরও পড়ুন
ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তায় সারাদেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’
ঢাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা
সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ