ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় বাংলাদেশ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২০, ০৬:২৮ পিএম
ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় বাংলাদেশ

ধারাবাহিকভাবে কয়েক বছর ধরে ধান উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে টপকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতদিন ধরে চীন ও ভারতের পরই তৃতীয় স্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়া। তবে এবার ইন্দোনেশিয়াকে টপকে সেই অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) ধান উৎপাদন ৩ কোটি ৬০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধান উৎপাদনকারী দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়ে গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় হওয়ার এ পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। প্রতিবেদনে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্যের উৎপাদনের তুলনা করা হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে সাড়ে চার লাখ টন বাড়তে পারে ধানের উৎপাদন। তার আগে চলতি অর্থবছরে আমন মৌসুমে রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। আবার আউশ মৌসুমেও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তিন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্মিলিত ফলাফলই শীর্ষ তিনে চলে আসার মূল কারণ বলে জানা গেছে।
দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে চালের উৎপাদন। দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্যশস্যটি উৎপাদনে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান ছিল চতুর্থ। তবে এবার ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

ইউএসডিএর প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারা বিশ্বে ৫০ কোটি ২০ লাখ টন ছাড়াতে পারে ধানের উৎপাদন, যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে চীন সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন করবে। দেশটি চলতি অর্থবছরে ১৪ কোটি ৯০ লাখ টন চাল উৎপাদনের মাধ্যমে শীর্ষস্থানে থাকবে। চীনের পরই পাশের দেশ ভারতের অবস্থান। ভারত চাল উৎপাদন করবে ১১ কোটি ৮০ লাখ টন। এরপরই ৩ কোটি ৬০ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরেই তিন নম্বর স্থানটি দখলে রাখা ইন্দোনেশিয়া এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে আসবে। দেশটিতে চালের উৎপাদন হবে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টন।

ইউএসডিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার চাল উৎপাদনের শীর্ষ ১২টি দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পরই থাকছে ভিয়েতনাম। দেশটিতে এবার উৎপাদন দাঁড়াবে দুই কোটি ৭৫ লাখ টন। এছাড়া থাইল্যান্ডে দুই কোটি চার লাখ টন, মিয়ানমারে এক কোটি ৩১ লাখ টন, ফিলিপাইনে এক কোটি ১০ লাখ টন, জাপানে ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টন, পাকিস্তানে ৭৫ লাখ টন, ব্রাজিলে ৬৯ লাখ ও কম্বোডিয়ার প্রায় ৫৮ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে।
পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
বর্তমান অর্থনৈতিক বিকাশ অব্যাহত থাকলে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ৪১তম অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটেনের অর্থনৈতিক সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এই তথ্য। সংস্থাটির প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে ৮৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পরিণত হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার। যা কিনা ২০২০ সালে রয়েছে ৩০ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের। সিইবিআর সংস্থাটি সাধারণ প্রতিবছর তাদের বিশ্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ২৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করে। এবারের প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৯৩টি দেশের অর্থনৈতিক সমাচার তুলে ধরেছে সংস্থাটি। সংস্থাটি এবারের প্রতিবেদনে বলছে, নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতি গুটিয়ে পড়বে না। চলতি বছর দেশটির মোট জিডিপি (দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। এই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০১৯ সালে ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। আরো পড়ুন... পদ্মা সেতু চালু হলে রাজস্ব আয় বাড়বে চারশ গুণ (ভিডিও) করোনায় ৬ মাসের ধাক্কা সামলে গতি ফিরছে ছয় প্রকল্পে (ভিডিও) চালের আমদানি শুল্ক কমলো বাড়ছে না আয়কর রিটার্নের সময় সংস্থাটি আরও বলছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পাঁচ বছরে গড়ে ১ শতাংশে থাকার পরও করোনা ভাইরাসের মহামারিতে এবার দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি একটি শক্তিশালী হারের দেখা পাবে। সিইবিআর সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে বৈশ্বিক অর্থনীতির বিশাল জায়গা দখল করে নিবে চীন। যা কিনা এর আগের ধারণা থেকে দ্রুত গতিতে উত্থান হচ্ছে চীনের। আগের ধারনা মতে, চীনের এই অবস্থানে আসতে সময় লাগবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। কিন্তু দেশটি তাদের দক্ষ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় অনেক আগেই প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে ভারতও দ্রুত এগিয়ে যাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতিতে রূপ নেবে দেশটি। এর আগ পর্যন্ত তৃতীয় বৃহত্তম তালিকায় জাপানই থাকবে। ভারতের অবস্থানে জার্মানি চতুর্থ থেকে চলে যাবে পঞ্চম অবস্থানে। ২০৩৫ সালে পাকিস্তান থাকবে ৩৬তম অর্থনীতির অবস্থানে। এদিকে অনেক আগেই অর্থাৎ ২০২৪ সালের মধ্যে এক ধাপ পিছিয়ে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতির অবস্থানে থাকবে যুক্তরাজ্য। এমকে
বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
পদ্মা সেতু চালু হলে রাজস্ব আয় বাড়বে চারশ গুণ (ভিডিও)
পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বন্দরে পরিণত হবে মোংলা সমুদ্র বন্দর। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী ভারত, ভুটান ও নেপালও এই বন্দরের সুফল পাবে। রাজস্ব আয় বাড়বে চারশ গুণ। এ কারণে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও চ্যানেল খননের কাজ জোরতালে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বল্প দূরত্ব ও কম ব্যয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকলেও অগভীর চ্যানেল আর সক্ষমতার অভাবে এতদিন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি মোংলা বন্দর। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হচ্ছে। বন্দরের আউটারবারের খনন শেষে শুরু হচ্ছে ইনারবারের খননকাজ। দ্বিগুণ হচ্ছে জেটির সংখ্যা। ২৬০০ একর আয়তনের বন্দরটিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে জাহাজ আসা, কার্গো হ্যান্ডলিং, গাড়ি হ্যান্ডলিং ও বন্দর থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৮ থেকে ১০ গুণ। ২০০৯-১০ সালে জাহাজ এসেছে ১৫৬টি, ২০১৯-২০ এ দাঁড়িয়েছে ৯১০টি। আর ২০৩০ সালে লক্ষ্য ধরা হয়েছে চার হাজার। শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, আগামী বছর যদি পদ্মা সেতু চালু হয়ে যায়, তাহলে চট্টগ্রামের চেয়ে মোংলা বন্দর নিয়ে আগ্রহ বাড়বে ব্যবসায়ীদের। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে দেশের যে কোনো অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। ফলে মোংলা ব্যবহার করে সুফল পাবে প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভুটান ও নেপাল।  মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, সেভেন সিস্টার ও নেপাল, ভুটানের জন্য সবচেয়ে নিকটতম বন্দর হবে মোংলা এবং এটি ব্যবহার বেড়ে যাবে বেশি। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন পদ্মা সেতু চালু হবে তখন আমরা অর্থনীতিতে লাভবান হবো। জনগণের কাজের সংস্থান হবে এবং ব্যবসার ব্যাপক প্রসার হবে।  উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ বন্দরে ১০ হজার জাহাজ ভিড়তে পারবে। মোংলা পরিণত হবে এ অঞ্চলের ব্যস্ততম বন্দরে। জিএম/এমকে
পদ্মা সেতু চালু হলে রাজস্ব আয় বাড়বে চারশ গুণ (ভিডিও)
করোনায় ৬ মাসের ধাক্কা সামলে গতি ফিরছে ছয় প্রকল্পে (ভিডিও)
কোভিড-১৯ এর ধাক্কায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া ১০ মেগাপ্রকল্প। তবে ৬ মাসের ধাক্কা সামলে গতি ফিরছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ ছয় প্রকল্পে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকার চাইলে ফাস্টট্র্যাক মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করে ৪ থেকে ৫ মাস বেশি সময়ে এসব কাজ শেষ করা সম্ভব।  বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ছোবলে অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগে। যার প্রভাব পরে বাংলাদেশেও। করোনার কারণে ১০টি বড় প্রকল্পের অর্থায়ন ও কাঁচামাল আমদানির গতি কমে। প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকে কাজ। ধাক্কা সামলে শুরু হয় নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ। ১০ ডিসেম্বর ৪১টি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সংযুক্ত হয় প্রমত্তা পদ্মার দুই পাড়। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৮০ ভাগ। করোনার কারণে নির্মাণ ব্যয় ও সময় বাড়াতে হয়। ২০২২ সালে সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার কথা।   করোনার ধাক্কা লাগে মেট্রোরেলেও। প্রকৌশলী ও পরামর্শকদের অনেকেই চীন, থাইল্যান্ড ও জাপানের নাগরিক হওয়ায় বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এখন চলছে রেল লাইন বসানো, টার্মিনাল তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কাজ। প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে ৭১ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে কারওয়ান বাজার-মতিঝিল অংশে কাজ হয়েছে ৪৫ ভাগের কম।  এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজে ৩-৪ মাস ধীরগতি হলেও জার্মান, রাশিয়া ও ভারত থেকে আসা লোকবল যুক্ত হওয়ায় এখন পুরোদমে কাজ চলছে।   যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বিদেশি অর্থায়ন যেন বন্ধ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যেগুলো চলমান কাজ সে গুলোতে অর্থায়নের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। শিফট বাড়ানোর জন্য আয়োজন করতে হবে এবং সতর্কতার সাথে কৌশলী পরিকল্পনা নিতে হবে।   কর্ণফুলীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগুচ্ছে। টানেলের দুটি টিউবের মধ্যে একটির কাজ শেষ। অপরটির কাজও চলতি মাসে শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সব ঠিক থাকলে ২০২২ সালের ডিসম্বরে টানেলটি খুলে দেওয়া হবে।  এছাড়া করোনার কারণে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর দোহাজারী-ঘুনধুম রেলপথ নির্মাণ মাতার বাড়ি ও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ নির্ধারণের সময়ে শেষ করা কঠিন হবে।    জিএম/পি
করোনায় ৬ মাসের ধাক্কা সামলে গতি ফিরছে ছয় প্রকল্পে (ভিডিও)
পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটাবে (ভিডিও)
স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে এ অঞ্চলের মানুষের। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বৃহত্তম এ সেতু নির্মাণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীসহ সারাদেশে সরাসরি যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলছে। এতে সমুদ্রবন্দর মোংলার গতিশীলতা বাড়বে এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে।  পদ্মার ওপর স্বপ্নের সেতু এখন দৃশ্যমান। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত এক সুতোয় গেঁথে দৃষ্টিসীমায় পূর্ণরূপে ভেসে উঠেছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের সেতুর মূল অবকাঠামো। স্থানীয়রা জানান, পদ্মা সেতু এদেশের মানুষের কাছে নতুন প্রেরণার উৎস। স্থানীয়রা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে আমাদের খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু হবে এবং মোংলা বন্দর আরও গতিশীল হবে। শিল্প কলকারখানাগুলো গড়ে উঠবে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।  তারা বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবহন করে মোংলাবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিতে উৎসাহিত হবেন।  ব্যবসায়ীরা বলেন, পদ্মা-সেতু দক্ষিণ অঞ্চলের সকল মানুষকে উন্নত করবে। মানুষের বেকারত্ব দূর হবে এছাড়া ব্যবসা করে সংসার পরিচালনা করতে পারবে।  নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার পাশাপাশি দেশের জিডিপিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। জিএম/পি  
পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটাবে (ভিডিও)
পদ্মা সেতু বদলে দেবে যশোর-খুলনাসহ ২১ জেলা
পদ্মা সেতু চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা। বদলে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর দুইপাড়ে সংযোগ সড়কের সঙ্গে চালু হয়েছে সিক্সলেনও। সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নদীর দুইপাড়ে কল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এ আশায় বুধ বেঁধে আছেন এ অঞ্চলের কৃষক, যুবক, শ্রমিক তথা কর্মজীবী মানুষ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মধ্যে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা। খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা হলো- বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি। ঢাকা বিভাগের ৫ জেলা হলো- গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী। সড়কপথে এই ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটটি ১৯৮৬ সালে চালু হয়। যেটি বর্তমানে মাদারীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই নৌরুটে শীতে ঘন কুয়াশা, বর্ষায় তীব্র স্রোতে ও গ্রীষ্মে নাব্য সংকটে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঘাটে আটকাপড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আশায় বুধ বেঁধে আছে পদ্মা সেতু চালুর অপেক্ষায়।  আরও পড়ুন... দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে পদ্মা সেতু (ভিডিও) পদ্মা নদীর উভয়প্রান্তে এক সময় বলতে গেলে জনশূন্য ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুকে ঘিরে দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাচ্ছে। সেতুটি চালুর অপেক্ষায় সবচেয়ে বেশি আশায় বুক বেঁধেছেন প্রান্তিক কৃষকরা। রাজধানীর ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন তারা। এদিকে পদ্মা সেতুর সঙ্গে ১৪ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সিক্সলেন সড়কও চালু করা হয়েছে। এই সেতুকে ঘিরে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শেখ হাসিনা হেলথ টেকনোলজি, শেখ রাসেল আইটি পার্কসহ বেশকিছু মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা। কর্মসংস্থান হবে এই অঞ্চলের বেকার যুবকদের। বহুমুখী পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণও বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করেন এই অঞ্চলের মানুষ। এসএস/পি
পদ্মা সেতু বদলে দেবে যশোর-খুলনাসহ ২১ জেলা
আরও পড়ুন
পৌর নির্বাচনে বিএনপির টিকিট পেলেন যারা
তৃতীয় ধাপের ৬৪ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী যারা
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ইন্দোনেশিয়াকে ‘অর্থের টোপ’
স্থানীয় পৌর নির্বাচনে নেত্রকোনায় প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী