ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে বিসিক কার্যালয় থেকেই, যারা পাবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
বিসিকের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে কোনো ধরনের জামানত লাগে না। এই ঋণের সুদহারও বেশ কম।

বিসিকের এই ঋণ পেতে হলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় না। দেশের ৬৪টি জেলায় থাকা বিসিক কার্যালয়গুলোয় আবেদনের মাধ্যমে যেকোনো সময় সরাসরি এই ঋণ নেওয়া যায়।

বিসিকের যত ঋণ কর্মসূচি

বর্তমানে বিসিকের তিন ধরনের ঋণ কার্যক্রম রয়েছে। এক. প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ কর্মসূচি। করোনার পরপর ২০২০–২১ অর্থবছর থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে এই কর্মসূচি চালু হয়। পরে এটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিলে রূপ নেয়। গত জুন পর্যন্ত এই তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ২৭০ কোটি টাকা। এই তহবিল থেকে ৯ হাজার ২৯১ জন ঋণ পেয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের জন্য ২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ‘বিনীত’ (বিসিক নিজস্ব তহবিল) ঋণ কর্মসূচি চালু করে। মাত্র ১৫ কোটি টাকা দিয়ে শুরু করা তহবিলের আকার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি টাকায়। গত জুন পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৭৩ জন ঋণ পেয়েছেন।

প্রান্তিক পর্যায়ের মৌচাষিদের জন্য ২০১৯ সাল থেকে আলাদা একটি ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে বিসিক। এই তহবিলের আকার বর্তমানে ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এখান থেকে মৌচাষিরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেয়ে থাকেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯৭ জনকে এই ঋণ দিয়েছে বিসিক।

বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, সব কটি কর্মসূচির ক্ষেত্রেই ঋণের সুদহার ও অন্যান্য প্রক্রিয়া একই।

ঋণের পরিমাণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া

উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই ঋণের এই সীমা বাড়ানো হতে পারে।

সব ঋণের অনুমোদন বিসিকের জেলা কার্যালয় দিতে পারে না। উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে বিসিক জেলা কার্যালয় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা ভাগ করা রয়েছে। বিসিকের জেলা কার্যালয় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করতে পারে। ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন দিতে পারে আঞ্চলিক কার্যালয়। আর ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হলে (২০ লাখ টাকা পর্যন্ত) অনুমোদন দেয় বিসিকের প্রধান কার্যালয়।

ঋণের শর্ত কী

বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, সংস্থাটি থেকে দেওয়া দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সম্পূর্ণ জামানতমুক্ত। এ ক্ষেত্রে শুধু একজন জামিনদার (গ্যারান্টার) থাকলেই এই ঋণ পাওয়া যায়।

দুই লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ‘ইকুইটেবল মর্টগেজ ডিড’র মাধ্যমে উদ্যোক্তার নিজস্ব জমি বা বাড়ির কাগজপত্র বিসিক কার্যালয়ে বন্ধক রাখতে হয়। কোনো ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের জটিলতা ছাড়া এই কাজ বিনা খরচে বিসিক কার্যালয়েই সম্পন্ন হয়। ঋণ পরিশোধের পর উদ্যোক্তা কাগজপত্র ফেরত পান।

বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২–এ বর্ণিত যেকোনো ধরনের শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প প্লটের মালিক ও উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

সুদের হার ও মেয়াদ

বিসিকের ঋণ কর্মসূচিতে সুদের হার অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সুলভ। নারী উদ্যোক্তাদের মাত্র ৫ শতাংশ সুদহারে এই ঋণ দেওয়া হয়। আর পুরুষ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশ। এক বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ ব্যাংকঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের তুলনায় অনেক কম সুদে বিসিক থেকে ঋণ নিতে পারেন উদ্যোক্তারা।

ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ইকুইটি এবং নারী উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ইকুইটি নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোক্তার বিনিয়োগকৃত জমি, কারখানা ঘর, যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক স্থায়ী বিনিয়োগ ইকুইটি হিসেবে দেখানো যাবে। একক অথবা অংশীদারি মালিকানা উভয় ক্ষেত্রে ঋণ পেতে পারেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এলজিইডির মাস্টাররোল কর্মীদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ ও নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বৃহস্পতিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।  উপসচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত আদেশে কমিটিকে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, সাংগঠনিক কাঠামো, আদালতের আদেশ ও আইনগত মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিবকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন অধিশাখা ও আইন অধিশাখার যুগ্মসচিব বা উপসচিবকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হিসেবে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী অথবা তার মনোনীত একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখার উপসচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অফিস আদেশে কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০০৯, এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামো, সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশ এবং আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত মতামত যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে এলজিইডির রাজস্ব খাতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্তীকরণ ও নিয়মিতকরণের বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। জনস্বার্থে জারি করা এ অফিস আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। আরটিভি/এসকে
এলজিইডির মাস্টাররোল কর্মীদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার বেতন কত হলো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে, যা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুসারে, নতুন বেতনকাঠামোতে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন, যা গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। গত ১ জুলাই থেকে যেহেতু নতুন বেতন-কাঠামো কার্যকর হয়েছে, তাই বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বেতন-কাঠামোর অন্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতন-কাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন। নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে। আরটিভি/এসএস
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার বেতন কত হলো
পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাতেও বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ চলছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর্যায়ে এসেছে নতুন এই বেতন কাঠামো। এর আগে গত ৩১ আগস্ট নতুন কাঠামোর খসড়ার আংশিক অংশ অর্থ বিভাগ থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল একসঙ্গে নয়, মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ জুলাই মাসকে কার্যকারিতার তারিখ ধরে কর্মকর্তা কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায় ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব ছিল। পরে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিক প্রকাশের অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পরই নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। আরটিভি/এসএস
পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে
দেশে বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৬৯১ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৩০১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম এক হাজার  ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ৭৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এদিকে সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ২০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৫৮ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫৮ দফা। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার। প্রসঙ্গত, দেশের বাজারে ২৯ জানুয়ারি সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে। এটাই ছিল সোনার সর্বোচ্চ দাম। আরটিভি/এসএস আরটিভি/এসএস
দেশে বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
দেশের বাজারে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আরও পড়ুন
২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান
নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল
‘সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা’