ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাব বেড়ে ২৭.২২ মিলিয়ন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা হিসাবের সংখ্যা ২০২৬ সালের জুন শেষে বেড়ে ২৭.২২ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন, এপ্রিল-জুন ২০২৬’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৩০টি ব্যাংক ১৫ হাজার ৪২৪ জন এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত ২০ হাজার ৫৯৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছিল। এ সময়ে এজেন্টের সংখ্যা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং আউটলেটের সংখ্যা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

মোট ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ২৫৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মধ্যে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৮টি বা প্রায় ৫০ শতাংশ হিসাব নারীদের। আর ২ কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৫টি হিসাব বা ৮৫ শতাংশ হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন। প্রান্তিকে নারী গ্রাহকদের হিসাব ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা পুরুষ গ্রাহকদের হিসাব বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানতও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১৯,০৭২.৯২ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ আমানত ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে আরও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুন শেষে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৮,৭০৩.৯৭ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের গতি বাড়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২৬২,২৬৩.৯৯ মিলিয়ন টাকা পেয়েছেন গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা। তবে নারীরা পেয়েছেন মাত্র ৫২,০০২.০৬ মিলিয়ন টাকা বা মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এতে নারীদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ আরও বাড়ানোর যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে আসা রেমিট্যান্স বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। জুন শেষে এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,১৪৯.০৪১ মিলিয়ন টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ পরিমাণ ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট রেমিট্যান্সের ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ পেয়েছেন গ্রামীণ এলাকার সুবিধাভোগীরা। এতে দেশের বড় শহরগুলোর বাইরে বসবাসকারী মানুষের কাছে রেমিট্যান্স পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ-আমানত অনুপাত বৃদ্ধির ফলে এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্যোক্তা হিসেবেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাংক ১ হাজার ৭৭৬ জন নারী উদ্যোক্তার মালিকানাধীন ২ হাজার ১০৬টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন আউটলেটগুলো দেশের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এসব আউটলেটে ২৩ লাখ ৪০ হাজার হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ লাখ ৪০ হাজার হিসাব গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের।

বাংলাদেশে ব্যাংক ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকরা আমানত, ঋণ, রেমিট্যান্স, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, সেপ্টেম্বরের ৩০ দিনে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, সেপ্টেম্বরের ৩০ দিনে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা
ক্যাশলেস লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না: অর্থমন্ত্রী
ক্যাশলেস বাংলাদেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআর কোড ভিত্তিক লেনদেনে কোনো ফি বা চার্জ দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ক্যাশলেস লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না: অর্থমন্ত্রী
৯০ দিনে বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ
দেশে আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৯০ দিনে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ গুণ ও লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ৫ গুণ বেড়েছে। ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের জুনে দৈনিক গড়ে ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো, যার অর্থমূল্য ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশীয় বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সম্প্রসারণে ১ জুলাই থেকে সব ধরনের প্রোপ্রাইটারি কিউআরের স্থলে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা কিউআর লেনদেনের পারফরম্যান্স, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। একই সময় থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) সর্বোচ্চ ১ শতাংশ নির্ধারণ ও ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করা হয়েছে। ফলে বাজার পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে। এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৪ হাজার ১০১ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা জুনে ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। আরিফ হোসাইন খান বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে বা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে ব্যর্থ বাংলা কিউআর লেনদেনের অর্থ দ্রুততম সময়ে ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর পৃথক গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরটিভি/এমএইচজে
৯০ দিনে বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ
অক্টোবরে কোন জ্বালানি তেলের দাম কত টাকা হবে, সিদ্ধান্ত দিলো সরকার
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় সরকার, যা পরের দিন ২১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়।
অক্টোবরে কোন জ্বালানি তেলের দাম কত টাকা হবে, সিদ্ধান্ত দিলো সরকার