ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সবুজের ছায়ায় স্বস্তির ঠিকানা: কর্ণফুলী ইপিজেডের লিড কারখানা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ এএম
কর্ণফুলী ইপিজেডের লিড কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

দুপুরের খাবার শেষ। কর্মব্যস্ততার মাঝেই মিলেছে খানিকটা অবসর। কাজের জায়গা থেকে দু’কদম এগোলেই চারপাশে সবুজের সমারোহ।

কেউ গাছের ছায়ায় বেঞ্চিতে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন, কেউ হাঁটেন ফলের গাছের সারির মধ্য দিয়ে। কোথাও হাসির শব্দ, কোথাও জমে ওঠে আড্ডা। সবুজে ঘেরা এই নির্মল পরিবেশেই কর্মঘণ্টার ক্লান্তি ভুলে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটান কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

এই দৃশ্যটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র কিংবা শহরের কোনো পার্কের নয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ‘ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড’-এর একপাশজুড়ে বিস্তৃত পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে ফলের বাগান ও পার্ক।

দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের গাছের পাশাপাশি কর্মীদের বসা, হাঁটা ও সময় কাটানোর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক পরিবেশ। বাগানের দু’পাশে সারি করে বসানো হয়েছে বেঞ্চ। দুপুর কিংবা রাতের খাবারের পর নির্দিষ্ট বিরতিতে কারখানার কর্মীরা সেখানে বসে আয়েশ করেন, মেতে ওঠেন নির্মল আনন্দ-আড্ডায়।

প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বেপজার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারখানার পরিবেশ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের। সে সময় ক্যানপার্ক অ্যাপারেলসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পরই সাংবাদিকদের চোখে পড়ে ভিন্ন এক পরিবেশ।

ক্যানপার্কের পরিচালক (মানবসম্পদ) মো. খলিলুর রহমান বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত একটি কারখানা। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি লিড-প্লাটিনাম (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এ ধরনের পরিবেশই লিড সার্টিফিকেট অর্জনের পূর্বশর্ত।

তিনি জানান, কর্মীরা এত ভালো পরিবেশে কাজ করেন যে তাদের ক্লান্তির অবকাশ নেই। তাদের জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং বেপজার (বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ) সমন্বয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারখানার আঙিনায় বাগান এবং বিনোদনের জন্য পার্কের পরিবেশ রাখা হয়েছে। এতে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তাদের কাজের মানও উন্নত হয়।

মো. খলিলুর রহমান আরও বলেন, ক্যানপার্কের মূল ইউনিটগুলো কর্ণফুলী ইপিজেডের সেক্টর-৩-এর ৬৯ থেকে ৮৫ নম্বর প্লট এবং সেক্টর-২-এর ১৪ থেকে ২৩ নম্বর প্লটজুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে স্বীকৃত ‘ক্যানপার্ক ইউনিট-২’ প্রায় ১,৮০,১৩০ বর্গফুট আয়তনের ওপর নির্মিত। কারখানাটির চারপাশে ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখা হয়েছে। সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ও পার্ক। পুরো কারখানাটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী সেখানে কাজ করছেন, যার ৬০ শতাংশই নারী। শ্রমিকদের জন্য কারখানার ভেতরেই মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে। সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।

কারখানায় থাকা সবুজের পরিসর শুধু চোখই জুড়ায় না, কর্মীদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও দুদণ্ড স্বস্তি এনে দেয়। দীর্ঘ সময় কারখানার ভেতরে কাজ করার পর কিছু সময়ের জন্য গাছের ছায়ায় বসা, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করা কিংবা বাগানের ভেতর হাঁটার সুযোগকে নিজেদের জন্য আলাদা এক প্রশান্তি হিসেবে দেখছেন কর্মীরা।

কারখানার সুইং অপারেটর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের কারখানার পরিবেশ এত ভালো যে কখনও ক্লান্তি আসে না। ভেতরে সেন্ট্রাল এসিতে (কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) কাজ করি। আবার সেখান থেকে বেরিয়ে দু’কদম হাঁটলেই সবুজের রাজ্য খুঁজে পাই। বাগানের বিভিন্ন গাছ থেকে মৌসুমভেদে কখনও আম, কখনও বরই, পেয়ারা কিংবা সফেদা নিজের হাতে পেড়ে খাই। এটাকে খুবই অসাধারণ বলে মনে হয়।’

কারখানা কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কারখানাটিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সবুজায়ন ও কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত সবুজ পরিসর তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই ব্যবস্থায় ভবনের জ্বালানি ও পানি সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। সেই বৃহত্তর সবুজ ভাবনারই দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠেছে কারখানা প্রাঙ্গণের এই ফলের বাগান।

এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘সারাদিন কাজের মধ্যে থাকতে হয়। লাঞ্চের পর বাগানে গিয়ে কিছুক্ষণ বসতে পারলে শরীর-মন দুটোই হালকা লাগে। আগে কারখানা বলতে শুধু কাজের জায়গাই বুঝতাম। এখানে এসে মনে হয়, কাজের পাশাপাশি আমাদের জন্য বিশ্রাম ও আনন্দের কথাও ভাবা হয়েছে।’

কারখানার ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যে এ ধরনের ছোট আনন্দই কর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ কিছু। শহুরে কর্মপরিবেশে যেখানে কংক্রিট আর যন্ত্রপাতির ভিড়ই স্বাভাবিক দৃশ্য, সেখানে সুপরিসরে তৈরি এই সবুজ বাগান কর্মীদের জন্য প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড ২০০৭ সাল থেকে কর্ণফুলী ইপিজেডে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি শ্রীলংকা ও আমেরিকার একটি যৌথ উদ্যোগ। বাংলাদেশে তাদের প্রথম বিনিয়োগ শুরু করে ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে (সিইপিজেড)।

২০০৬ সালে কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ২০০৭ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে চতুর্থ কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কারখানাটিতে মূলত বটম ওয়্যার (প্যান্ট) তৈরি হয়। প্রতিদিন ১ লাখ পিস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় এসব পণ্য রপ্তানি হয়। বিশ্বের সেরা অনেক ব্র্যান্ড কারখানাটির ক্রেতা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটির রপ্তানির পরিমাণ ৩৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড, ২০ বছরে বেড়েছে ৪১২ গুণ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) গত দুই দশকে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ। 
কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড, ২০ বছরে বেড়েছে ৪১২ গুণ
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
সরকার চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রপ্তানি বাড়াতে রোডম্যাপ তৈরী করছে
সরকার চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে। রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এ কথা জানান। তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। এতে ট্যানারি মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্টদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা প্রতিফলিত করা হবে। বাণিজ্য সচিব বলেন, দেশে চামড়া শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল রয়েছে এবং এ খাতে দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মো. আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করারও সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পে।  বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়াজাত শৌখিন পণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। আয়োজকরা জানান, দেশে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম। প্রতিবছর দেশে আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বড় অংশ রপ্তানি এবং অবশিষ্ট অংশ দেশীয় চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এক্সপোটি ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। আরটিভি/এসআর
সরকার চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রপ্তানি বাড়াতে রোডম্যাপ তৈরী করছে
ঢাকায় চলছে চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান’ পণ্য প্রদর্শনী
রাজধানীতে পাকিস্তানি বস্ত্র, খাদ্য ও পানীয়, প্রসাধনী, হারবাল ও ওয়েলনেস পণ্য, হস্তশিল্প এবং ফ্যাশন সামগ্রী প্রদর্শন করছে দেশটির শতাধিক প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান’ পণ্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্থানীয় দর্শনার্থী এবং বাংলাদেশে বসবাসরত প্রবাসী পাকিস্তানি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি ফ্যাশন আউটলেট চালু হওয়া, প্রয়োজনীয় পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির জন্য কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া-দু’দশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির উদাহরণ। বাণিজ্য বাধা দূর করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান হাইকমিশন ও ইপিবির কাছে নীতিগত প্রস্তাব দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের অভিনন্দন জানান। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও প্রদর্শক বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রদর্শকেরা পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আগামী বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন। এ সময় যৌথ সেমিনার ও সম্মেলন আয়োজনে ইপিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। এ ছাড়া পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ এবং ২০২৭ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান হাসান আরিফ । অর্থনীতির পারস্পরিক পরিপূরকতার ভিত্তিতে যৌথ উদ্যোগসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রশংসা করেন। আরটিভি/এসআর
ঢাকায় চলছে চতুর্থ ‘মেড ইন পাকিস্তান’ পণ্য প্রদর্শনী
পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি।
পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড
আরও পড়ুন
কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড, ২০ বছরে বেড়েছে ৪১২ গুণ
কর্ণফুলী ইপিজেড: দুই দশকে রপ্তানি ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার