ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ই-টিন সার্টিফিকেট আছে কিন্তু আয় নেই, ‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করবেন যেভাবে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

টিন সার্টিফিকেট থাকলেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিল করা আর আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে রিটার্ন দাখিল করেও করের পরিমাণ শূন্য হতে পারে। সাধারণভাবে এটিই ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ হিসেবে পরিচিত।

২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি করদাতাদের ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন করবর্ষের ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা।

তবে ‘জিরো রিটার্ন’ মানে রিটার্নের সব ঘরে শূন্য বসিয়ে দেওয়া নয়। আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্যই দিতে হবে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তীতে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

১. এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আগে নিবন্ধন করা থাকলে টিন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

প্রথমবার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ ডিজিটের টিন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এনআইডিতে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।

২. ‘রিটার্ন সাবমিশন’ নির্বাচন করুন

লগইন করার পর ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে অ্যাসেসমেন্টের তথ্য এবং আয়ের বিভিন্ন খাত পূরণের সুযোগ আসবে।

সব তথ্য একসঙ্গে পূরণ করতে না পারলে ধাপে ধাপে তথ্য দিয়ে সেভ করে রাখা যায়। পরে আবার লগইন করে বাকি তথ্য পূরণ করা সম্ভব।

৩. আয় না থাকলেও সব ঘর ফাঁকা রাখবেন না

এ পর্যায়েই অনেক করদাতা ভুল করেন। আয় নেই বা করযোগ্য আয় নেই—এমন পরিস্থিতিতে সব ঘর ফাঁকা রেখে দেওয়া ঠিক নয়।

নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, জিরো ট্যাক্স মানে সবকিছু শূন্য নয়। আপনার ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকলে, কোনো সম্পদ থাকলে বা বাস্তবে কোনো ব্যয় হয়ে থাকলে তা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৪. ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের করমুক্ত সীমা জানুন

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।

নারী ও ৬৫ বছর বয়সী বা তার বেশি বয় করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর বিধান রয়েছে। তবে মা-বাবা দুজনই করদাতা হলে এ সুবিধা একজনই পাবেন।

তবে আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও রিটার্নে সম্পদ, ব্যয় ও দায়ের তথ্য শূন্য দেখানো যাবে না।

৫. ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশ যাচাই করুন

সব তথ্য দেওয়ার পর রিটার্নের হিসাব অনুযায়ী সিস্টেম প্রদেয় করের পরিমাণ দেখাবে।

প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রদেয় করের পরিমাণ শূন্য আসে, তাহলে সেটিই জিরো ট্যাক্স রিটার্নের পরিস্থিতি।

কোনো উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর পরিশোধ করা থাকলে সেটিও সঠিকভাবে ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে উল্লেখ করতে হবে।

৬. সাবমিটের আগে পুরো রিটার্ন দেখে নিন

সব তথ্য পূরণ করার পর ‘রিটার্ন ভিউ’ থেকে পুরো রিটার্নটি দেখে নিতে হবে।

বিশেষ করে নিজের নাম, টিন, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং করের হিসাব ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সাবমিট করার আগেই সংশোধন করুন।

৭. সাবমিট করলেই রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন

সব তথ্য সঠিক থাকলে রিটার্ন সাবমিট করুন।

এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পর অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয় এবং অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ট্যাক্স সার্টিফিকেটও তৈরি হয়।

পরে ট্যাক্স রেকর্ড মেনু থেকে এসব নথি দেখা, সংরক্ষণ ও প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করা যায়।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে প্রণোদনার সুযোগ

২০২৬-২০২৭ করবর্ষে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। এনবিআর জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই নিশ্চিতভাবে ৫ শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। প্রণোদনা ব্যক্তির করযোগ্য আয় ও প্রদেয় করের ওপর নির্ভর করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়ার সময় আয়, সম্পদ, ব্যয় বা দায় ইচ্ছাকৃতভাবে শূন্য দেখাবেন না। আপনার আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও রিটার্নে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে।

কারণ রিটার্নে শুধু আয় নয়, বাংলাদেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ করার বিষয় রয়েছে।

অর্থাৎ, জিরো ট্যাক্স রিটার্নের সঠিক পদ্ধতি হলো—প্রকৃত তথ্য দিয়ে ই-রিটার্ন পূরণ করা, হিসাব শেষে প্রদেয় কর শূন্য আসা নিশ্চিত করা এবং এরপর অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করা।

আরটিভি/ এসকেডি


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সার আমদানি কমাতে ৩ বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ
দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় তিনটি সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সার আমদানি কমাতে ৩ বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ
জাপানের সঙ্গে মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, হবে উড়ালপথ ও ৮ স্টেশন
রাজধানীতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ডিপোর অবকাঠামো, ১১.৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
জাপানের সঙ্গে মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, হবে উড়ালপথ ও ৮ স্টেশন
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
আন্তর্জাতিক মানের ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিতে পপুলার ও কেএনএস কানাডার নতুন সমঝোতা
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড ও কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর মধ্যে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সমঝোতা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিতে পপুলার ও কেএনএস কানাডার নতুন সমঝোতা
টেকসই পোশাকশিল্পের রূপান্তর তুলে ধরবে বাটেক্সপোর ইমপ্যাক্ট জোন
বিশ্ববাজারে পোশাক উৎপাদনের মানদণ্ড ও প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন সংক্রান্ত উদ্যোগ তুলে ধরবে বাটেক্সপো ২০২৬-এর  ‘ইমপ্যাক্ট জোন’। বাটেক্সপোর  এ ‘ইমপ্যাক্ট জোনে’ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পুনর্ব্যবহার, চক্রাকার অর্থনীতি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে পোশাকশিল্পের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জন তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি লিঙ্গসমতা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশুযত্ন এবং মাতৃসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিজিএমইএ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তনশীল নীতিমালা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল পণ্য পরিচিতিপত্রসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অনুসরণযোগ্যতা ও পণ্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও প্রদর্শন করা হবে এবারের বাটেক্সপোতে। প্রচলিত নিয়মনীতি পরিপালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে টেকসই উৎপাদন, স্বচ্ছতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার মাধ্যমে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি তুলে ধরাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ইমপ্যাক্ট জোন সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জলবায়ু সুরক্ষা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতির যুগে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যে সামগ্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটবে এ আয়োজনে। এটি কেবল নিয়মনীতি পরিপালনের বিষয় নয় বরং বৈশ্বিক বাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পের দায়িত্বশীল অগ্রযাত্রার প্রতিফলন। এবিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, বৈশ্বিক টেকসই উৎপাদনের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে অর্জন করতে হবে। এ আয়োজনে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, চক্রাকার অর্থনীতি, শ্রমিককল্যাণ ও ডিজিটাল অনুসরণযোগ্যতায় শিল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। উল্লেখ্য, পিডিএসের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বিজিএমইএর ব্যবস্থাপনায় বাটেক্সপোর রজতজয়ন্তী সংস্করণ আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। আরটিভি/এসআর
টেকসই পোশাকশিল্পের রূপান্তর তুলে ধরবে বাটেক্সপোর ইমপ্যাক্ট জোন