ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

একই মাঠে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে সাফল্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পিএম
হুগলীপাড়া গ্রামের মাঠ। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের সদর উপজেলার কাউগাঁ হুগলীপাড়া গ্রামের মাঠে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ৫২টি উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষ প্রদর্শনীর সফলতা অর্জন করেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনাজপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে এই ধরনের ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম অন্যতম একটি উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ প্রদর্শনীর সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি গ্রাম এলএসটিডি প্রকল্পের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগগুলোর একটি অন্যতম পদক্ষেপ। দিনাজপুর প্রযুক্তি গ্রাম হুগলীপাড়ায় ব্রি উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের ৫২ জাতের ধান নিয়ে ‘রাইস গার্ডেন’ গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে একইসঙ্গে বিভিন্ন জাতের ধান পাশাপাশি দেখে কৃষক ধান জাতের জীবনকাল, গাছের বৈশিষ্ট্য, ফলনের সম্ভাবনা ও স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন। মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ ও কৃষকদের অংশ গ্রহণমূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কৃষক শুধু প্রযুক্তির কথা শুনছেন না। এর ফলাফল ধানক্ষেত নিজে দেখে নিজের পরিচিত পরিবেশে জমির উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন করতে সহজেই পারছেন।

ধান চাষে কৃষিতে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রদর্শনীর ধান চাষ করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকদের নিয়ে এসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা এই মাঠের ধান চাষ প্রদর্শনীর সব বিষয় স্বচক্ষে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন। এরফলে কৃষকরা আগামী দিনে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা করছেন।

এই প্রকল্পের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ আলী জানান, প্রযুক্তি গ্রামের উদ্দেশ্য হলো- ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ধানের জাত কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয়করণ ও কৃষকের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ধান চাষে অধিক ফলন উৎপাদন করা। এর মাধ্যমে কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যে নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি জানান, গত বছর থেকে দিনাজপুর সদর উপজেলার কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে আউশ আমন ও বোরো ৩টি মৌসুমে সকল জাতের ধান রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে কৃষক ও আগ্রহীরা স্বচক্ষে এক সাথে বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে তুলনা করে নিজেদের উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন করতে পারছেন। এ ছাড়া কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজন এমন গবেষণা সরাসরি কৃষকদের প্রদর্শন করা হচ্ছে। যাতে তারা আধুনিক প্রদ্ধতি ও উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ সম্পর্কে খুব সহজে জানতে পারছেন। প্রযুক্তি গ্রামে কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জমির উপযোগী বিভিন্ন জাত প্রদান করা হয়। যাতে প্রত্যেকটি কৃষক নিজেরা সঠিক পদ্ধতি অনুযায়ী ধান চাষ করতে পারে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সঠিক প্রয়োগের কলা-কৌশল সম্পর্কে কারিগরি ধারণা দেওয়া হচ্ছে এবং আধুনিক ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে প্রযুক্তি গ্রামে কৃষি যন্ত্রের প্রায়োগিক দিক তুলে ধরা হচ্ছে। এলএসটিডি প্রকল্পের এই উদ্যোগের আওতায় দিনাজপুর হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ৫২ জাতের রাইস গার্ডেন। এতে একইসঙ্গে ৫২ জাতের ধান প্রদর্শন করা হচ্ছে। যাতে কৃষক বাস্তবে উৎপাদিত ধানের ফলন দেখে নিজের জমির উপযোগী জাত নিজেই নির্বাচন করে চাষ করতে পারেন।

তিনি বলেন, এমনভাবে এই প্রদর্শনী মাঠে সাজানো হয়েছে, ধানের মাঠই যখন পাঠশালা, আর ধানের গাছ গুলোই যখন শিক্ষার উপকরণ, তখন কৃষকের শেখার সুযোগ হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী। হুগলীপাড়া গ্রামে একই মাঠে চাষ করা হয়েছে ৫২ জাতের আমন ধান। পাশাপাশি বেড়ে ওঠা এসব ধানের বৈশিষ্ট্য সরাসরি দেখে উপযোগী জাত সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নে হুগলীপাড়া গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই ‘রাইস গার্ডেন’। দুই বছর আগেও সাধারণ গ্রাম হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান সম্পর্কে কৃষকদের বাস্তব ধারণা দেওয়া এবং উন্নত জাতের চাষে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই হুগলীপাড়া গ্রাম। মহাসড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দুই পাশে সবুজ ধানের মাঠ। মাঠের বিভিন্ন অংশে সারি সারি করে চাষ করা হয়েছে ৫২ জাতের আমন ধান। প্রতিটি জাতের জমিতে সাইনবোর্ড দিয়ে ধানের নাম ও পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রি’র দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে চলতি আমন মৌসুমে এই রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহজভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি করে তাদের উপযোগী জাত নির্বাচনে সহায়তা করা।

দিনাজপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি সূত্রে জানা যায়, রাইস গার্ডেনে বিআর-৩, বিআর-৪, বিআর-৫, বিআর-১০, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩ ও বিআর-২৫ জাতের ধান রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ব্রি ধান-৩০, ব্রি ধান-৩১, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৩৩, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৩৭, ব্রি ধান-৩৮, ব্রি ধান-৩৯, ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৪, ব্রি ধান-৪৬, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২, ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪, ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৫৭, ব্রি ধান-৬২, ব্রি ধান-৬৬, ব্রি ধান-৭০, ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭২, ব্রি ধান-৭৩, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৭৬, ব্রি ধান-৭৭, ব্রি ধান-৭৮, ব্রি ধান-৭৯, ব্রি ধান-৮০, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯১, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪, ব্রি ধান-৯৫, ব্রি ধান-১০৩, ব্রি ধান-১০৯, ব্রি ধান-১১০, ব্রি ধান-১১১ ও ব্রি ধান-১১২। পাশাপাশি রয়েছে ব্রি হাইব্রিড ধান-৪ ও ব্রি হাইব্রিড ধান-৬।

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগে বাংলাদেশে কি কি জাতের ধান চাষ হতো, কোন জাতের ধান কিভাবে চাষ করতে হয় এবং কোন ধান কত দিনে পরিপক্ব হয়, সে সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা ছিল না। এখন আমাদের এলাকাতেই বিভিন্ন জাতের ধান সরাসরি মাঠে দেখে এসব বিষয়ে জানতে পারছি। এতে আগামী বছর নিজের জমিতে কোন জাতের ধান চাষ করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা দিনাজপুর ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম জাহান বলেন, স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ‘বড় পরিকল্পনা’ সরকারের
আমদানির বিপুল ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ‘বড় পরিকল্পনা’ সরকারের
বাজারে সরবরাহ প্রচুর, তবুও দাম তুঙ্গে
রাজধানীর কাঁচাবাজারে এসেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে সরবরাহ বাড়লেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে জানিয়েছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কমেছে ডিমের দাম।
বাজারে সরবরাহ প্রচুর, তবুও দাম তুঙ্গে
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা
দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর হিলি উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কাঁচামরিচের চাষাবাদ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে কাঁচামরিচ চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার মরিচের ফলনও হয়েছে চমৎকার। কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি বাজারে চড়া দাম পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার মরিচ চাষিরা।
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি
অনুকূল আবহাওয়া ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির ফলে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হওয়া এবং সুষম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা এবার অধিক পরিমাণে রোপা আমনের চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
রোববার (৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
আরও পড়ুন
সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
মালদ্বীপে যাওয়ার পরদিনই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু
ছাগলে শিমগাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা-মারধর, এক নারীসহ আহত ৩ জন
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা