ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

একই মাঠে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে সাফল্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পিএম
হুগলীপাড়া গ্রামের মাঠ। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের সদর উপজেলার কাউগাঁ হুগলীপাড়া গ্রামের মাঠে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ৫২টি উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ প্রদর্শনীর সফলতা অর্জন করেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনাজপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে এই ধরনের ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম অন্যতম একটি উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ প্রদর্শনীর সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি গ্রাম এলএসটিডি প্রকল্পের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগগুলোর একটি অন্যতম পদক্ষেপ। দিনাজপুর প্রযুক্তি গ্রাম হুগলীপাড়ায় ব্রি উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের ৫২ জাতের ধান নিয়ে ‘রাইস গার্ডেন’ গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে একইসঙ্গে বিভিন্ন জাতের ধান পাশাপাশি দেখে কৃষক ধান জাতের জীবনকাল, গাছের বৈশিষ্ট্য, ফলনের সম্ভাবনা ও স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন। মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ ও কৃষকদের অংশ গ্রহণমূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কৃষক শুধু প্রযুক্তির কথা শুনছেন না। এর ফলাফল ধানক্ষেত নিজে দেখে নিজের পরিচিত পরিবেশে জমির উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন করতে সহজেই পারছেন।

ধান চাষে কৃষিতে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রদর্শনীর ধান চাষ করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকদের নিয়ে এসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা এই মাঠের ধান চাষ প্রদর্শনীর সব বিষয় স্বচক্ষে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন। এরফলে কৃষকরা আগামী দিনে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা করছেন।

এই প্রকল্পের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ আলী জানান, প্রযুক্তি গ্রামের উদ্দেশ্য হলো- ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ধানের জাত কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয়করণ ও কৃষকের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ধান চাষে অধিক ফলন উৎপাদন করা। এর মাধ্যমে কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যে নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি জানান, গত বছর থেকে দিনাজপুর সদর উপজেলার কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে আউশ আমন ও বোরো ৩টি মৌসুমে সকল জাতের ধান রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে কৃষক ও আগ্রহীরা স্বচক্ষে এক সাথে বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে তুলনা করে নিজেদের উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন করতে পারছেন। এ ছাড়া কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজন এমন গবেষণা সরাসরি কৃষকদের প্রদর্শন করা হচ্ছে। যাতে তারা আধুনিক প্রদ্ধতি ও উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ সম্পর্কে খুব সহজে জানতে পারছেন। প্রযুক্তি গ্রামে কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জমির উপযোগী বিভিন্ন জাত প্রদান করা হয়। যাতে প্রত্যেকটি কৃষক নিজেরা সঠিক পদ্ধতি অনুযায়ী ধান চাষ করতে পারে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সঠিক প্রয়োগের কলা-কৌশল সম্পর্কে কারিগরি ধারণা দেওয়া হচ্ছে এবং আধুনিক ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে প্রযুক্তি গ্রামে কৃষি যন্ত্রের প্রায়োগিক দিক তুলে ধরা হচ্ছে। এলএসটিডি প্রকল্পের এই উদ্যোগের আওতায় দিনাজপুর হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ৫২ জাতের রাইস গার্ডেন। এতে একইসঙ্গে ৫২ জাতের ধান প্রদর্শন করা হচ্ছে। যাতে কৃষক বাস্তবে উৎপাদিত ধানের ফলন দেখে নিজের জমির উপযোগী জাত নিজেই নির্বাচন করে চাষ করতে পারেন।

তিনি বলেন, এমনভাবে এই প্রদর্শনী মাঠে সাজানো হয়েছে, ধানের মাঠই যখন পাঠশালা, আর ধানের গাছ গুলোই যখন শিক্ষার উপকরণ, তখন কৃষকের শেখার সুযোগ হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী। হুগলীপাড়া গ্রামে একই মাঠে চাষ করা হয়েছে ৫২ জাতের আমন ধান। পাশাপাশি বেড়ে ওঠা এসব ধানের বৈশিষ্ট্য সরাসরি দেখে উপযোগী জাত সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নে হুগলীপাড়া গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই ‘রাইস গার্ডেন’। দুই বছর আগেও সাধারণ গ্রাম হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান সম্পর্কে কৃষকদের বাস্তব ধারণা দেওয়া এবং উন্নত জাতের চাষে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই হুগলীপাড়া গ্রাম। মহাসড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দুই পাশে সবুজ ধানের মাঠ। মাঠের বিভিন্ন অংশে সারি সারি করে চাষ করা হয়েছে ৫২ জাতের আমন ধান। প্রতিটি জাতের জমিতে সাইনবোর্ড দিয়ে ধানের নাম ও পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি’র দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে চলতি আমন মৌসুমে এই রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহজভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি করে তাদের উপযোগী জাত নির্বাচনে সহায়তা করা।

দিনাজপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি সূত্রে জানা যায়, রাইস গার্ডেনে বিআর-৩, বিআর-৪, বিআর-৫, বিআর-১০, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩ ও বিআর-২৫ জাতের ধান রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ব্রি ধান-৩০, ব্রি ধান-৩১, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৩৩, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৩৭, ব্রি ধান-৩৮, ব্রি ধান-৩৯, ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৪, ব্রি ধান-৪৬, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২, ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪, ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৫৭, ব্রি ধান-৬২, ব্রি ধান-৬৬, ব্রি ধান-৭০, ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭২, ব্রি ধান-৭৩, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৭৬, ব্রি ধান-৭৭, ব্রি ধান-৭৮, ব্রি ধান-৭৯, ব্রি ধান-৮০, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯১, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪, ব্রি ধান-৯৫, ব্রি ধান-১০৩, ব্রি ধান-১০৯, ব্রি ধান-১১০, ব্রি ধান-১১১ ও ব্রি ধান-১১২। পাশাপাশি রয়েছে ব্রি হাইব্রিড ধান-৪ ও ব্রি হাইব্রিড ধান-৬।

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগে বাংলাদেশে কি কি জাতের ধান চাষ হতো, কোন জাতের ধান কিভাবে চাষ করতে হয় এবং কোন ধান কত দিনে পরিপক্ব হয়, সে সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা ছিল না। এখন আমাদের এলাকাতেই বিভিন্ন জাতের ধান সরাসরি মাঠে দেখে এসব বিষয়ে জানতে পারছি। এতে আগামী বছর নিজের জমিতে কোন জাতের ধান চাষ করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা দিনাজপুর ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম জাহান বলেন, স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট
রমজান শুরু হওয়ার এখনো কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে ছোলার কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বাজারে। পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়ে গেছে  প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকটও; বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। সেইসঙ্গে এখনো চড়া মাছের বাজার।
রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট
প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি ছয় মাসে বেড়েছে ২১৭ শতাংশ
এ বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের গবাদিপশু পণ্যের রপ্তানি ২১৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩২.৯৯ লাখ মার্কিন ডলার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাংস ও ডিমের উৎপাদন জাতীয় চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মাথাপিছু সরবরাহের পরিমাণ এখন ন্যূনতম পুষ্টি চাহিদার চেয়েও বেশি। দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০.৭০ লাখ টন মাংস এবং ২ হাজার ৫০৯.৪১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে বছরে আনুমানিক ৭৮.১৪ লাখ টন মাংস এবং ১ হাজার ৮৫৫.৩৬ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দুধের উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় কম। উৎপাদন বাড়ার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন মাংস পাওয়া যাচ্ছে মাথাপিছু ১৩৯.২৯ গ্রাম, যা ন্যূনতম ১২০ গ্রামের চাহিদার চেয়ে বেশি। বর্তমানে বাৎসরিক মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ৫০.৮৪ কেজি, যেখানে ন্যূনতম চাহিদা ৪৩.৮ কেজি। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, বাৎসরিক মাথাপিছু মাংস খরচের পরিমাণ মাত্র ১৪ কেজি। একইভাবে, বাৎসরিক মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১০৪টি। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই এক দশকে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ২৬.৭৮ শতাংশ এবং ৬৮.০৪ শতাংশ বেড়েছে। মাংস উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে ব্রয়লার মুরগি থেকে, যা এখন জাতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে ডিমের উৎপাদনও জাতীয় চাহিদা পূরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক দশকে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৫৭.৫৩ লাখ টনে পৌঁছালেও, তা এখনো বছরে ১৬২.৭৯ লাখ টনের বার্ষিক চাহিদার চেয়ে কম। প্রতিদিন মাথাপিছু দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৪১ মিলিমিটার, যেখানে আনুমানিক চাহিদা ২৫০ মিলিমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাংসের উৎপাদন পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৮৯.৫৪ লাখ টন থেকে ১.১৬ লাখ টন বেড়ে ৯০.৭০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ডিমের উৎপাদনও ২.৮৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৪০.৬৫ কোটি থেকে ২ হাজার ৫০৯.৪১ কোটি পিসে পৌঁছেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং গরু ও পোল্ট্রির জাত উন্নয়নকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সব পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও এই খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে। রপ্তানি পরিস্থিতির বিষয়ে শাহজামান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গবাদিপশু পণ্য রপ্তানি করে ১৫৪.৪৭ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৯৩.০৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ৮২.০৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ১০২.৫৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পণ্যের গুণগত মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) প্রয়োজনীয়তা পূরণ, হিমাগার সুবিধার উন্নয়ন এবং রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা চলমান রাখতে নতুন নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজার কাজও চলছে। এই খাতের উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, দেশের গবাদিপশু উৎপাদন বর্তমান স্তরের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।      তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বছরে গড়ে ১৪০টির মতো ডিম খায়, অথচ উন্নত দেশগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ৪০০। বাংলাদেশে মুরগির মাংস খাওয়ার হারও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম গবাদিপশু পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রধানত অদক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে মাংস, দুধ ও ডিমের দাম প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বেশি। তিনি তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এবং কর্পোরেট গোষ্ঠী যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা দাম কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পশুপালন, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিস্তৃত বিতরণের তাগিদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে মিল্কিং মেশিন, ঘাস কাটার যন্ত্র, ট্রাক্টর, খড় কাটার যন্ত্র, মিল্ক ক্যান, ক্রিম সেপারেটর ও পাস্তুরাইজেশন প্ল্যান্ট। ড. আলম বলেন, কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যান্ত্রিকীকরণ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি খামারকে আধুনিক উৎপাদন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। বিএলআরআই-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল হক কৃষি খাতের মতো গবাদিপশু খামারিদেরও প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি পশু শনাক্তকরণ ও তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, প্রাণিসম্পদ নীতি ও আইন আরও শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিমা সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।  গবেষণা এবং বিদেশ থেকে উপযুক্ত জাতসহ উচ্চফলনশীল ও সংকর জাত আনার মাধ্যমে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের পরামর্শ দেন তিনি। ড. হক বলেন, খামারি ও ভোক্তা উভয় পক্ষ যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য সরকারের একটি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো উচিত। বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে একটি প্রাণিসম্পদ বিপণন বিভাগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বছরে প্রায় এক শতাংশ হারে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গবাদিপশু উৎপাদন সম্প্রসারণের এখনো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ পরিবারগুলো ব্রয়লার, লেয়ার, গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করে এই খাতের প্রসারে অবদান রাখতে পারে। যা মাংস, দুধ ও ডিমের রপ্তানি সম্ভাবনা নতুন খামার গড়ে তুলতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে এর অবদান ছিল ১৬.৫৬ শতাংশ। দেশের প্রায় ৪৩.৬৪ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের সঙ্গে যুক্ত। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় ৫০ শতাংশ পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে ৪৩,৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। আরটিভি/এসআর  
প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি ছয় মাসে বেড়েছে ২১৭ শতাংশ
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা
কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস। এর ফলে বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন কৃষকরা। 
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার ‘আগাম বার্তা’ পাবেন কৃষকরা
কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে ‘বিনা’র বিপ্লব
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২২টি ফসলের মোট ১৩৯টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ৯৬টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে সরাসরি মিউটেশন ব্রিডিং বা বিকিরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে ‘বিনা’র বিপ্লব
কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক, চাঙা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে ঋণের বোঝা থেকে স্বস্তি পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হচ্ছে।
কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক, চাঙা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
আরও পড়ুন
বিগত সরকারের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার এই মাটিতেই হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
‘মিথ্যা মামলায়' ফাঁসানোর প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
রাতের আঁধারে ৬০০ শিমগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, বুকফাটা আর্তনাদ কৃষকের
দিনাজপুরে আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে গণশুনানি অনুষ্ঠিত